চলতি বছরের শুরু থেকেই নভেল করোনাভাইরাসের মহামারীর সঙ্গে লড়াই করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। প্রায় স্থবির ছিল জনজীবন ও ব্যবসা-বাণিজ্য। এর প্রভাব পড়েছে দেশটির জ্বালানি খাতেও। বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) আন্তর্জাতিক বাজার থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৫ শতাংশ কমিয়েছেন দক্ষিণ কোরীয় আমদানিকারকরা। মাসভিত্তিক হিসাবে সর্বশেষ মার্চেও দেশটিতে জ্বালানি পণ্যটির আমদানি কমেছে ২ শতাংশের বেশি। দেশটির রাজস্ব বিভাগের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবর রয়টার্স ও সিনহুয়া।

দক্ষিণ কোরিয়া বিশ্বের পঞ্চম শীর্ষ অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানিকারক দেশ। ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে জ্বালানি পণ্যটি সবচেয়ে বেশি আমদানি করে সিউল। দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারি প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে দেশটিতে সব মিলিয়ে ৩ কোটি ৫৩ লাখ ৩০ হাজার টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি হয়েছে, যা আগের বছরের একই প্রান্তিকের তুলনায় ৪ দশমিক ৯ শতাংশ কম। ২০১৯ সালের প্রথম প্রান্তিকে দেশটিতে মোট ৩ কোটি ৭১ লাখ ৫০ হাজার টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি হয়েছিল।

এদিকে মাসভিত্তিক হিসাবে সর্বশেষ মার্চে দক্ষিণ কোরীয় আমদানিকারকরা সব মিলিয়ে ১ কোটি ১৩ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করেছেন। আগের বছরের একই সময়ে দেশটিতে জ্বালানি পণ্যটির আমদানির পরিমাণ ছিল ১ কোটি ১৫ লাখ ৪০ হাজার টন। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে দক্ষিণ কোরিয়ায় অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি কমেছে ২ দশমিক ১ শতাংশ।

দক্ষিণ কোরীয় আমদানিকারকরা সৌদি আরব থেকে সবচেয়ে বেশি অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করেন। গত মার্চে সৌদি আরব থেকে তারা প্রতিদিন গড়ে ৮ লাখ ৪ হাজার ৩০৪ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করেছেন। এক বছরের ব্যবধানে জ্বালানি পণ্যটির আমদানি বেড়েছে ২৭ দশমিক ৩ শতাংশ। মূলত সৌদি আরামকো এশিয়ার দেশগুলোর জন্য বিশেষ মূল্যছাড় ঘোষণা করায় মার্চে সৌদি আরবের সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার জ্বালানি তেল বাণিজ্যে চাঙ্গা ভাব দেখা গেছে।

অন্যদিকে গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রতিদিন গড়ে ৩ লাখ ৯৭ হাজার ৯৫১ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬০ শতাংশ বেশি। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব থেকে আমদানি বাড়ালেও গত বছরের মে মাসের পর থেকে ইরানের কাছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল কেনেননি দক্ষিণ কোরীয় আমদানিকারকরা।