উত্তরবঙ্গের জনগণের জীবনমান উন্নয়নে ১৯৯৯ সালে সরকার সিরাজগঞ্জে বিসিক শিল্পপার্ক স্থাপনের উদ্যোগ নেয়। এরই মধ্যে পার হয়েছে ২০ বছর। অবশেষে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্পের মেয়াদ তৃতীয় দফায় বাড়ানো হলে এক বছরের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি হবে।

সূত্র জানায়, যমুনা নদীতে বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মিত হওয়ায় দেশের উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার সিরাজগঞ্জ শিল্পায়নের জন্য উপযুক্ত স্থান হিসেবে বিবেচিত হয় এবং সদর উপজেলার সয়দাবাদে বিসিক শিল্পপার্ক স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সে প্রেক্ষাপটে এ অঞ্চলে আর্থসামাজিক উন্নয়নকল্পে ১৯৯৯ সালের ১১ নভেম্বর একনেক সভায় সিরাজগঞ্জ শিল্পপার্ক প্রকল্পটি অনুমোদন লাভ করে। একই বছরের ৩০ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রকল্পের ভিত্তিফলক উন্মোচন করেন। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) তত্ত্বাবধানে প্রকল্পটি বাস্তাবায়নে ৬২৮ দশমিক ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। পরে ৪০০ একর ভূমি অধিগ্রহণ করে মালিকদের টাকা পরিশোধ করা হয়।

তবে ২০০৪ সালের ৩০ এপ্রিল শিল্প মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এডিপি পর্যালোচনা সভায় প্রকল্পটি প্রত্যাহার করে নেয়া হয়।

অনিশ্চিত হয়ে পড়ে সিরাজগঞ্জ বিসিক শিল্পপার্ক স্থাপন। পরে ২০১৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি বিসিক শিল্পপার্ক সিরাজগঞ্জ শীর্ষক প্রকল্পটির ডিপিপি একনেক সভায় পুনরায় অনুমোদন হয়। ২০১৮ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রকল্প এলাকায় ভূমি অধিগ্রহণের জন্য ৯৫ কোটি ২৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এছাড়া মাটি ভরাট ও ডাইক নির্মাণের জন্য নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কসকে অনুমোদন দেয়া হয়।

প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে তিনটি ক্যাটাগরিতে ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ৮২০টি প্রতিষ্ঠান স্থাপনের কথা রয়েছে। যেখানে কর্মসংস্থান হবে এক লাখ লোকের।

সূত্র আরো জানায়, তেমন কোনো অগ্রগতি না থাকলেও প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, ভূমি অধিগ্রহণ ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজে ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ১৪২ কোটি ৬০ লাখ টাকা। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ২৫ ভাগ।

সিরাজগঞ্জ বিসিকের ভারপ্রাপ্ত সহকারী মহাব্যবস্থাপক লিটন চন্দ্র ঘোষ বলেন, সিরাজগঞ্জ বিসিক শিল্প পার্ক বৃহৎ প্রকল্প। এরই মধ্যে ভূমি অধিগ্রহণ করে মালিকদের টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। এখন মাটি ভরাটের কাজ চলছে। তিনি আরো জানান, প্রকল্পটির কাজ ২০১৯ সালের জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু কাজ শেষ না হওয়ায় তৃতীয় দফা মেয়াদ বৃদ্ধি সংশোধনীর জন্য প্রস্তাব পাঠিয়ে পরিকল্পনা কমিশনে আবেদন করা হয়েছে। সেখান থেকে প্রস্তাবটি একনেক সভায় পাস হলে কাজ দ্রুতগতিতে চলবে এবং এক বছরের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি হবে। তিনি আরো বলেন, প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি হয়েছে ২৫ ভাগ।

সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের প্রেসিডেন্ট আবু ইউসুফ সূর্য বলেন, সিরাজগঞ্জ বিসিক শিল্পপার্ক স্থাপন ও দ্রুত বাস্তবায়ন জেলার ব্যবসায়ী সমাজ ও সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল। শিল্পপার্ক হলে সেখানে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করা হবে, যেগুলোতে মানুষ কাজ পাবে। কিন্তু প্রকল্পে মাটি ভরাটের কাজ দীর্ঘ নয় বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি। প্রকল্পটি কবে নাগাদ বাস্তবায়ন হবে এবং আদৌ হবে কিনা তা নিয়ে আমাদের মধ্যে সংশয় রয়েছে।