বাংলাদেশ এগ্রোকেমিক্যাল ম্যানুফ্যাকচারার অ্যাসোসিয়েশনের (বামা) তৃতীয় বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সংগঠনের গত বছরের কর্মকাণ্ড, আয়-ব্যয়ের হিসাব, আগামী বছরের বাজেট এবং অডিটর নিয়োগ নিয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। একই সঙ্গে এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের পর দেশের বালাইনাশক শিল্পের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
গতকাল সোমবার রাজধানীর ঢাকা ক্লাবের সিনহা হলে বামার এ বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সংগঠনের সদস্যরা অংশ নেন।
সভায় আগামী বছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। পাশাপাশি দেশে আমদানি বিকল্প বালাইনাশক পণ্য উৎপাদন করে স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রফতানির সুযোগ তৈরিতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন সংগঠনের সদস্যরা।
বার্ষিক সাধারণ সভা শেষে ‘এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের পূর্বে বালাইনাশক উৎপাদন ও রফতানি: সরকারের করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে এলডিসি উত্তরণের পর দেশের বালাইনাশক শিল্পের সম্ভাবনা, স্থানীয় শিল্পের ঝুঁকি এবং তা মোকাবেলায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিটিএমএ সভাপতি মো. শাওকাত আজিজ রাসেল। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএসএ সভাপতি কৃষিবিদ মো. মাসুম, বাপার সভাপতি মাহবুব আনাম, বারবিডার সভাপতি আব্দুল হক, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আবু হোসেন ভূঁইয়া রানু এবং এফবিসিসিআইয়ের প্রতিনিধি রানা চৌধুরী। এতে সভাপতিত্ব করেন বামার সভাপতি কেএসএম মুস্তাফিজুর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. শাওকাত আজিজ রাসেল এগ্রোকেমিক্যাল শিল্পের বিকাশে বামাকে সরকারের সঙ্গে সহযোগিতামূলকভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সংগঠনের সদস্যদের যেকোনো সহযোগিতায় পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি।
বামার সভাপতি কেএসএম মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে উৎপাদনমুখী ও রফতানিমুখী শিল্প গড়ে তুলতে হবে। এর মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা সম্ভব।
তিনি বলেন, প্রায় ছয় দশক পরও বাংলাদেশ বছরে প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করছে, বিপরীতে রফতানি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৫৭ বিলিয়ন ডলারের পণ্য। এ পরিস্থিতিতে বালাইনাশকের ক্ষেত্রেও আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।
সরকারের সহযোগিতা পেলে ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পের মতো বালাইনাশক শিল্পেও টেকসই উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তুলে বিদেশে রফতানি করা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে ডিএই ও বিএআরআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক, এসইএউয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান, কৃষি বিজ্ঞানী, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, গণমাধ্যমকর্মী এবং বালাইনাশক শিল্পের উদ্যোক্তা ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।










