জার্মানির মূল্যস্ফীতিতে উল্লেখযোগ্যভাবে মন্থর হয়ে এসেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের জানুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি ছিল ২ দশমিক ৯ শতাংশ, যা মাসিক মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় দুই বছরের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন। সম্প্রতি প্রকাশিত সরকারি প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর রয়টার্স।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটির পরিসংখ্যান বিভাগ বলছে, জানুয়ারিতে মাসিক মূল্যস্ফীতি ছিল ২০২১ সালের জুনের পর সর্বনিম্ন। ২০২১ সালের জুনে দেশটিতে মূল্যস্ফীতি ছিল ২ দশমিক ৪ শতাংশ। মূল্যস্ফীতির গতি মন্থর করার পেছনে ভূমিকা রেখেছে জ্বালানি মূল্য। এ সময় খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ।

জার্মানিতে ডিসেম্বরে মাসিক মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৩ দশমিক ৭ শতাংশ। মূল্যস্ফীতির হার বেশি থাকার পেছনে অর্থনীতিবিদরা জ্বালানির দামে ভর্তুকির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা বলেছিলেন। পাশাপাশি খাদ্যের দামে যুক্ত হয়েছে ভ্যাট। এর আগে দুই বছরের জন্য খাদ্যের দামে ভর্তুকি দেয়া হয়। 

সার্বিকভাবে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভোক্তামূল্য বেড়েছে দশমিক ২ শতাংশ। অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাস অনুসারে, দেশটিতে মূল্যস্ফীতি আরো কমতে থাকবে চলতি বছর। তবে হ্রাসের গতি থাকবে মন্থর। 

মূল্যস্ফীতি মোকাবেলায় প্রত্যাশিত সাফল্য আসেনি বলে সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন কমার্স ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ইয়োর্গ ক্র্যামার। তিনি মনে করেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে। তারা আগের তুলনায় খুব কমই ক্রয় করতে পারে। ফলে সামগ্রিকভাবে মজুরির পতন ঘটেছে বলেই বিবেচনা করা যায়।

গত বছর জার্মানিতে মূল্যস্ফীতির বোঝা ছিল তুলনামূলকভাবে বেশি। এর পরও বার্ষিক মূল্যস্ফীতি ২০২৩ সালে ছিল ৫ দশমিক ৯ শতাংশ, যা আগের বছরের তুলনায় কম। ২০২২ সালে মূল্যস্ফীতি ছিল ৬ দশমিক ৯ শতাংশ। তার পরও ২০২৩ সালের মূল্যস্ফীতি নব্বইয়ের দশকে দেশটির একীভূত হওয়ার পর থেকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ছিল। 

মহামারীর অভিঘাত ও বৈশ্বিক সরবরাহ চেইন বিঘ্নিত হওয়ায় সারা বিশ্বে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। তবে মূল্যস্ফীতির পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত। জার্মানির জ্বালানি খাত গভীরভাবে নির্ভর করে রাশিয়ার গ্যাসের ওপর। একই সময়ে বেড়েছে খাদ্যের দামও।