দেশের বাজারে মসুর ডালের বাড়তি চাহিদা রয়েছে। প্রতি বছরই পণ্যটির চাহিদা বাড়ছে। ক্রমবর্ধমান চাহিদার বিষয়টি মাথায় রেখে সংকট এড়াতে মসুর ডাল আমদানি করা হয়। তবে মসুর ডালের নিজস্ব উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে এবারের মৌসুমে যশোর জেলায়ই ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে মসুর ডাল আবাদের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বিপরীতে উৎপাদন দাঁড়াতে পারে ২১ হাজার টনে। মূলত আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ায় যশোরের কৃষকরা অন্যান্য ফসলের পরিবর্তে ডাল আবাদ বেশি করছেন।
যশোর আঞ্চলিক কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে জেলায় মসুর ডাল আবাদ হয়েছিল ১৩ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে। পণ্যটি উৎপাদন হয়েছিল সব মিলিয়ে ১৭ হাজার ৮৭৬ টন। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে আবাদ করা হয়েছিল ১৯ হাজার ১৯৫ হেক্টর জমিতে, উৎপাদন হয় ১৮ হাজার ১১১ টন।
২০১৬-১৭ অর্থবছরে এসে যশোরে মসুরের আবাদ হয়েছিল ১৯ হাজার ৫৪০ হেক্টর জমিতে, উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ২৬ হাজার ৩০৯ টনে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ১৭ হাজার ৫০৫ হেক্টর জমিতে মসুরের আবাদ হয়েছে। উৎপাদন হয়েছিল ২১ হাজার ১৮১ টন। সর্বশেষ ২০১৮-১৯ অর্থবছরে যশোরে ৮ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে আবাদ করে ১৭ হাজার ৭৩ টন মসুর উৎপাদন হয়েছে। চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে এখানে ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে মসুর ডাল আবাদের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে আবাদ হয়েছে ৮ হাজার ২৮০ হেক্টর জমিতে। অর্থবছর শেষে উৎপাদন হতে পারে ২১ হাজার টন।
যশোরের শার্শা উপজেলার শালকোনা গ্রামের কৃষক সাহেব আলী জানান, তিনি তিন বছর ধরে মসুর ডাল আবাদ করছেন। পণ্যটির ফলন ভালো হয়। দামও পাওয়া যায়। এতে তাদের বেশ লাভ থাকে। বাঘারপাড়া উপজেলার ধলগ্রামের কৃষক আবুল বিশ্বাস বণিক বার্তাকে বলেন, এবার দুই বিঘা জমিতে মসুর ডালের আবাদ করেছি। আশা করছি, ফলন ভালো হবে। সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলা গ্রামের কৃষক আনোয়ার হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, চলতি মৌসুমে তিন বিঘা জমিতে মসুর ডাল আবাদ করেছি। মসুর আবাদে লোকসানের ঝুঁকি কম। এ কারণে স্থানীয় কৃষকরা পণ্যটি আবাদে আগ্রহী হয়েছেন।
এ বিষয়ে বণিক বার্তার সঙ্গে আলাপকালে যশোর আঞ্চলিক কৃষি অফিসের উপপরিচালক শেখ এমদাদ হোসেন বলেন, যশোরের আবহাওয়া মসুর ডাল উৎপাদনের জন্য উপযোগী। এ কারণে যশোর ও আশপাশের জেলাগুলোয় পণ্যটির আবাদ ও উৎপাদন বেশি হয়। বাজারে ভালো দাম পাওয়ার কারণে কৃষকরা মসুর ডালের আবাদ বাড়াতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।









