তারল্য সংকটে পড়া ব্যাংকগুলোকে নিজেদের ভল্ট থেকে টাকা দেয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত দুই দিনে ব্যাংকগুলোকে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা ধার দেয়া হয়েছে। নতুন করে দেয়া টাকা যাতে বাজারে মূল্যস্ফীতি উস্কে না দেয়, সেজন্য বাজার থেকে টাকা তুলেও নিচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এজন্য নতুন করে ৯০ ও ১৮০ দিন মেয়াদি বিল প্রবর্তন করা হয়েছে।
আজ বুধবার (২৭ নভেম্বর) কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে জারিকৃত এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মুদ্রানীতি বাস্তবায়ন ও তারল্য ব্যবস্থাপনাকে আরো কার্যকর করার লক্ষ্যে বর্তমানে প্রচলিত ৭, ১৪ ও ৩০ দিন মেয়াদি বাংলাদেশ ব্যাংক বিলের পাশাপাশি ৯০ ও ১৮০ দিন মেয়াদি বিল প্রবর্তনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বিলের নিলাম অনুষ্ঠান প্রসঙ্গে ২০০৬ সালের ২১ সেপ্টেম্বর জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে প্রদত্ত বিল ইস্যূর নিয়মাবলী ও কার্যপদ্ধতি সংক্রান্ত নির্দেশিকা ৯০ ও ১৮০ দিন মেয়াদি বিলের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।
এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে গতকাল জানানো হয়, বাংলাদেশ ব্যাংক বিলের মাধ্যমে এরই মধ্যে বাজার থেকে ৪৫২ কোটি ৬০ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। নিলামে ১১টি ব্যাংক অংশ নিয়েছে। এ বিলের গড় সুদের হার ছিল ১১ দশমিক ১০ শতাংশ।
তারল্য সংকটে থাকা ৮টি ব্যাংককে ইতোপূর্বে তারল্য উদ্বৃত্ত থাকা ব্যাংক থেকে ধারের ব্যবস্থা করা হচ্ছিল। এক্ষেত্রে গ্যারান্টি দিচ্ছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এ প্রক্রিয়ায় এরই মধ্যে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা ধার দেয়া হয়। তবে সংকটে থাকা ব্যাংকগুলো থেকে জানানো হয়, প্রক্রিয়াগত জটিলতা ও পরিমাণ কম হওয়ায় ধার নেয়া অর্থ দিয়ে গ্রাহকদের চাহিদা পুরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে ব্যাংক বাঁচাতে তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ধার দেয়ার দাবি জানায়। এ দাবির প্রেক্ষিতে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্ট থেকে ধার দেয়া শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে বেসরকারি খাতের ন্যাশনাল ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংককে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা ধার দেয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।










