উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে ভোক্তা চাহিদায় পতন হয়েছে। যদিও সর্বশেষ প্রান্তিকে মুদিপণ্য কেনা অব্যাহত রেখেছিলেন ওয়ালমার্টের ক্রেতারা। তবে ছাড় থাকা সত্ত্বেও পোশাক, ইলেকট্রনিকস ও গৃহস্থালি পণ্য কেনা থেকে বিরত ছিলেন অনেক ক্রেতা। এ অবস্থায়ও মার্কিন খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানটি বার্ষিক মুনাফার পূর্বাভাস বাড়িয়েছে। এক মাসেরও কম আগে সংস্থাটি পূর্বাভাসে কাটছাঁট করেছিল।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, বছরের এখন পর্যন্ত ওয়ালমার্টের শেয়ারদর ৮ শতাংশেরও বেশি কমেছে। তবে মুনাফার পূর্বাভাস বাড়ানোর পর মার্কিন পুঁজিবাজারে সংস্থাটির শেয়ারদর ৫ শতাংশ বেড়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান টার্গেট, কস্টকো ও বেস্ট বাইয়ের শেয়ারদরও ১-৩ শতাংশ বেড়েছে।
ওয়ালমার্ট জানিয়েছে, ২০২২-২৩ অর্থবছর (ফেব্রুয়ারি-জানুয়ারি) সংস্থাটির শেয়ারপ্রতি সামঞ্জস্যপূর্ণ মুনাফা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৯-১১ শতাংশ কমে যেতে পারে। গত মাসে সংস্থাটি মুনাফা ১১-১৩ শতাংশ কমে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছিল। পাশাপাশি সংস্থাটি সতর্ক করেছিল, ভোক্তারা আশঙ্কার চেয়ে অনেক দ্রুতগতিতে অতিপ্রয়োজনীয় নয় এমন কেনাকাটা থেকে সরে যাচ্ছেন। কারণ ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি তাদের ব্যয় ক্ষমতাকে কমিয়ে দিয়েছে।
ফেব্রুয়ারি-এপ্রিল সময়ে ৬ হাজার ১০০ কোটি ডলারেরও বেশি মূল্যের মজুদ পরিষ্কার করতে পোশাক ও অন্য পণ্যদ্রব্যের মূল্য কমিয়েছে। ৩১ জুলাই শেষে সংস্থাটির অর্থের হিসাবে মজুদ দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৯৯২ কোটি ডলার। এটি গত বছরের মজুদ থেকে ২৫ শতাংশ বেশি।
সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি ধীর হওয়ার লক্ষণ দেখা দিয়েছে। ফলে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বৃদ্ধি ধীর করে অর্থনৈতিক ঝুঁকি কমিয়ে আনতে পারে। জুলাইয়ে ভোক্তা মূল্যসূচক ৮ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। এ হার আগের মাসের তুলনায় কম। মূলত গ্যাসোলিনের দাম ১৭ শতাংশ কমে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতির গতিও শ্লথ হয়েছে। তবে চলতি প্রান্তিকে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ধীর হওয়া নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ওয়ালমার্ট। ক্রেতারা তাদের কার্টে কম আইটেম রাখছেন এবং অতিপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য কিনতে বেশি মনোযোগী হয়েছেন। সংস্থাটির প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা জন ডেভিড রেইনি বলেন, এমনকি ক্রেতারা গরুর মাংস কেনার পরিবর্তে টিনজাত টুনা, মুরগির মাংস ও মটরশুঁটির মতো জিনিসগুলো বেশি কিনছে। পাশাপাশি আরো সাশ্রয়ী হতে তারা ছোট প্যাকের লেনদেন করছে।








