চার বছর পর আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও গম রফতানি শুরু করেছেন ভারতের ব্যবসায়ীরা। মূলত পর্যাপ্ত মজুদ, বিশ্ববাজারে বাড়তি দাম এবং জাহাজ ভাড়া বাড়ায় ভারতের জন্য এ সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে অভ্যন্তরীণ বাজারে উচ্চমূল্যের কারণে বিশ্ববাজারে ভারতীয় গমের চাহিদা খুব একটা বেশি হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা। খবর রয়টার্স।
বাণিজ্যিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, ভারতের বৃহৎ ভোগ্যপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আইটিসি পশ্চিম গুজরাটের কান্দালা বন্দর থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের উদ্দেশে ২২ হাজার টন গম বোঝাই শুরু করেছে। ২০২২ সালে তীব্র তাপদাহের কারণে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় ভারত সরকার গম রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। পরবর্তী দুই বছর অর্থাৎ ২০২৩ ও ২০২৪ সালেও এই বিধিনিষেধ বহাল রাখা হয়। এর ফলে অভ্যন্তরীণ বাজারে গমের দাম রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছিল।
তবে গত বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভারতে গমের বাম্পার ফলন হয়েছে। এতে সরকারি গুদামগুলোতে গমের মজুদ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। আমদানির আশঙ্কা দূর হওয়ায় এবং অভ্যন্তরীণ বাজারের স্থিতিশীলতা ফিরে আসায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার আবারও গম রফতানির অনুমতি দেন। চলতি বছরের শুরুতে সরকার প্রথমে ২৫ লাখ টন এবং গত মাসের শেষের দিকে আরো ২৫ লাখ টন গম রফতানির অনুমতি দিয়েছে।
রফতানি শুরু হলেও বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা ভারতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া বা কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর তুলনায় ভারতীয় গমের দাম কিছুটা বেশি। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি টন অস্ট্রেলীয় বা কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলের গমের দাম যেখানে ২৯০-৩০০ ডলার, সেখানে ভারতীয় গমের দাম তার চেয়ে অন্তত ২০ ডলার বেশি। তবে সম্প্রতি ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে জাহাজ ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় কিছু আমদানিকারক ভারতের দিকে ঝুঁকছেন। বিশেষ করে এশীয় ও মধ্যপ্রাচ্যের যেসব দেশের জরুরি ভিত্তিতে গমের প্রয়োজন, তারা তুলনামূলক দ্রুত সরবরাহের জন্য ভারতকে বেছে নিচ্ছেন।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ভারত থেকে ব্যাপকহারে গম রফতানি হওয়ার সম্ভাবনা বর্তমানে কম। মূলত ৩০-৪৫ দিনের মধ্যে যাদের জরুরি ভিত্তিতে শিপমেন্ট প্রয়োজন, তারাই এখন ভারতীয় গমের মূল ক্রেতা। অন্যদিকে যাদের হাতে পর্যাপ্ত সময় ও মজুদ আছে, তারা তুলনামূলক সস্তা হওয়ায় আর্জেন্টিনা বা রাশিয়ার গমের দিকেই ঝুঁকছেন। তবে দীর্ঘ চার বছর পর ভারতের বিশ্ব গমের বাজারে ফিরে আসা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।










