টানা দুই বছরের মন্দা ভাব কাটিয়ে ২০১৯ সালে প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরেছিল ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মাখন রফতানি খাত। গত বছর ইইউভুক্ত দেশগুলো থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে দুগ্ধপণ্যটির রফতানি ৩০ শতাংশের বেশি বেড়ে যায়। তবে চলতি বছর পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে। ফের মন্দার মুখে পড়তে পারে ইইউর মাখন রফতানি। আগের বছরের তুলনায় ৭ শতাংশের বেশি রফতানি কমার আশঙ্কা রয়েছে। মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) ফরেন এগ্রিকালচারাল সার্ভিসের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। মূলত নভেল করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারীর কারণে চলমান লকডাউনে ইউরোপের দেশগুলো রীতিমতো বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে। মহামারীর প্রভাবে এসব দেশে কমতে পারে মাখন উৎপাদন। ফলে বছর শেষে কমতে পারে রফতানিও। খবর এগ্রিমানি ও ব্লুমবার্গ।

ইউএসডিএর প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে ইইউভুক্ত দেশগুলো থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে রেকর্ড ২ লাখ ১২ হাজার টন মাখন রফতানি হয়েছিল। পরের দুই বছর ইইউর মাখন রফতানিতে টানা মন্দা ভাব বজায় ছিল। ২০১৭ সালে ইইউভুক্ত দেশগুলো থেকে দুগ্ধপণ্যটির রফতানি ১৭ দশমিক ৯২ শতাংশ কমে ১ লাখ ৭৪ হাজার টনে নেমে আসে। পরের বছর এসব দেশ থেকে মাখন রফতানি নেমে আসে ১ লাখ ৬১ হাজার টনে, যা আগের বছরের তুলনায় ৭ দশমিক ৪৭ শতাংশ কম।

তবে টানা দুই বছরের মন্দা ভাব কাটিয়ে গত বছর ইইউর মাখন রফতানি খাত ঘুরে দাঁড়ায়। এ সময় ইইউভুক্ত দেশগুলো থেকে সব মিলিয়ে ২ লাখ ১০ হাজার টন মাখন রফতানি হয়, যা আগের বছরের তুলনায় ৩০ দশমিক ৪৩ শতাংশ বেশি। সেই হিসেবে এক বছরের ব্যবধানে এসব দেশ থেকে দুগ্ধপণ্যটির রফতানি বেড়েছে ৪৯ হাজার টন। মূলত উৎপাদন খাতের চাঙ্গা ভাব গত বছর ইইউভুক্ত দেশগুলোর মাখন রফতানিতে বড় উল্লম্ফনের পেছনে প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে।

এক বছরের ব্যবধানে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে বলে প্রতিবেদনে জানিয়েছে ইউএসডিএ। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর শেষে ইইউভুক্ত দেশগুলো থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সব মিলিয়ে ১ লাখ ৯৫ হাজার টন মাখন রফতানির সম্ভাবনা রয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৭ দশমিক ১৪ শতাংশ কম। ফলে এক বছরের ব্যবধানে এসব দেশ থেকে দুগ্ধপণ্যটির সম্মিলিত রফতানি কমতে পারে ১৫ হাজার টন।

মাখন রফতানিকারকদের বৈশ্বিক তালিকায় নিউজিল্যান্ডের পর ইইউভুক্ত দেশগুলোর সম্মিলিত অবস্থান দ্বিতীয় শীর্ষ। চলতি বছর এসব দেশের মাখন রফতানি খাতে সম্ভাব্য মন্দার পেছনে নভেল করোনাভাইরাসকে দায়ী করছে ইউএসডিএ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাণঘাতী করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ও দীর্ঘদিনের লকডাউন ইউরোপের দেশগুলোর ব্যবসা-বাণিজ্য, উৎপাদন কার্যক্রম কার্যত স্থবির করে রেখেছে। এর জের ধরে চলতি বছর এসব দেশে মাখন উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আর উৎপাদন খাতের এ মন্দা ভাব ইইউভুক্ত দেশগুলো থেকে দুগ্ধপণ্যটির রফতানি কমিয়ে দিতে পারে।

ইউএসডিএর হিসাব অনুযায়ী, টানা দুই বছর ধরে ইইউভুক্ত দেশগুলোয় মাখন উৎপাদনে চাঙ্গা ভাব বজায় ছিল। ২০১৭ সালে এসব দেশে সব মিলিয়ে ২৩ লাখ ৪০ হাজার টন মাখন উৎপাদন হয়েছিল, যা আগের বছরের তুলনায় দশমিক ২১ শতাংশ কম। পরের বছর দুগ্ধপণ্যটির সম্মিলিত উৎপাদন একই পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ২৩ লাখ ৪৫ হাজার টনে। আর প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় গত বছর এসব দেশে সব মিলিয়ে ২৪ লাখ ২৫ হাজার টন মাখন উৎপাদন হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ৪১ শতাংশ বেশি।

তবে নভেল করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে চলতি বছর শেষে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে। ইউএসডিএর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২০ সালে ইইউভুক্ত দেশগুলোয় সব মিলিয়ে ২৪ লাখ ১০ হাজার টন মাখন উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১৫ হাজার টন কম। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে এসব দেশে দুগ্ধপণ্যটির সম্মিলিত উৎপাদন কমতে পারে দশমিক ৬২ শতাংশ। আর উৎপাদন খাতের এ মন্দা ভাব বছর শেষে ইইউর মাখন রফতানিতে বড় পতনের কারণ হবে।