জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ২০৫০ সাল নাগাদ বিশ্বের মোট অ্যারাবিকা কফি চাষযোগ্য এলাকার ২০ শতাংশ চাষের অনুপযুক্ত হয়ে পড়তে পারে। গতকাল সোমবার প্রকাশিত এক পূর্বাভাস প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে নেদারল্যান্ডসভিত্তিক বহুজাতিক ব্যাংক রাবোব্যাংক। খবর রয়টার্স।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৮ শতাংশ অ্যারাবিকা কফি চাষের এলাকা অনুপযুক্ত অবস্থায় রয়েছে। ব্রাজিল, কলম্বিয়া ও হন্ডুরাসের মতো প্রধান দেশগুলোয় এ চিত্র বেশি দেখা যাচ্ছে। এসব এলাকায় কফি চাষে বিনিয়োগ যেমন বাড়ছে, ফলন পাওয়া যাচ্ছে তার চেয়ে অনেক কম।
রাবোব্যাংক এ গবেষণায় বৈজ্ঞানিক নির্দেশিকা অনুসরণ করে কফি চাষের এলাকাগুলোকে চারটি ভাগে ভাগ করেছে। জমিগুলোকে অত্যন্ত উপযুক্ত থেকে শুরু করে সম্পূর্ণ অনুপযুক্ত—এ চার শ্রেণীতে বিন্যস্ত করা হয়েছে। বর্তমান ও ভবিষ্যতের সম্ভাব্য জলবায়ু পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে এ শ্রেণীবিন্যাস করা হয়েছে বলে ব্যাংকটি জানায়।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রাবোব্যাংকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ক্রমাগত তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও বৃষ্টিপাতের ধরন বদলে যাওয়ায় কফি চাষের পরিবেশ অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। এতে খরা, তাপপ্রবাহ ও অতিবৃষ্টির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়ছে। জলবায়ুর এ চরম অবস্থা কফি সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতাকে বড় ধরনের ঝুঁকিতে ফেলছে।
বিশ্বের শীর্ষ অ্যারাবিকা কফি উৎপাদনকারী দেশ ব্রাজিলের ক্ষেত্রে এ পূর্বাভাস বেশ আশঙ্কাজনক। প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্রাজিলে কফি উৎপাদনের উপযোগী এলাকার বড় অংশ চাষাবাদের বাইরে চলে যেতে পারে। বিশেষ করে প্রধান উৎপাদনকারী অঙ্গরাজ্যগুলোয় ফলন কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বর্তমানে ব্রাজিলের উপযুক্ত এলাকায় হেক্টর প্রতি গড়ে ৩২ দশমিক ৬ ব্যাগ (৬০ কেজি ওজনের) কফি উৎপাদিত হয়। বিপরীতে অনুপযুক্ত এলাকায় এ উৎপাদন মাত্র ২৮ ব্যাগের কাছাকাছি। বর্তমানে ব্রাজিলের ৮১ শতাংশ কফি উপযুক্ত জমি থেকে আসে। তবে ২০৫০ সাল নাগাদ এ হার ৬২ শতাংশে নেমে আসতে পারে। ফলে মোট উৎপাদনের ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
ব্রাজিল ছাড়াও কলম্বিয়া এবং হন্ডুরাসেও কফি চাষের উপযোগী জমি নাটকীয়ভাবে কমবে। কলম্বিয়ায় বর্তমানে ৫৬ শতাংশ জমি কফি চাষের উপযোগী থাকলেও ভবিষ্যতে তা ৪৫ শতাংশে নেমে আসতে পারে। সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি হতে পারে হন্ডুরাসে। দেশটিতে বর্তমানে ৫৩ শতাংশ জমি কফি চাষের উপযোগী। তবে ২০৫০ সাল নাগাদ তা কমে মাত্র ১২ শতাংশে দাঁড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে এ প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও কিছু ইতিবাচক পূর্বাভাস রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন পূর্ব আফ্রিকার দেশ ইথিওপিয়ার জন্য আশীর্বাদ হতে পারে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইথিওপিয়ায় বর্তমানে ৩৯ শতাংশ জমি কফি চাষের উপযোগী। ভবিষ্যতে এ হার বেড়ে ৫০ শতাংশ হতে পারে বলে রাবোব্যাংকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।










