চলমান
মহামারীর
প্রেক্ষাপটে
কর
ব্যবস্থায়
কিছু
চ্যালেঞ্জ
সামনে
চলে
আসছে।
এর
মধ্যে
বড়
চ্যালেঞ্জ
কাঙ্ক্ষিত
হারে
রাজস্ব
আহরণ
না
হওয়া।
কভিডে
অর্থনীতি
অনেকটা
স্থবির
থাকায়
স্বাভাবিকভাবে
রাজস্ব
আহরণ
কমে
আসছে,
কাঙ্ক্ষিত
পর্যায়ে
পৌঁছানো
যাচ্ছে
না।
সংবাদমাধ্যমের
প্রতিবেদনে
উঠে
আসছে
যে
মন্দা
অবস্থায়
নিয়মিত
রাজস্ব
আহরণ
কঠিন
হচ্ছে।
সংগত
কারণেই
ইদানীং
আহরণ
হচ্ছে
লক্ষ্যমাত্রার
চেয়ে
অনেক
কম।
লক্ষ্যমাত্রা
কম
কিংবা
বেশি
করে
ধরা
হোক,
বাস্তবতা
হচ্ছে
রাজস্ব
আহরণ
গতিশীল
হচ্ছে
না
অর্থনীতি
সচল
না
হলে।
সুতরাং
অর্থনীতিকে
সচল
করা
বা
হওয়ার
ওপরই
রাজস্ব
আহরণের
মাত্রা
ঊর্ধ্বগামী
হওয়াটা
নির্ভরশীল।
রাজস্ব আহরণ
বাড়াতে
সরকার
নানামুখী
উদ্যোগ
নিয়েছে।
তার
মধ্যে
একটি
গুরুত্বপূর্ণ
উদ্যোগ
হলো
অপ্রদর্শিত
অর্থ
প্রদর্শিত
করার
সুযোগ।
চলতি
বাজেট
বর্ষে অপ্রদর্শিত
অর্থ
বৈধ
করার
সুযোগ
দেয়া
হয়েছে।
বলা
হয়েছে,
‘দেশের
প্রচলিত
আইনে
যা-ই
থাকুক
না
কেন,
ব্যক্তিশ্রেণীর
করদাতাদের
চলতি
অর্থবছরের
১
জুলাই
থেকে
২০২১
সালের
৩০
জুন
পর্যন্ত
আয়কর
রিটার্নে
অপ্রদর্শিত
জমি,
বিল্ডিং,
ফ্ল্যাট
ও
অ্যাপার্টমেন্টের
প্রতি
বর্গমিটারের
ওপর
নির্দিষ্ট
হারে
এবং
নগদ
অর্থ,
ব্যাংকে
গচ্ছিত
অর্থ,
সঞ্চয়পত্র,
শেয়ার,
বন্ড
বা
যেকোনো
সিকিউরিটিজের
ওপর
১০
শতাংশ
কর
প্রদান
করে
আয়কর
রিটার্নে
প্রদর্শন
করলে
আয়কর
কর্তৃপক্ষসহ
অন্য
কোনো
কর্তৃপক্ষ
কোনো
প্রশ্ন
করতে
পারবে
না।’
এ
সুযোগে
চলতি
বাজেট
বছরের
প্রথম
ছয়
মাসে
১০
হাজার
২২০
কোটি
টাকা
অপ্রদর্শিত
আয়
প্রায়
সাড়ে
৯০০
কোটি
টাকা
কর
দিয়ে
বৈধ
করেছেন
৭
হাজার
৪৪৫
জন
করদাতা,
যা
বাংলাদেশের
ইতিহাসে
নজিরবিহীন।
ঢালাওভাবে
অপ্রদর্শিত
টাকা
প্রদর্শিত
করার
যে
সুযোগ
দেয়া
হয়েছে,
তা
কতটা
যুক্তিযুক্ত,
সেটি
পর্যালোচনার
অবকাশ
অবশ্যই
রয়েছে।
আমাদের সম্পদ
কর
ব্যবস্থাপনার
মধ্যে
গলদ
আছে।
যেমন
জমি
বিক্রি
হলো
৭০
লাখ
টাকা,
অথচ
রেকর্ড
হলো
৬০
লাখ
টাকা।
বাকি
১০
লাখ
টাকার
কর
কীভাবে
হবে।
এ
রকম
কিছু
বিষয়ে
বিদ্যমান
বিধিবিধানে
সমস্যা
আছে।
সেজন্য
কারো
কারো
কাছে
অপ্রদর্শিত
অর্থ
বা
প্রদর্শন
করেননি
এমন
অর্থ
থাকতে
পারে।
কিন্তু
এখানে
দেখা
যাচ্ছে
চলতি
বাজেটে
অপ্রদর্শিত
টাকা
প্রদর্শনের
মোড়কে
মূলত
দুর্নীতিজাত
অবৈধ
আয়কে
বৈধ
বিবেচনার
একটা
বিশেষ
ধরনের
সুযোগ
ঘোষণা
করা
হয়েছে।
তাদের
জন্য
করহার
করা
হয়েছে
মাত্র
১০
শতাংশ,
যা
কোনো
দিন
করা
হয়নি,
কোনো
দেশে
করা
হয়
না।
এক্ষেত্রে
দুটো
বিষয়
ঘটছে।
এক.
