চলমান কারফিউ বুধবার থেকে শিথিল করেছে সরকার। এতে মহাসড়কগুলোয় যান চলাচল বাড়ায় ডিপো থেকে ফিলিং স্টেশনগুলোয় জ্বালানি পরিবহন পুরোদমে শুরু হয়েছে। চলতি সপ্তাহের প্রথম চারদিন জ্বালানি বিক্রি ৭০ শতাংশ কমে গেলেও গত দুদিন জ্বালানি বিক্রি বেড়েছে দৈনিক চাহিদার প্রায় দ্বিগুণের বেশি। কারফিউ জারির মধ্যে ব্যাংকিং সময়সীমা কম থাকায় পে-অর্ডার জমা দিতে বিলম্বিত হওয়ায় বাড়তি ঝামেলার মধ্যে পড়তে হচ্ছে ফিলিং স্টেশনের মালিকদের। টাকা জমা দিতে না পারায় অনেকে জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারেননি। ডিপো থেকে জ্বালানি নিয়ে ফিলিং স্টেশনে গাড়ি পৌঁছানো নিয়েও আতঙ্কে আছেন ব্যবসায়ীরা। তবে বিপিসির কর্মকর্তারা বলছেন, ডিপোগুলোয় জ্বালানি মজুদ পর্যাপ্ত আছে। এখন যারা ব্যাংকে পেমেন্ট দিচ্ছেন তাদের জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তথ্য বলছে, বর্তমানে দেশে দৈনিক ডিজেলের চাহিদা গড়ে ১৫ হাজার টন, অকটেন ও পেট্রলের চাহিদা চার হাজার টন। কিন্তু গত শুক্রবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত সাপ্তাহিক ছুটি ও সরকারের দেয়া সাধারণ ছুটি ঘোষণা থাকায় দেশের জ্বালানি সরবরাহের জন্য ব্যবহৃত ২৭টি ডিপোর কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। এতে বিক্রি কমে যায় প্রায় ৭০ শতাংশ। তবে বুধবার থেকে সাধারণ ছুটি প্রত্যাহার করে নেয়ায় ডিপোগুলোয় ভিড় বেড়েছে। ওইদিন সারা দেশে ডিজেল বিক্রি হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার টন, পেট্রল তিন হাজার টন, অকটেনের প্রায় দুই হাজার টন, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। 

এদিকে, সড়কে এখনো জ্বালানি পরিবহনের জন্য নিরাপদ হয়ে ওঠেনি বলে দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, জ্বালানিবাহী গাড়িগুলো দাহ্যবাহী হওয়ায় নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা বাড়ছে। ব্যাংকে পে-অর্ডার জমা দিতে বিলম্ব হওয়া এবং মাত্র ৩ ঘণ্টা ব্যাংকিং আওয়ার থাকায় অনেক ব্যবসায়ী পে-অর্ডার সময়মতো জমা দিতে পারেননি। অন্যদিকে আজ শুক্রবার ও আগামীকাল শনিবার ব্যাংক বন্ধ থাকায় ডিপো থেকে জ্বালানি সংগ্রহ নিয়ে নতুন সংকটে পড়তে হবে। সেজন্য বিকল্প উপায়ে ছুটির দিনে পেমেন্ট করার দাবি জানান ব্যবসায়ীরা।  

বাংলাদেশ পেট্রল পাম্প মালিক সমিতির মহাসচিব (একাংশ) সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বুধবার থেকে ব্যাংকিং সময় কম থাকায় আমরা পে-অর্ডার জমা দিতে পারছি না। যার কারণে মূল্য পরিশোধ নিয়ে আমরা সমস্যায় পড়েছি। সরকারের উচিত বিকল্প ব্যবস্থায় আমাদের পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু করা।’ সড়কে বাড়তি নিরাপত্তার দাবি জানান তিনি।

একই অভিমত বাংলাদেশ পেট্রল পাম্প মালিক সমিতির মহাসচিব (অপর সংগঠন) নাজমুল হকের। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, একেকটি গাড়ির দাম ৪০ লাখ টাকা। তার সঙ্গে ২০ লাখ টাকার তেলও রয়েছে।  ডিপো থেকে আমার ফিলিং স্টেশনে পৌঁছানো পর্যন্ত আমাদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার মধ্যে আছি। গাড়ি পৌঁছাবে কিনা সেটা নিয়েই এখন বড় সমস্যার মধ্যে আছি। ব্যবসায়ীদের মধ্যে এখনো আতঙ্ক কাজ করছে। 

বিপিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, দেশের জ্বালানি খাত খুবই সংবেদনশীল। জ্বালানি পরিবহন দাহ্যবাহী হওয়ায় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। যার কারণে জ্বালানি পরিবহন ও বিপণনে আমাদের অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে হয়। তবে শুক্রবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত অস্থিরতার কারণে অনেক সংকটের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ করতে হয়েছে বিপিসিকে। 

বিপিসির পরিচালক (বিপণন) অনুপম বড়ুয়া বণিক বার্তাকে বলেন, ‘জ্বালানি সরবরাহ এখন স্বাভাবিক রয়েছে। এখন বরং চাহিদা বেশি হয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী সবাইকে জ্বালানি সরবরাহ করছি। কিছু জেলায় এখনো পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। আন্তঃজেলা জ্বালানি পরিবহনে জেলাগুলোর জেলা প্রশাসক, পুলিশ প্রশাসন আমাদের সহায়তা করছে। তবে পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক আছে আমরা বলতে পারছি না। যার কারণে ডিপো এলাকাগুলোয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। জেট ফুয়েল আমরা বিমানবন্দর ডিপোগুলোয় নিয়মিত পাঠাচ্ছি।