চট্টগ্রাম জেলায় ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো (আইসিডি) এবং রাসায়নিক কারখানার নিরাপত্তা নিশ্চিতে সামগ্রিক পরিবেশ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা (ইএমপি) প্রণয়নে মন্ত্রণালয়কে প্রস্তাব দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। প্রকল্পটি অনুমোদন হলে ডিপোর পরিবেশগত ব্যবস্থাপনা গাইডলাইন এবং কারখানাগুলোর ব্যবস্থাপনা নিয়ে নির্দেশনা দিতে পারবে পরিবেশ অধিদপ্তর। এতে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হবে।
পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এনভায়রনমেন্ট হ্যাজার্ডস অ্যান্ড রিস্ক অ্যানালাইসিস অ্যান্ড ডেভেলপিং এনভায়রনমেন্টাল ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান (ইএমপি) গাইডলাইনস ফর আইসিডি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ অব চট্টগ্রাম ডিস্ট্রিক শীর্ষক ব্যবস্থাপনা প্রস্তাব দিয়েছে চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তর কার্যালয়। প্রকল্পটির ব্যবস্থাপনা ও প্রশিক্ষণ বাবদ ব্যয় ধরা হয়েছে ২০ লাখ টাকা। এটি অনুমোদন হলে চট্টগ্রাম জেলায় অবস্থিত যতগুলো কনটেইনার ডিপো, সাধারণ ডিপো কিংবা কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ বা কারখানা আছে, সেগুলো ব্যবহারের নির্দেশনা এবং ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেবে পরিবেশ অধিদপ্তর। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা গেলে লাল শ্রেণীর এ প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিবেশগত, অবস্থানগত ও কারিগরি বিষয়ে প্রশিক্ষণের সার্বিক নির্দেশনা দেয়া হবে।
এ প্রকল্পে পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের আইসিডি ও রাসায়নিক কারখানা সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোর সামগ্রিক কার্যক্রম নিয়ে গবেষণার মাধ্যমে প্রতিবেদন তৈরি করা হবে। সেখানে প্রতিষ্ঠানগুলোর দেয়া তথ্য, অবস্থান সনদ, পরিবেশগত সনদও যাচাই-বাছাই করা হবে। তাছাড়া ভারী ও দাহ্য রাসায়নিক পদার্থের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বিশ্লেষণ এবং পরিবেশগত ঝুঁকির তথ্য দাখিল করে নিয়মিত মনিটরিং করবে পরিবেশ অধিদপ্তর। প্রতিবেদন প্রণয়নের পর প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিভিন্ন ব্যবস্থাপনার বিষয়েও গাইডলাইন দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর।
পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বিএম ডিপোর বিস্ফোরণের ঘটনায় চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের দেয়া তথ্যানুযায়ী, ডিপোটিতে ২৮টি কনটেইনারে রাসায়নিক ছিল। এর মধ্যে ১৫টি কনটেইনারে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সাধারণত ডিপোতে যদি আমদানি বা রফতানিযোগ্য কোনো রাসায়নিক পদার্থ রাখতে হয়, তাহলে পরিবেশ অধিদপ্তরের অনেকগুলো শর্ত মানতে হয়। ডিপোতে শুধু কনটেইনার রাখার জন্য প্রতিষ্ঠানগুলো ছাড়পত্র নেয়। কিন্তু কনটেইনারে রাখা পদার্থ সম্পর্কে পরিবেশ অধিদপ্তরকে কোনো তথ্য দেয়া হতো না। তবে নতুন পরিকল্পনার অধীনে এখন থেকে ডিপোগুলোয় কনটেইনারে কী পণ্য ঢুকছে তা পরিবেশ অধিদপ্তরকে জানিয়ে ছাড়পত্র নিতে হবে। বিএম ডিপোর মতো বড় দুর্ঘটনা এড়ানোই এ পরিকল্পনার উদ্দেশ্য।
চট্টগ্রাম জেলায় অবস্থিত রাসায়নিক কারখানাগুলোকে নজরদারির মধ্যে নিয়ে আসছে পরিবেশ অধিদপ্তর। সেজন্য রাসায়নিক কারখানাগুলোতে কী ধরনের রাসায়নিক পদার্থ উৎপাদন করা হবে, কোন ধরনের রাসায়নিক আমদানি করা হচ্ছে, কোন ধরনের রাসায়নিক মজুদ করা হচ্ছে, সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ কোনো পদার্থ মজুদ হচ্ছে কিনা তা ছাড়পত্রে উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। এছাড়া কারখানাগুলোতে রাসায়নিক পদার্থ প্রস্তুতকরণে মেশিনারিজ ব্যবস্থাপনা, রাসায়নিক দ্রব্য রাখার পাত্র ঠিকমতো আছে কিনা সেগুলোও ছাড়পত্র নেয়ার সময় উল্লেখ করতে হবে। বিষয়গুলো সরেজমিন পরিদর্শন করে এবং রাসায়নিক পদার্থগুলো গবেষণাগারে পরীক্ষাপূর্বক অনুমোদন দেয়া হবে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (জেলা) মো. ফেরদৌস আনোয়ার বণিক বার্তাকে জানান, বিএম ডিপোতে রাসায়নিক বিস্ফোরণের ঘটনায় আমাদের সবাইকে শিক্ষা নেয়া উচিত। সেজন্য আমরা পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম জেলার যে ২০-২৫টি আইসিডি এবং রাসায়নিক কারখানা আছে, সেগুলোর জন্য সম্পূর্ণ নতুন একটি গাইডলাইন তৈরির পরিকল্পনা করেছি। আগে আইসিডি ও রাসায়নিক শিল্প-কারখানাগুলোর জন্য পরিবেশগত এবং অবস্থানগত ছাড়পত্রের জন্য কিছু বিষয়ের বিস্তারিত জানতে চাওয়া হতো। এখন প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিবেশ অধিদপ্তর নতুন গাইডলাইন দেয়া হবে।










