তাছাড়া কোম্পানিটি দীর্ঘদিন ধরে স্টক এক্সচেঞ্জের লিস্টিং ফি পরিশোধ করছে। এর মাধ্যমে কোম্পানিটি সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘন করেছে। এ কারণে কোম্পানিটির চেয়ারম্যান, পরিচালক ও কর্মকর্তাদের বড় অংকের জরিমানা করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
বিএসইসির এনফোর্সমেন্ট বিভাগ থেকে সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের দায়ে ১৭ জুন এ-সংক্রান্ত শাস্তিমূলক আদেশ জারি করা হয়েছে। আদেশ অনুসারে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) লিস্টিং রেগুলেশন ও কমিশনের লভ্যাংশ-সংক্রান্ত নির্দেশনা লঙ্ঘনের কারণে ফরচুন সুজের চেয়ারম্যান, এমডি, বর্তমান ও সাবেক পরিচালক, সিএফওসহ মোট আট কর্মকর্তাকে মোট ৭ কোটি ২০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ জরিমানার অর্থ কর্মকর্তাদের নিজস্ব তহবিল থেকে পরিশোধ করতে হবে এবং কোনোভাবেই কোম্পানির টাকা ব্যবহার করা যাবে না।
কমিশনের আদেশ অনুযায়ী ফরচুন সুজের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানকে ৫ কোটি, পরিচালক মো. আমানুর রহমানকে ৫০ লাখ, পরিচালক রবিউল ইসলামকে ৫০ লাখ, সাবেক পরিচালক মো. খসরুল ইসলামকে ৫০ লাখ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক রোকসানা রহমানকে ৫০ লাখ, সাবেক সিএফও জামিল আহমেদ চৌধুরীকে ১০ লাখ, সাবেক কোম্পানি সচিব রিয়াজ উদ্দিন ভূঁইয়াকে ৫ লাখ ও কোম্পানি সচিব মো. নাজমুল হোসেনকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বিএসইসি এ আদেশ জারির পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে যদি ফরচুন সুজ ডিএসইর বকেয়া লিস্টিং ফি ও বিনিয়োগকারীদের বকেয়া লভ্যাংশ সম্পূর্ণ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয় তাহলে সংশ্লিষ্টদের এ জরিমানার অর্থ পরিশোধ করতে হবে। জরিমানার অর্থ ব্যাংকার্স ড্রাফট বা পে-অর্ডারের মাধ্যমে বিএসইসির অনুকূলে জমা দিতে ব্যর্থ হলে পরবর্তী প্রতিদিনের জন্য ১০ হাজার টাকা হারে অতিরিক্ত দৈনিক জরিমানা প্রযোজ্য হবে। এছাড়া জরিমানা দিলেও কোম্পানিকে লিস্টিং ফি ও বকেয়া লভ্যাংশ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা থেকে কোনো ছাড় দেয়া হবে না বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
ডিএসইর একটি বিশেষ পরিদর্শন দল ২০২৩ সালের অক্টোবরে ফরচুন সুজ লিমিটেডের প্রধান কার্যালয় ও কারখানা পরিদর্শন করে। সেই তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিএসইসি দুটি আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পায়। এর মধ্যে কোম্পানিটি টানা তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে ডিএসইকে বার্ষিক লিস্টিং ফি পরিশোধ করেনি, যা ২০২৩ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার টাকায় দাঁড়ায়। লিস্টিং রেগুলেশন অনুযায়ী এটি কোম্পানি তালিকাচ্যুতির পর্যায়ের অপরাধ। এছাড়া কোম্পানিটি ৩০ জুন সমাপ্ত ২০২২ হিসাব বছরের জন্য বিনিয়োগকারীদের ১০ শতাংশ নগদ এবং ৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল। কিন্তু মোট ১৬ কোটি ২৫ লাখ ৩৫ হাজার ৪৮৯ টাকা ঘোষিত নগদ লভ্যাংশের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৩ কোটি ৯৮ লাখ ২ হাজার ৭৮৫ টাকা বিনিয়োগকারীদের পরিশোধ করা হয়নি।
কোম্পানিটির বিরুদ্ধে আইন লঙ্ঘনের এসব অভিযোগের বিষয়ে সম্পর্কে জানতে সংশ্লিষ্টদের শুনানিতে তলব করেছিল বিএসইসি। শুনানিতে উপস্থিত হয়ে ফরচুন সুজের কর্মকর্তারা কোম্পানিটির তীব্র আর্থিক সংকটের কথা স্বীকার করেন। তারা জানান, কোম্পানির অন্যতম বড় ক্রেতা ভারতের রেড টেপ লিমিটেড। দেড় বছর ধরে বাংলাদেশ ও ভারতের রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক জটিল আকার ধারণ করায় পণ্য রফতানি ব্যাহত হয়েছে এবং কোম্পানি বড় লোকসানের মুখে পড়েছে। এছাড়া সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় পরিচালকরা নিজেদের লভ্যাংশ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলেও দাবি করেন। তবে কমিশনের কাছে এ ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য বলে মনে না হওয়ার কারণে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।