রাষ্ট্রের
কর
রাজস্ব
আহরণের
ক্ষেত্রে
বড়
ধরনের
ছাড়
দেয়া
হচ্ছে।
যাদের
জন্য
এবং
যেভাবে
এ
ছাড়
দেয়া,
তা
ট্যাক্স
জাস্টিসের
পরিপন্থী।
দুই.
এর
মধ্য
দিয়ে
নিয়মিত
কর
দেয়া
সৎ
করদাতাদের
নিরুৎসাহিত
করা
হচ্ছে,
প্রকারান্তরে
শাস্তি
দেয়া
হচ্ছে।
কর
ন্যায্যতা
প্রতিষ্ঠা
এবং
সবাইকে
করের
আওতায়
আনার
ক্ষেত্রে
এটি
একটি
অনৈতিক
পন্থা
বা
পরিবেশ,
যা
কাম্য
নয়।
অনৈতিক পন্থায়
করহার
হ্রাস
বা
ছাড়
দেয়ার
সঙ্গে
কর
অবকাশ
বা
অব্যাহতি
এবং
কর
রেয়াতের
একটা
সুস্পষ্ট
পার্থক্য
আছে।
কোনো
একটা
এলাকা
বা
শিল্প
পিছিয়ে
আছে,
সেটিকে
এগিয়ে
আনতে
কর
অবকাশ
বা
অব্যাহতি
দেয়া
হয়।
এর
একটা
যুক্তি
আছে।
এতে
একটা
এলাকা
বা
উদীয়মান
শিল্পের
উন্নয়ন
হবে।
সেক্ষেত্রে
প্রথমে
কর
ধরলে
তার
উন্নতি
ব্যাহত
হতে
পারে।
সেজন্য
সব
দেশেই
ট্যাক্স
হলিডের
বিধান
আছে।
আমাদের
দেশে
এটাও
ছিল
বা
কোনো
কোনো
ক্ষেত্রে
এখনো
আছেও।
আর
কর
রেয়াত
বা
প্রত্যর্পণের
ক্ষেত্রে
প্রথম
কর
আদায়
করা
হয়,
পরে
শিল্পের
বা
সেবার
স্বার্থে
ফেরত
দেয়া
হয়।
এটাকে
কর
প্রত্যর্পণ
বলা
হয়।
কোনো
কোনো
ক্ষেত্রে
কর
ভর্তুকি
দেয়ার
নজিরও
আছে।
রাষ্ট্র
যদি
মনে
করে
যে
কোনো
খাত
ভালো
কাজ
করছে,
যেমন
কৃষি
খাতে
প্রণোদনা
বা
ভর্তুকি
দেয়া
হয়।
কেন
ভর্তুকি
দেয়া
হয়?
