নির্ধারিত কোটা পূরণ হয়ে গেলে শস্য রফতানি বন্ধের আভাস আগে থেকেই দিয়ে আসছিল রাশিয়া। ধারণা করা হচ্ছিল, আগামী মে মাসের মাঝামাঝি থেকে দেশটি শস্য রফতানি বন্ধ করে দিতে পারে। তবে চলতি মাসের কিছুদিন হাতে থাকতেই আগামী ১ জুলাই পর্যন্ত দেশটি থেকে গম, সরিষা, যব ও ভুট্টাসহ সব ধরনের শস্য রফতানি স্থগিত করা হয়েছে। গতকাল রাশিয়ার কৃষি মন্ত্রণালয় এ ঘোষণা দিয়েছে। খবর ওয়ার্ল্ডগ্রেইনডটকম ও বিজনেস রেকর্ডার।
নভেল করোনাভাইরাসের মধ্যে অভ্যন্তরীণ বাজার সরবরাহ শৃঙ্খল রক্ষা ও খাদ্যদ্রব্যের মূল্য সাধ্যের মধ্যে রাখতে দেশটির কৃষি মন্ত্রণালয় চলতি মাসের প্রথম দিকে খাদ্যশস্য রফতানিতে নির্দিষ্ট কোটা বেঁধে দিয়েছিল। এর আওতায় আগামী জুন পর্যন্ত ৭০ লাখ টন শস্য রফতানির অনুমতি পান দেশটির রফতানিকারকরা।
তবে এ সময়ে দেশটি থেকে পণ্যটির
রফতানি দ্রুতগতিতে বাড়তে থাকে। এর পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির কৃষি মন্ত্রণালয় বারবার হুমকি দিতে থাকে, নির্দিষ্ট সময়ের আগে কোটা পূর্ণ হয়ে গেলে শস্য রফতানি বন্ধ করে দিতে পারে দেশটি।
এক বিবৃতিতে রাশিয়ার কৃষি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কোটার আওতায় ঘোষিত শস্য রফতানি পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় রাশিয়া থেকে ইউরেশিয়ান ইকোনমিক ইউনিয়নের জোটের বাইরে আগামী ১ জুলাই ২০২০ পর্যন্ত গম, সরিষা, যব ও ভুট্টা রফতানি স্থগিত থাকবে। ইউরেশিয়ান ইকোনমিক ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে আর্মেনিয়া, বেলারুশ, কাজাখস্তান, কিরজিস্তান ও রাশিয়া।
রাশিয়া বিশ্বের শীর্ষ গম রফতানিকারক দেশ। এছাড়া অন্যান্য শস্য রফতানিতেও দেশটির অবস্থান বেশ দৃঢ়। ফলে দেশটির এমন সিদ্ধান্তে আন্তর্জাতিক খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খল চক্র বিঘ্নিত হতে পারে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। ওয়ার্ল্ড ট্রেড অর্গানাইজেশন (ডব্লিউটিও) ও ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন (ডব্লিউএইচও) এরই মধ্যে শস্য রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপকারী দেশগুলোকে সতর্ক করে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
মস্কোর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে বলা হয়েছে, মহামারীর মধ্যে অভ্যন্তরীণ বাজারের স্থিতিশীলতা রক্ষায় তারা এ ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে।
এর আগে গত সপ্তাহে রাশিয়ার উপকৃষিমন্ত্রী ওকসানা লুত জানিয়েছিলেন, শস্য রফতানির ক্ষেত্রে সরকারের বেঁধে দেয়া কোটা পূরণ হয়ে গেলে ১ জুলাই পর্যন্ত রফতানি স্থগিত করতে পারে রাশিয়া। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী মে মাসের মাঝামাঝিতে এ কোটা পূর্ণ হয়ে যেতে পারে। তবে এর মধ্যে দেশটি থেকে শস্য রফতানি অপ্রত্যাশিতভাবে বেড়ে যাওয়ায় চলতি মাসে এ সিদ্ধান্ত নিল দেশটি।
ওই সময় তিনি বলেছিলেন, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকেও শস্য রফতানি কোটা বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই রাশিয়ার। এছাড়া আগামী ২০২০-২১ বিপণন মৌসুমেও দেশটির কৃষি মন্ত্রণালয় শস্য রফতানিতে কোটা ব্যবস্থা অব্যাহত রাখতে পারে। প্রতি বছরের ১ জুলাই থেকে রাশিয়ায় নতুন বিপণন মৌসুম শুরু হয়।
২০১৮-১৯ বিপণন বর্ষে রাশিয়া থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সাড়ে তিন কোটি টনের বেশি গম রফতানি হয়েছিল। গমসহ মোট শস্য রফতানি দাঁড়িয়েছিল ৪ কোটি ৩৩ লাখ টনে।
এর আগে ২০১০ সালে সব ধরনের খাদ্যশস্য রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল রাশিয়া। এ সময় মাত্রাতিরিক্ত খরায় রাশিয়াসহ শস্যের বৈশ্বিক উৎপাদনে ধস নেমেছিল। ফলে অভ্যন্তরীণ সরবরাহ নিশ্চিতে খাদ্যশস্য
রফতানি বন্ধ করে দিয়েছিল দেশটি। রাশিয়া থেকে সবচেয়ে বেশি গম আমদানি করে তুরস্ক, মিসর ও বাংলাদেশ।









