চট্টগ্রাম থেকে মিয়ানমার হয়ে চীনের ইউনান প্রদেশের রাজধানী কুনমিং পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটারের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা করা গেলে প্রায় ২৪ ঘণ্টায় পণ্য পরিবহনের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এ ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হলে পরিবহন ব্যয় ও সময় কমার পাশাপাশি বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের মধ্যে আঞ্চলিক বাণিজ্য এবং সরবরাহ ব্যবস্থা আরো গতিশীল হবে বলে মনে করছেন তিনি।
সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে গতকাল ঢাকা সফররত চীনের ইউনান প্রদেশের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে এ প্রস্তাব তুলে ধরেন বাণিজ্যমন্ত্রী। ইউনানের এক্সিকিউটিভ ভাইস গভর্নর ঝাও জুনমিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন।
বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘চট্টগ্রাম থেকে মিয়ানমার হয়ে কুনমিং পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটারের কার্যকর সড়ক যোগাযোগ গড়ে তোলা সম্ভব হলে প্রায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পণ্য পরিবহন সম্ভব হতে পারে। এতে পরিবহন ব্যয় কমার পাশাপাশি তিন দেশের মধ্যে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও সরবরাহ ব্যবস্থা আরো গতিশীল হবে।’
ইউনানকে বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনাময় বাজার হিসেবে উল্লেখ করে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘ভৌগোলিক নৈকট্য কাজে লাগিয়ে প্রদেশটিতে বাংলাদেশের রফতানি বাড়ানোর যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।’ ইউনানের প্রায় ৪ কোটি ৬৪ লাখ মানুষের বাজারে বাংলাদেশী পণ্যের প্রবেশ সহজ করতে প্রস্তাবিত বিনামূল্যের বন্ডেড ওয়্যারহাউজ ও প্রদর্শনী সুবিধা দ্রুত কার্যকর করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বৈঠকে জানানো হয়, ২০২৫ সালে ইউনান ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ইউয়ান ছাড়িয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশই প্রথম ইউনানের বিশেষ বাণিজ্য সুবিধা নীতির আওতায় এসেছে বলেও জানান প্রদেশটির এক্সিকিউটিভ ভাইস গভর্নর ঝাও জুনমিন। তিনি বলেন, ‘এ নীতির আওতায় বাংলাদেশী পণ্যের জন্য বন্ডেড ওয়্যারহাউজ, প্রদর্শনী কেন্দ্র ও শুল্ক-সংক্রান্ত বিভিন্ন সুবিধা দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, যা দ্রুত কার্যকর করা হবে।’
ইউনানের বাণিজ্য বিভাগ ও বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশী পণ্য প্রদর্শনের জন্য ইউনানে স্থান নির্বাচন করা হয়েছে বলেও জানান ঝাও জুনমিন। এ সুবিধা কাজে লাগাতে বাংলাদেশী উদ্যোক্তাদের দ্রুত এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বৈঠকে সরাসরি কার্গো বিমান যোগাযোগ সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়। বাংলাদেশ থেকে পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়াজাত পণ্য, হিমায়িত মাছ, ফলসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য ইউনানে রফতানি এবং ইউনান থেকে ফুল, সার ও পশুখাদ্য আমদানির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন দুই পক্ষের প্রতিনিধিরা। বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে সরাসরি কার্গো বিমান যোগাযোগ স্থাপিত হলে দ্রুত পচনশীল কৃষিপণ্যের বাণিজ্যে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে বৈঠকে মত দেয়া হয়।
বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী বাংলাদেশের পাটের গুণগত মান ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে ইউনানের সঙ্গে যৌথ গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন। একই সঙ্গে জ্বালানি, ই-কমার্স ও প্রযুক্তি খাতে দুই পক্ষের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে ইউনানের নারী উদ্যোক্তাদেরও বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ অনুসন্ধানের আমন্ত্রণ জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।
এছাড়া কুনমিংয়ের আধুনিক পার্কগুলোর আদলে সিলেটের পুরনো কারাগারের স্থানে একটি পার্ক গড়ে তুলতে ইউনান কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চান তিনি।
ঝাও জুনমিন বাংলাদেশের এসব প্রস্তাবকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কানেক্টিভিটি ও অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতে দুই পক্ষের সহযোগিতা আরো এগিয়ে নেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও চীন দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।










