জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টায় পদক্ষেপ নেয়া বড় ১০টি গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের তালিকা করেছে গ্রিনপিস। তার মধ্যে তলানিতে অবস্থান করছে জাপানি গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টয়োটা, হোন্ডা ও নিশান মোটর করপোরেশন। গতকাল এমনটাই জানিয়েছে পরিবেশ নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান গ্রিনপিস।

রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, বিগত শতকজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এরই মধ্যে তার ফলাফলও দেখা দিয়েছে। আগামী পৃথিবীকে সুস্থ রাখতে নেয়া হয়েছে জলবায়ু সুরক্ষার মিশন। বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্ন উদ্যোগ। পরিবেশবাদী সংস্থা গ্রিনপিস জলবায়ু পরিবর্তনের কথা মাথায় রেখেই দাবি উঠিয়েছিল। গাড়ি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামানোর দাবি জানায় প্রতিষ্ঠানটি। সে হিসেবে গোটা ইউরোপে ২০২৮ সালের মধ্যে দহন ইঞ্জিনের গাড়ি বিক্রিতে সমাপ্তি টানতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র, চীন, কোরিয়া ও জাপানে এ সময়সীমা ২০৩০। লক্ষ্য বাস্তবায়নের পাশাপাশি নজর দিতে হবে ব্যাটারি পুনঃপ্রক্রিয়াজাত ও কার্বন নিঃসরণ রোধে। সম্প্রতি সে লক্ষ্য বাস্তবায়নে গাড়ি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের সফলতার তালিকা প্রকাশ করেছে গ্রিনপিস।

তালিকায় সবার শেষে টয়োটার নাম। সংস্থাটির রেটিং গত বছরের সমানই। অর্থাৎ শূন্য কার্বন নিঃসরণযুক্ত গাড়ি তৈরি হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির মোট উৎপাদনের ১ শতাংশেরও কম। কার্বনমুক্ত করার পদক্ষেপে এ অগ্রগতি খুবই মন্থর। গ্রিনপিসের বক্তব্য অনুসারে, ২০২১ সালে টয়োটার বিক্রি হওয়া প্রতি ৫০০ গাড়ির ৪৯৯টিই ছিল জীবাশ্ম জ্বালানিচালিত। বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি নিয়ে প্রচুর আলোচনা থাকলেও গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো তেমন সক্রিয়তা দেখাচ্ছে না। গত ডিসেম্বরেই টয়োটা তাদের পুরোপুরি বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি বিক্রির নতুন লক্ষ্য স্থির করে। ২০৩০ সালের মধ্যে বিদ্যমান ২০ লাখ ইউনিট থেকে ৩৫ লাখ ইউনিটে উত্তীর্ণ করা হবে।

অবশ্য গ্রিনপিস জাপানের জলবায়ু এবং জ্বালানিবিষয়ক আন্দোলনকারী ড্যানিয়েল রিড একে অপর্যাপ্ত মনে করেন। তার ভাষ্য অনুসারে, যখন অন্যান্য গাড়ি নির্মাণকারী কোম্পানির সঙ্গে তুলনা করা হয়; তখন মৌলিকভাবেই স্পষ্ট হয় যে তারা অনেক পিছিয়ে পড়ছে।

এ র্যাংকিং পরিমাপ করা হয়েছে ইঞ্জিনের কার্বন নিঃসরণ, সরবরাহ ব্যবস্থার নিঃসরণ এবং কর্মদক্ষতার মাধ্যমে। ১০০-এর মধ্যে মাত্র ১০ পয়েন্ট নিয়ে তালিকায় দশম অবস্থানে টয়োটা। ১২ দশমিক ৮ নিয়ে নবম অবস্থানে হোন্ডা এবং ১৩ দশমিক ৪ পয়েন্ট নিয়ে অষ্টমে নিশান। তালিকার শীর্ষে থাকা তিন প্রতিষ্ঠান হলো যথাক্রমে জেনারেল মোটরস, মার্সিডিজ বেঞ্জ ও ফক্সওয়াগন।

টয়োটার মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেছেন, কোম্পানি যত দ্রুত সম্ভব কার্বন ডাই-অক্সাইডের নিঃসরণ কমিয়ে আনার জন্য কাজ করছে। এ চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো মনে করে, এভাবে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে বেরিয়ে গাড়ি নির্মাতাদের দ্রুত বিদ্যুচ্চালিত যানবাহনে স্থানান্তরিত হওয়া উচিত। টয়োটা প্রথম বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি বিজেডফোরএক্স এসইউভি ব্যাপকভাবে উৎপাদন শুরু করে গত মে মাসে। তবে হুইলের ঝুঁকিসংক্রান্ত কারণ দেখিয়ে দুই মাসের মধ্যে গাড়িগুলো প্রত্যাহারের ঘোষণাও দেয়া হয়। সম্প্রতি সংস্থাটি জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রে ইভি ব্যাটারি উৎপাদনে ৭৩ হাজার কোটি ইয়েন বিনিয়োগ করার ঘোষণা দিয়েছে।

গ্রিনপিসের দেয়া তালিকায় অষ্টম ও নবম স্থানে আছে নিশান ও হোন্ডা। গত বছরের অবস্থান থেকে উভয়েরই অবনতি ঘটেছে তিন ধাপ করে। গ্রিনপিসের দাবি, লক্ষ্য পূরণের জন্য হোন্ডার কোনো পরিকল্পনা নেই। একইভাবে কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামাতে খুব বেশি অগ্রগতি হয়নি নিশানেরও।