তাদের
সমর্থ
করে
তোলার
জন্য।
কিন্তু
এখানে
দেখা
যাচ্ছে,
একজন
লোকের
প্রায়
৮০-৮৫
শতাংশ
অপ্রদর্শিত
অর্থ
(অপ্রদর্শিত অর্থের
আড়ালে
দুর্নীতিজাত
টাকা)
ঘোষিত
সুযোগে
মাত্র
১০
শতাংশ
হারে
কর
দিয়ে
বৈধ
করতে
পারছে।
অর্থাৎ
অন্য
ব্যক্তি
বা
কোম্পানি
করদাতা
যেখানে
২৫-৩০
শতাংশ
কর
দিচ্ছে,
সেখানে
অপ্রদর্শিত
অর্থের
মালিক
দিচ্ছে
১০
শতাংশ
কর।
এটি
একটি বড়
ধরনের
কর
প্রণোদনা।
আবার
বলা
হচ্ছে,
অপ্রদর্শিত
অর্থের
উৎস
নিয়ে
কেউ
কোনো
প্রশ্ন
করবে
না,
অর্থাৎ
দুর্নীতিবাজকে
রাষ্ট্র
সংবিধানের
২০(২)
অনুচ্ছেদের
ব্যত্যয়
ঘটিয়ে
বরং
ইমিউনিটি
দিচ্ছে।
রাজস্ব আয়ের
ক্ষেত্রে
সাধারণত
আমরা
ফোর
‘আর’-এর
কথা
বলি।
এক.
রেভিনিউ
আর্নিংস;
দুই.
রিডিস্ট্রিবিউশন,
সমাজে
যাতে
সম্পদ
কারো
কাছে
কুক্ষিগত
না
হয়;
তিন.
রিপ্রাইসিং।
কোনো
পণ্যের
দাম
কর
দেয়ার
পর
এক
ধরনের
হয়,
আবার
কর
না
দিয়ে
নিলে
আরেক
ধরনের
হয়।
অর্থাৎ
কর
নেয়ার
মাধ্যমে
পণ্যের
দাম
নিয়ন্ত্রণ
করা
হয়।
চার.
রিপ্রেজেন্টেশন।
রাষ্ট্রকে
কর
দেয়া
নাগরিকের
দায়িত্ব।
এর
মধ্য
দিয়ে
রাষ্ট্রের
জবাবদিহিতা
চাইতে
পারে
নাগরিক।
যদি
করই
না
দেয়া
হয়,
দুর্বল
রিপ্রেজেন্টেশনে
জবাবদিহিতা
চাওয়ার
অধিকার
তার
থাকে
না।
এসব বিষয়
দেখার
জন্য,
সাধারণ
করদাতার
অভিযোগ
জানানোর
জন্য,
এমনকি
রাষ্ট্রীয়ভাবে
কর
ন্যায্যতা
প্রতিষ্ঠায়
অনেক
কিছু
করার
জন্য
যে
প্রতিষ্ঠান
গড়া
হয়েছিল,
থাকা
উচিত
ছিল,
সেটি
হলো
ট্যাক্স
ওমবুডজম্যান
অফিস।
১৬৬টি
দেশে
আছেও।
২০০৫
সালে
এ
অফিস
যে
উদ্দেশ্য
সামনে
নিয়ে
গঠিত
হয়েছিল,
তা
অর্জনের
সুযোগ
না
দিয়ে
২০১১
সালে
এসে
পুরো
অফিসটাই
বিলোপ
করা
হয়।
২০০৫
সালে
কর
ন্যায়পাল
অফিস
গঠনের
সময়
বলা
হয়েছিল,
এখানে
মানুষ
করসংক্রান্ত
হয়রানি
ও
বিরোধের
বিচার
পাবে।
মাত্র
ছয়
বছরের
মাথায়
২০১১
সালে
বলা
হলো,
করদাতার
সঙ্গে
ভালো
আচরণ
করলে,
সেবা
দিলে,
ন্যায়বিচার
করলে,
কর
দেয়ার
পদ্ধতি
সহজ
করলে
এ
অফিস
লাগবে
কেন।
আরো
বলা
হলো,
কর
আইন,
শুল্ক
ও
ভ্যাট
আইনের
মধ্যে
কর
ন্যায়পালের
প্রভিশন
নেই,
তাই
সেটিকে
বিলোপ
করতে
হবে।
ন্যায়পাল
অফিস
কর
