যুক্তরাজ্যে প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানরা মা-বাবার ঘরে থেকেও প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৩০০ পাউন্ড বা প্রায় ৩৫০ ডলার ভাড়া দিচ্ছেন। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এমন চিত্র উঠে এসেছে। গবেষণার তথ্য এমন সময় সামনে এল যখন আকাশছোঁয়া ঘরভাড়া ও আবাসন খাতের ক্রমবর্ধমান মূল্যের কারণে তরুণ প্রজন্ম চরম চাপের মুখে রয়েছে। খবর এফটি।
যুক্তরাজ্যের অন্যতম শীর্ষ ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান ন্যাশনওয়াইড সম্প্রতি দুই হাজার মা-বাবার ওপর একটি জরিপ পরিচালনা করে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্যানুযায়ী, দেশজুড়ে অঞ্চলভেদে সন্তানদের কাছ থেকে নেয়া ভাড়ার পরিমাণে বেশ তারতম্য রয়েছে। গ্রেটার লন্ডন অঞ্চলে মা-বাবারা সন্তানপ্রতি গড়ে সবচেয়ে বেশি ৪১৫ পাউন্ড ভাড়া আদায় করেন। অন্যদিকে ইস্ট মিডল্যান্ডসে ভাড়ার হার ২১১ পাউন্ড ও ইয়র্কশায়ার অ্যান্ড দ্য হ্যাম্বারে সর্বনিম্ন ১৮৭ পাউন্ড।
দেশটির অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকসের (ওএনএস) রেকর্ড বলছে, বর্তমানে ২০-৩৪ বছর বয়সী তরুণদের মধ্যে প্রতি তিনজন পুরুষের একজন ও প্রতি পাঁচজন নারীর একজন এখনো মা-বাবার সাঙ্গে থাকেন। তরুণ প্রজন্মের নিজ পায়ে দাঁড়ানোর পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে অতিরিক্ত আবাসন খরচ।
জরিপে দেখা গেছে, মা-বাবার সঙ্গে থাকা প্রায় এক-তৃতীয়াংশ তরুণ মূলত ভবিষ্যতের জন্য নিজের একটি বাড়ি কেনার উদ্দেশ্যে অর্থ জমাতে এ পথ বেছে নিয়েছেন। অন্যদিকে প্রায় ৫৪ শতাংশ মা-বাবা জানান, সন্তানদের অর্থমূল্য বোঝাতে ও বাড়ি কেনার অর্থ জমাতে সাহায্য করতে তারা আদায়কৃত সে ভাড়ার একটি বড় অংশ বা পুরোটাই আবার সন্তানদের ফেরত দেন।
রিয়েল এস্টেট এজেন্সি স্যাভিলসের আবাসিক গবেষণা প্রধান লুসিয়ান কুক জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে কৌশলটি বেশ জনপ্রিয় হচ্ছে। অনেক মা-বাবাই সন্তানকে বিনা খরচে বাস করার সুযোগ দিতে চান না। তারা চান, সন্তানরা নিজেদের আর্থিক দায়িত্বগুলো ছোটবেলা থেকেই সচেতনভাবে পালন করতে শিখুক।
তবে এ ধরনের আর্থিক লেনদেন পরিবারে কোনো কোনো ক্ষেত্রে মানসিক টানাপড়েনও তৈরি করছে। জরিপে অংশ নেয়া প্রায় অর্ধেক মা-বাবাই স্বীকার করেন, সন্তানের সঙ্গে এ ধরনের আর্থিক লেনদেন নিয়ে তাদের সম্পর্কের টানাপড়েন তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে লন্ডনের ক্ষেত্রে এটি তীব্র।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সন্তানদের ঘরমুখী হওয়ার প্রবণতা সাধারণ আবাসন বাজারেও প্রভাব ফেলছে।










