একদিকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে বাড়তি অর্থনৈতিক চাপ, অন্যদিকে নভেল করোনাভাইরাসের মহামারীর ধাক্কা—এ দুইয়ের চাপে রয়েছে ইরান। এ পরিস্থিতিতে জনগণের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ৩০ লাখ টন গম আমদানির পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে দেশটি। রাষ্ট্রায়ত্ত ট্রেডিং করপোরেশনের কমার্শিয়াল সার্ভিসেস ডিপার্টমেন্টের বরাতে এক বিশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ইরানি সংবাদ মাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল ট্রিবিউন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত জানুয়ারিতেই ৩০ লাখ টন গম রফতানির নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছে ইরান সরকার। এর অংশ হিসেবে এরই মধ্যে দেশটি আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ২০ লাখ টন গম আমদানি করে ফেলেছে। এর মধ্যে ১৬ লাখ টন ইরানে গুদামজাত করা হয়েছে। আরো চার লাখ টন ইরানি বন্দরে আনলোডের অপেক্ষায় রয়েছে।
কমার্শিয়াল সার্ভিসেস ডিপার্টমেন্টের মহাপরিচালক হাসান নেজাদ-ফালাহ জানান, আমদানির অনুমতি দেয়া ৩০ লাখ টন গমের মধ্যে ২০ লাখ টন এরই মধ্যে ইরানে পৌঁছেছে। বাকি ১০ লাখ টন গম ২০ মের মধ্যে ইরানে পৌঁছতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে কোন দেশ থেকে এসব গম আমদানি করা হয়েছে, সে বিষয়ে কিছুই জানানো হয়নি।
যদিও এর আগে জাতির উদ্দেশে দেয়া এক ভাষণে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেন, ইরানের কৃষি খাতে নভেল করোনাভাইরাস বড় কোনো আঘাত হানতে পারেনি। এজন্য বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানি জনগণের খাবার নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই। কোনো ধরনের খাদ্য সংকটে পড়বে না ইরান। ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত চালানোর মতো শস্য মজুদ রয়েছে।
ইরান গমের ক্ষেত্রে মোটামুটি স্বয়ংসম্পূর্ণ। প্রতি বছর সামান্য পরিমাণ গম আমদানি করে দেশটি। তবে এবার মহামারী মোকাবেলা ও সম্ভাব্য খাদ্য সংকটের চ্যালেঞ্জ সামাল দিতে গম আমদানি বাড়িয়েছে দেশটি। তবে ২০১৮ সালে তেহরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে রয়েছে খাদ্যপণ্য, ওষুধ ও মানবিক সহায়তা সামগ্রী।