আইনের
সঙ্গে
সংযুক্ত
না
হলে
সংযুক্ত
করে
নিতে
হবে।
না
থাকলে
আইন
সংশোধন
করে
নিতে
হবে।
আইন
করেই
তো
কর
ন্যায়পাল
অফিস
প্রতিষ্ঠিত
হয়েছিল।
এখানে প্রশ্ন
হলো,
কর
ইনসাফ
প্রতিষ্ঠা
না
করলে
কর
আহরণে
উন্নতি
আসবে
না।
কর-জিডিপি
অনুপাতে
বাংলাদেশ
যে
তলানিতে,
তার
কারণটাই
হলো
এভাবে
এ
সমাজে
কর
এড়িয়ে
যাওয়ার
সুযোগ
দেয়া
হয়েছে।
মানে
কাউকে
ট্যাক্স
দিতে
বাধ্য
করা
হচ্ছে
না
বলে
এমনটি
হচ্ছে।
অপ্রদর্শিত
অর্থ
ও
দুনীতিজাত
অর্থ
অর্থনীতির
মূলধারায়
আনার
উদ্যোগ
ইতিবাচক।
কিন্তু
বিশেষ
হ্রাসকৃত
হারে
কর
দিয়ে
এবং
উৎস
নিয়ে
কোনো
প্রশ্ন
করা
যাবে
না,
যেটি
গুরুতরভাবে
প্রশ্নসাপেক্ষ।
কীভাবে
উপার্জিত
হলো,
কীভাবে
এল,
তা
নিয়ে
প্রশ্ন
করা
না
গেলে
তো
সম্পদ
পুনর্বণ্টনের
কাজটি
করা
কঠিন
হবে।
অর্থাৎ
বৈষম্য
উসকে
দেয়া
হবে,
যদি
টাকা
কীভাবে
উপার্জিত
হচ্ছে
তা
নিয়ে
কোনো
ব্যাখ্যা
বা
প্রশ্নের
মাধ্যমে
বাধা
না
দেয়া
হয়,
যদি
স্বচ্ছতা
ও
জবাবদিহিতাকে
নিরুৎসাহিত
করা
হয়।
এর আগে
২০০৭
ও
২০০৮
সালে
প্রযোজ্য
কর
দিয়েই
অপ্রদর্শিত
অর্থ
বৈধ
করার
সুযোগ
দেয়া
হয়েছিল।
সেখানে
জরিমানা
দিয়ে
বৈধ
করার
সুযোগ
দেয়া
হয়েছিল।
জরিমানা
কথাটি
খুব
স্পষ্টভাবে
ছিল।
কেউ
কোনো
প্রশ্ন
করবে
না,
এমন
কথা
বলা
হয়নি।
সে
সময়
সীমিত
সময়
বেঁধে
দেয়া
হয়েছিল।
জুলাই
থেকে
সেপ্টেম্বর,
মাত্র
তিন
মাস।
বলা
হয়েছিল,
এ
সময়ের
পর
অভিযানে
নামা
হবে।
এরপর
যার
কাছে
যা
পাওয়া
যাবে
তার
জন্য
জেল-জরিমানার
ঘোষণাও
ছিল।
তেমনটা
হয়েছিলও।
সামনে
কী
ব্যবস্থা
নেয়া
হবে,
তা
যদি
না
বলা
হয়
এবং
ঢালাওভাবে
দীর্ঘ
সময়
ও
সুযোগ
দেয়া
হয়,
তাহলে
আরো
বেশি
লুটপাট
করে
অনেকেই
ওই
সুযোগ
গ্রহণ
করবে।
এখন
এনবিআরকে
আরো
স্পষ্ট
করতে
হবে,
যারা
দিয়েছেন
তারা
কোন
সময়ের
অর্থ
দিয়েছেন।
আইনে
এমন
ব্যবস্থা
থাকতে
হবে,
ইচ্ছা
করলে
পরবর্তী
সময়ে
ধরা
যাবে।
সবসময়
আইনের
মধ্যে
এ
ধরনের
সুযোগ
থাকে।
সেকথা
আয়কর পরিপত্রে
অল্পবিস্তর
ইশারাও
আছে।
অর্থাৎ
কাউকে
ইচ্ছে
করলে
ধরা
হবে
বা
যাবে।
অপ্রদর্শিত অর্থ
অর্থনীতিতে
আনার
উদ্দেশ্যটা
কী।
উদ্দেশ্য
দুটো।
এক.
