চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের বৈরী সম্পর্কে নানাভাবেই প্রভাবিত হয় দুই দেশের অর্থনীতি। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় এ দুই দেশের পক্ষ থেকে পাল্টাপাল্টি নিষেধাজ্ঞাকে খুবই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে ধরা হচ্ছে। এ ধরনের পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ ঝুঁকিতে ফেলছে বিভিন্ন দেশের বেসরকারি খাতকে। এখন নতুন করে বেইজিংয়ের বেসরকারি ইকুইটি ও ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফার্মগুলোকে বাড়তি চাপের মধ্যে থাকতে হচ্ছে। বিশেষ করে চীনা সেনাবাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ কোম্পানিগুলো মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় পড়ায় সাবধানি আচরণ করছে চীনা সংস্থাগুলো। খবর নিক্কেই এশিয়া।

মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের একটি হাল নাগাদ তালিকায় চীনা সামরিক বাহিনীর সহযোগী হিসেবে ১৭টি কোম্পানিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আইডিজি ক্যাপিটাল পার্টনার্স। যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে এ কোম্পানি প্রতিষ্ঠিত হলেও এর সদর দপ্তর এখন বেইজিংয়ে। নিউইয়র্কসহ বিশ্বের অতি পরিচিত শহরে রয়েছে আইডিজির কার্যালয়। 

গত ৩১ জানুয়ারি পেন্টাগন জানিয়েছে, কিছু বেসামরিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তারা চীনা সামরিক বাহিনীর সম্পর্ক খেঁজে পেয়েছে। সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নের জন্য উন্নত প্রযুক্তি ও দক্ষতা নিশ্চিতের কাজে যুক্ত এ সংস্থাগুলো। এর মধ্যে বিভিন্ন কোম্পানি থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এত দিন যুক্তরাষ্ট্রের তালিকায় শুধু প্রযুক্তি কোম্পানি ও নির্মাতারা অন্তর্ভুক্ত ছিল। এখন বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানগুলোও কালো তালিকায় পড়া থেকে বাদ যাচ্ছে না। আইডিজি ক্যাপিটাল পার্টনার্স হলো এ তালিকায় প্রথম বেসরকারি ইকুইটি ও ভেঞ্চার ক্যাপিটাল সংস্থা।

হংকংভিত্তিক আইনি সংস্থা স্টেপটোর কর্মকর্তা উইলসন ঝাও বলেন, ‘‌এটিই প্রথম ঘটনা, যেখানে চীনে সদর দপ্তর রয়েছে এমন বিনিয়োগ সংস্থাকে মার্কিন সরকারের নিষেধাজ্ঞা তালিকায় রাখা হয়েছে।’

এ ধরনের ঘটনা অন্য বিনিয়োগ সংস্থাগুলোর জন্য সতর্ক সংকেত বলে মনে করেন তিনি। উইলসন ঝাওয়ের মতে, আইডিজির মতো চীনে সদর দপ্তর রয়েছে এমন প্রতিষ্ঠানের জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কা। এখন কাজ করার ক্ষেত্রে সহযোগী সংস্থাগুলো সম্পর্কে তাদের আরো ভাবতে হবে। 

নতুন তালিকাভুক্ত অন্যান্য হাই প্রোফাইল কোম্পানির মধ্যে রয়েছে হেসাই টেকনোলজি। স্বচালিত গাড়ি নির্মাতা এ প্রতিষ্ঠান গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে বৃহত্তম চীনা কোম্পানি হিসেবে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। এখন হেসাই জানিয়েছে, তারা ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্তকে আদালতের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করবে।

গত সপ্তাহের শেষের দিকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে হেসাইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইফান লি বলেন, ‘‌এ তালিকায় আমাদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি মিডিয়ার সৃষ্টি। সামরিক বাহিনীর সঙ্গে আমাদের জড়িত থাকার বিষয়টি অপ্রমাণিত, ভিত্তিহীন ও মিথ্যা।’

অবশ্য নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেনি আইডিজি। এ বিষয়ে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাদের মন্তব্য পায়নি নিক্কেই এশিয়া। তবে আইডিজি ক্যাপিটালের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার জন্য পেন্টাগনের সঙ্গে তারা যোগাযোগ করবে। সঙ্গে সূত্রটি জানায়, আইডিজি ক্যাপিটাল মনে করে না আন্তর্জাতিকভাবে এ নিষেধাজ্ঞার যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে।

বাণিজ্য পরামর্শক এশিয়া গ্রুপে চীন শাখার পরিচালক হ্যান শেন লিন এ প্রসঙ্গে জানান, প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দিকে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল সংস্থার আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে। এর বিস্তৃতি প্রয়োগ সামরিক ও বেসামরিক গবেষণার সীমানাকে অস্পষ্ট করে তোলে। এখন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় আইডিজির অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে ভূরাজনৈতিক বাধা স্পষ্ট হয়ে উঠল।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য, ট্রেজারি বিভাগ ও পেন্টাগনসহ বেশ কয়েকটি সরকারি দপ্তরের মাধ্যমে চীনে সদর দপ্তর আছে এমন সংস্থাগুলোকে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছিল। এসব ক্ষেত্রে পেন্টাগন চিহ্নিত সংস্থাগুলো মার্কিন সামরিক বা এর সরবরাহকারীদের সঙ্গে সরাসরি পরিষেবা সম্পর্ক রাখতে পারবে না। ট্রেজারি বিভাগ ও বাণিজ্য বিভাগ যথাক্রমে পাবলিক ট্রেড ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অনুমোদন দেয় না।