চিনি, লবণ ও চর্বির পরিমাণ বেশি থাকা প্যাকেটজাত খাবারে সতর্কবার্তা দেয়ার পরিকল্পনা করছে ভারত। নতুন প্রস্তাবটি কার্যকর হলে এসব খাবারের প্যাকেটের সামনে স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি উল্লেখ করতে হবে। ফলে ভারতের বড় ও দ্রুত বাড়তে থাকা খাদ্যবাজারে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে পণ্যের কৌশল নতুন করে ভাবতে হতে পারে। খবর নিক্কেই এশিয়া।
খাদ্যপণ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গত মাস থেকে দেশজুড়ে নজরদারি বাড়িয়েছে ভারত। এর অংশ হিসেবে খাদ্যপণ্যের স্বাস্থ্যবিধি ও লেবেলিংয়ের নিয়ম কঠোরভাবে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্যাকেটজাত খাবারের সামনের অংশে সতর্কবার্তা দেয়ার প্রস্তাবও করা হয়েছে।
ভারতের খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অব ইন্ডিয়া (এফএসএসএআই) কয়েক বছর ধরেই এ ধরনের সতর্কবার্তা চালুর চেষ্টা করছে। গত আগস্টে সংস্থাটি প্যাকেটের সামনে লাল রঙের ষড়ভুজ আকৃতির সতর্কবার্তা দেয়ার প্রস্তাব করে। শুরুতে এটি দুই ধাপে চালুর কথা বলা হয়েছিল। তবে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট এ পদ্ধতির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর গতকাল প্রস্তাবটি সংশোধন করা হয়। এখন এক ধাপেই এটি চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে কবে থেকে এ ব্যবস্থা কার্যকর হবে, তা এখনো জানায়নি এফএসএসএআই।
নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতি ১০০ গ্রাম সলিড বা শক্ত খাবারে যোগ করা চিনি ৩ গ্রাম, চর্বি ৪ দশমিক ২ গ্রাম অথবা লবণ ৬২৫ মিলিগ্রামের বেশি হলে সতর্কবার্তা দিতে হবে। তরল খাবারের ক্ষেত্রে প্রতি ১০০ মিলিলিটারে যোগ করা চিনি ২ গ্রাম, চর্বি ১ দশমিক ৫ গ্রাম অথবা লবণ ১৭৫ মিলিগ্রামের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। তিন উপাদানের যেকোনো একটির মাত্রা নির্ধারিত সীমা ছাড়ালেই সতর্কবার্তা দিতে হবে।
প্রস্তাবটি ঘিরে ভারতের খাদ্যশিল্পে বিস্তৃত আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর পণ্যে ব্যবহৃত উপাদান, পুষ্টিগুণসংক্রান্ত দাবি ও বিজ্ঞাপন নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
জনস্বাস্থ্যকর্মী অরুণ গুপ্ত বলেন, ‘ভারতে প্যাকেটজাত খাবার বিক্রি করা দেশী ও বিদেশী সব কোম্পানির ক্ষেত্রেই একই নিয়ম প্রযোজ্য হওয়া উচিত।
এফএসএসএআই জানায়, সাম্প্রতিক মাসগুলোয় বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন, মিথ্যা দাবি ও লেবেলিংয়ের নিয়ম ভাঙার ঘটনায় খাদ্য ও পানীয় কোম্পানিগুলোকে ১৫০টির বেশি নোটিস দেয়া হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নেসলে ইন্ডিয়া, পেপসিকো, কোকা-কোলা ইন্ডিয়া, মন্ডেলেজ ইন্ডিয়া, ড্যানোন, ফেরেরো ও রেড বুলের মতো বড় ব্র্যান্ড রয়েছে। বিদেশী ফুড চেইনগুলোকেও ৩০টির বেশি নোটিস দেয়া হয়েছে।










