ইরান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের সরবরাহ সংকট আরো তীব্র হলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ১৫০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে ব্যাংক অব আমেরিকা। একই সঙ্গে চলতি বছরের শেষ নাগাদ আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের মূল্য পূর্বাভাস ব্যারেলপ্রতি ৮৩ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৯৫ ডলার করেছে মার্কিন ব্যাংকটি।

ব্যাংক অব আমেরিকার গ্লোবাল কমোডিটিজ বিভাগের প্রধান ফ্রান্সিসকো ব্লাঞ্চের নেতৃত্বাধীন কৌশলবিদরা মঙ্গলবার প্রকাশিত এক নোটে এ পূর্বাভাস দিয়েছেন। তাদের মতে, বিকল্প পথে জ্বালানি তেল পরিবহন এবং নিরাপত্তা দিয়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে কিছু জাহাজ চলাচলের কারণে সরবরাহ ঘাটতির একটি অংশ সামাল দেয়া সম্ভব হয়েছে। তবে জ্বালানি অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি ও ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম।

ইরান যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ। যুদ্ধের আগে এ পথ দিয়ে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সরবরাহ হতো।

তবে সৌদি আরবের বিকল্প রুটে জ্বালানি তেল পরিবহন বাড়ানোর উদ্যোগ বাজারে সাময়িক স্বস্তি দিয়েছে। সৌদি আরামকো দেশটির পূর্বাঞ্চল থেকে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর পর্যন্ত বিস্তৃত পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইন আবার চালু করেছে। হামলার কারণে ১৩ সেপ্টেম্বর পাইপলাইনটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ইয়ানবু থেকে অপরিশোধিত তেল রফতানিও থেমে গিয়েছিল। মঙ্গলবার সীমিত সক্ষমতায় পাইপলাইনে আবার তেল প্রবাহ শুরু হয় এবং ইয়ানবু থেকেও রফতানি পুনরায় চালুর প্রস্তুতি নেয় আরামকো।

এ খবরের পর মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমে আসে। নভেম্বর সরবরাহের ব্রেন্ট ক্রুড ১ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৯ দশমিক ২৫ ডলারে দিন শেষ করে। আর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআইয়ের অক্টোবর চুক্তির দাম ১ দশমিক ২৪ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৯৪ দশমিক ৯৯ ডলারে। দিনের এক পর্যায়ে উভয় মানদণ্ডের দাম ব্যারেলপ্রতি ২ ডলারেরও বেশি কমেছিল।

ব্যাংক অব আমেরিকা অবশ্য মনে করছে, বর্তমান সংকট কাটলে ২০২৭ সালে ব্রেন্টের গড় মূল্য ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৮০ ডলারে নেমে আসতে পারে। কিন্তু বিশ্বজুড়ে বাণিজ্যিক ও কৌশলগত জ্বালানি তেলের মজুদ কমতে থাকায় স্বল্পমেয়াদে সরবরাহ নিয়ে বড় ধরনের ঝুঁকি রয়েছে।

ব্যাংকটির বিশ্লেষকদের মতে, মূল্যস্ফীতি ও মানুষের আয় বিবেচনায় নিলে বর্তমান জ্বালানি মূল্য এখনো এমন পর্যায়ে পৌঁছেনি, যা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিতে পারে। একই সঙ্গে এখন পর্যন্ত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও বড় ধরনের ধাক্কা খায়নি। সিএনবিসি