বিশ্বজুড়ে তীব্রতর হচ্ছে কর্মী সংকট। শ্রমবাজারে প্রতিকূলতা বিদ্যমান। এর প্রভাব পড়েছে অস্ট্রেলিয়ার উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থা কান্তাসের ওপরও। সম্প্রতি বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে কর্মিস্বল্পতার কারণে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের পালন করতে হচ্ছে মালপত্র তদারকির দায়িত্ব।

অস্ট্রেলিয়ার সিডনি ও মেলবোর্নের বিমানবন্দরগুলোয় অন্ততপক্ষে ১০০ স্বেচ্ছাসেবীর সন্ধানে রয়েছে কান্তাস এয়ারওয়েজ। মূলত মালপত্র তদারকির কাজেই এ স্বেচ্ছাসেবীরা নিয়োজিত থাকবেন। কভিডজনিত বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ায় উড়োজাহাজ পরিবহন পরিষেবা আবারো চালুর উদ্যোগ নিয়েছেন স্বেচ্ছাসেবীরা। একই প্রচেষ্টা চালাচ্ছে কান্তাস এয়ারওয়েজও। তবে কর্মী সংকটের কারণে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন প্রতিষ্ঠানটি।

এ বিষয়ে কান্তাসের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা কলিন হিউগস বলেন, কভিডের প্রকোপ বাড়া নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে। উপরন্তু শ্রমবাজারে প্রতিকূলতা চলছে। সব মিলিয়ে উড়োজাহাজ পরিবহন শিল্প খাত নানামুখী চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন।

কর্মী সংকট কাটিয়ে উঠতে ব্যবস্থাপক ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ওপর মালপত্র তদারকির দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। সপ্তাহে তিন থেকে পাঁচদিন ৪-৬ ঘণ্টা মাল তদারকির দায়িত্বে থাকবেন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।

এ বিষয়ে কান্তাসের এক মুখপাত্র জানান, আমরা বুঝতে পারছি আমাদের কার্যক্রম ভোক্তাদের প্রত্যাশা মেটাতে পারছে না। ইস্টারের ব্যস্ত সময় থেকে প্রায় ২০০ জন প্রধান কর্মকর্তা বিমানবন্দরে মালপত্র তদারকির কাজ করছেন।

কভিড-১৯ মহামারীর জের ধরে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয় দেশের সীমান্তে। অন্যান্য উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থার মতো ক্ষতিগ্রস্ত হয় কান্তাসও। এতে করে হাজারো কর্মী ছাঁটাই করে প্রতিষ্ঠানটি। ২০২০ সালের নভেম্বরে দুই হাজার চুক্তিবদ্ধ কর্মী নিয়োগ দেয় প্রতিষ্ঠানটি। মূলত আর্থিক লোকসান সীমিত করতেই এ প্রচেষ্টা কান্তাসের। তবু কর্মী সংকট এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। গত মাসে মালপত্র পৌঁছতে বিলম্ব ও হারানো মালপত্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন যাত্রীরা।

বিশ্বের কঠোরতম বিধিনিষেধ আরোপ করা হয় অস্ট্রেলিয়ায়। কভিডজনিত বিধিনিষেধ শিথিল হওয়া সত্ত্বেও প্রধান প্রধান উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থার কার্যক্রম এখনো কভিডপূর্ব স্তরে পৌঁছেনি। কর্মী সংকটের মুখে যুক্তরাজ্যের উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থা ও বিমানবন্দরগুলোও। এতে করে ফ্লাইট বিলম্ব হচ্ছে। কখনো বাতিলই হয়ে যাচ্ছে ফ্লাইট। এদিকে ছুটির মৌসুমে যাত্রীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে এয়ারলাইনসগুলো। এর জের ধরেই কান্তাসের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের পালন করতে হচ্ছে মালপত্র তদারকির ভূমিকা।