সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে মসলাপণ্য জিরা আমদানি কমেছে। গত অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে এ বন্দর দিয়ে পণ্যটির আমদানি কমেছে অন্তত ৬০ শতাংশ। আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারতে জিরা সরবরাহ কমে যাওয়ার পাশাপাশি দাম বাড়ায় আমদানি কমেছে। ফলে সাতক্ষীরার অভ্যন্তরীণ বাজারে পণ্যটির দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছে। প্রতি কেজি জিরা ১ হাজার ১৯০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
ভোমরা বন্দরের শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব শাখা থেকে জানা গেছে, চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাস জুলাই-নভেম্বর পর্যন্ত এ বন্দর দিয়ে জিরা আমদানি হয়েছে ৪১৩ টন, যার বাজার মূল্য ১৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। পরিমাণের দিক দিয়ে ২০২২-২৩ অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় আমদানি কমেছে অন্তত ৬০ শতাংশ। গত অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর পর্যন্ত বন্দরটি দিয়ে ১ হাজার ১৬৪ টন জিরা আমদানি হয়েছিল, যার আমদানি মূল্য ছিল ২১ কোটি ২৭ লাখ টাকা। এ হিসাব অনুযায়ী চলতি অর্থবছর ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে জিরা আমদানি কমেছে ৭৫১ টন।
মসলাপণ্য আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স রাফসান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. আবু হাসান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বর্তমানে ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে জিরা সরবরাহ কম। তাছাড়া ডলার সংকটের পাশাপাশি পণ্যটির দামও চড়া যাচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জরুরি পণ্য না হওয়ায় এলসি খোলা নিয়েও জটিলতা রয়েছে। তাই পণ্যটির আমদানি কমেছে।’
সাতক্ষীরা জেলা সদরের সুলতানপুর বড় বাজারের পাইকারি পর্যায়ে মসলা বিপণন প্রতিষ্ঠান মেসার্স মসলা ভাণ্ডারের স্বত্বাধিকারী মো. আবুল কাসেম বলেন, ‘গত তিন-চার মাস ধরে জিরার দাম বেড়েই যাচ্ছে। গত অর্থবছরের এ সময় ভারতীয় আমদানীকৃত জিরা ৮৫০-৯০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। এখন তা বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ১৯০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায়। শুধু জিরা নয় প্রায় সব ধরনের আমদানীকৃত মসলার দাম বেড়েছে।’
বাজার সূত্র বলছে, শীতকালে ধর্মীয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক নানা অনুষ্ঠান বেড়ে যাওয়ায় দেশে মসলাপণ্যের চাহিদা বাড়ে। প্রধান প্রধান উৎসবের সময়ও মসলাপণ্যের চাহিদা দেখা যায়। তবে এ বছর চাহিদার তুলনায় বাজারে সরবরাহ কম থাকায় রেকর্ড উচ্চতায় বেড়েছে প্রায় সব ধরনের মসলাপণ্যের দাম।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা মার্কেটিং অফিসার আব্দুল্লাহ মো. আবু সালেহ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘জিরার দাম বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে। তবে দাম বাড়ার পর আর কমেনি। দোকানগুলোয় এখন আমদানীকৃত জিরা প্রতি কেজি ১ হাজার ২০০ পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে। অন্য যেকোন সময়ের চেয়ে আমদানি খরচ বেশি থাকায় জিরার বাজার চড়া যাচ্ছে। আশা করছি, সামনে সরবরাহ বাড়লে দাম কমতে শুরু করবে।’










