রৌপ্যের বৈশ্বিক চাহিদা চলতি বছর রেকর্ড সর্বোচ্চে পৌঁছার পূর্বাভাস মিলেছে। শিল্প, অলংকার এবং সরাসরি বিনিয়োগ চাহিদা বৃদ্ধিতে জ্বালানি জোগাচ্ছে। চাহিদায় ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার ফলে ধাতুটির ব্যাপক ঘাটতি তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সম্প্রতি সিলভার ইনস্টিটিউটের এক প্রতিবেদনে চাহিদা বৃদ্ধির এ পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সালে রৌপ্যের বৈশ্বিক চাহিদা ১২১ কোটি আউন্সে উন্নীত হতে পারে, যা গত বছরের তুলনায় ১৬ শতাংশ বেশি। প্রতিটি খাতেই এবার রেকর্ড মাত্রায় চাহিদা বাড়তে পারে।
এ বছর শিল্প খাতে মূল্যবান ধাতুটির চাহিদা ৫৩ কোটি ৯০ লাখ আউন্সে পৌঁছতে পারে বলে মনে করছে সিলভার ইনস্টিটিউট। গত বছর চাহিদার পরিমাণ ছিল ৫১ কোটি ১০ লাখ আউন্স। সে হিসেবে চাহিদা ৫ শতাংশ বাড়বে। বিশ্লেষকরা বলছেন, বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরির চাহিদা, ফাইভ জি প্রযুক্তির প্রসার এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে স্থানান্তরে সরকারগুলোর প্রতিশ্রুতি শিল্প খাতে রৌপ্যের চাহিদা বাড়াচ্ছে।
ধাতুটিতে সরাসরি বিনিয়োগ গত বছরের তুলনায় ১৮ শতাংশ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিনিয়োগ দাঁড়াতে পারে ৩২ কোটি ৯০ লাখ আউন্সে। এটিও নতুন রেকর্ড। তবে এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড পণ্যের ক্ষেত্রে চাহিদা লক্ষণীয় মাত্রায় কমে ১১ কোটি আউন্সে নামতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্বর্ণের তুলনায় রৌপ্যের বাজার অনেক বেশি অস্থিরতার কারণেই এ খাতে চাহিদা কমতে পারে।
অলংকার খাতে চলতি বছর রৌপ্যের বৈশ্বিক চাহিদা দাঁড়াতে পারে ২৩ কোটি ৫০ লাখ আউন্সে, যা আগের বছরের তুলনায় ২৯ শতাংশ বেশি। মূলত ভারতের বাজারে নজিরবিহীন চাহিদা বৃদ্ধি এক্ষেত্রে প্রধান প্রভাবকের ভূমিকা পালন করবে। উৎসব ও বিয়ের মৌসুমের কারণে ভারতের খাতসংশ্লিষ্টরা রৌপ্যের মজুদ বাড়াচ্ছেন।
মেটাল ফোকাসের দেয়া তথ্য বলছে, চলতি বছর রৌপ্যের গড় দাম গত বছরের তুলনায় ১৬ শতাংশ বাড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্র অব্যাহত সুদের হার বাড়াচ্ছে, যা মূল্যবান ধাতুটির সুযোগ ব্যয় বৃদ্ধিতে সহায়তা করছে।
চলতি বছর খনি থেকে রৌপ্য উত্তোলন গত বছরের তুলনায় ১ শতাংশ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মেক্সিকোয় উত্তোলন সবচেয়ে বেশি বাড়বে। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় দেশটিতে নতুন নতুন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়, যা উত্তোলন বাড়াতে সহায়তা করছে। এছাড়া বিদ্যমান প্রকল্পগুলো থেকে চিলির উত্তোলনও বৈশ্বিক উত্তোলন বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে। তবে পেরু, চীন ও রাশিয়ার উত্তোলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।