কর
আহরণ।
কর
দিয়ে
অর্থটা
অর্থনীতির
মূল
প্রবাহে
আসবে।
এটিই
রাষ্ট্রের
তাত্ক্ষণিক
উদ্দেশ্য।
এখানে
যদি
রাষ্ট্র
ছাড়
দেয়
তাহলে
বিদ্যমান
করদাতাদের
সঙ্গে
একটা
নিরুৎসাহমূলক
পদক্ষেপে
যাবে।
দ্বিতীয়ত.
এ
অর্থ
অর্থনীতিতে
এসে
উৎপাদনমূলক
খাতে
ব্যবহূত
হবে।
এতদিন
এ
টাকাটা
অপ্রদর্শিত
চ্যানেলে
ছিল,
এখন
আনুষ্ঠানিক
ধারায়
আনতে
প্রণোদনা
দেয়া
হচ্ছে।
দুটো
জায়গার
কথা
স্পষ্টভাবে
বলা
হয়েছে।
এক.
পুঁজিবাজারে
এবং
দুই.
রিয়েল
এস্টেট
মার্কেটে।
সবই
কিন্তু
অতীত।
তারা
এরই
মধ্যে
জমিজমা
কিনেছেন
কিংবা
পুঁজিবাজারে
লগ্নি
করেছেন।
তার
মানে
যা
হওয়ার
তা
হয়ে
গেছে।
সেই
টাকা
এখন
রেগুলার
করে
লাভ
কী?
সুতরাং
যে
উদ্দেশ্যে
অপ্রদর্শিত
অর্থ
প্রদর্শিত
করতে
চাইছি,
সেটিতে
সত্যিই
রাষ্ট্রের
উপকার
হবে
কিনা
দেখা
দরকার।
আগের বানানো
বাড়ি
বা
কেনা
জমির
ওপর
যদি
প্রদর্শিত
করার
সুযোগ
দেয়া
হয়,
এক্ষেত্রে
প্রত্যক্ষভাবে
অর্থনীতি
লাভবান
হচ্ছে
না।
শ্রম
নিয়োজনসহ
সবকিছু
আগেই
হয়ে
গেছে।
এখন
তো
কোনো
কিছু
হচ্ছে
না।
এখন
শুধু
হ্রাসকৃত
হারে
করটা
নেয়া
হচ্ছে।
এতেও
খুব
একটা
লাভ
হচ্ছে
না।
আরেকটি
বিষয়
হলো,
১০
শতাংশ
কর
দেয়াসাপেক্ষে
কোনো
প্রশ্ন
না
করে
যদি
সুযোগটা
দেয়া
হয়,
তাহলে
তারা
আবাসন
খাতে
প্রভাব
বিস্তার
করবে।
ধরা
যাক,
৫০
লাখ
টাকার
জমিকে
সে
৬০
লাখ
টাকায়
নিয়ে
যাবে
বা
দেখাবে।
কেননা
তাদের
তো
উচ্চহারে
কর
দিতে
হবে
না
এবং
উৎস
নিয়ে
কোনো
প্রশ্ন
করা
হবে
না।
ফলে
আবাসন
খাতেও
একটা
কৃত্রিম
সংকট
তৈরি
হবে।
একটা
বৈষম্যের
পরিবেশ
তৈরি
হবে।
এ
বৈষম্যের
জেরে
সৎ
করদাতা,
সৎ
ক্রেতার
জন্য
একটা
অসুবিধাজনক
পরিস্থিতি
সৃষ্টি
হবে।
সুতরাং
এমন
খাতে
অপ্রদর্শিত
অর্থ
প্রদর্শিত
করার
সুযোগ
দেয়া
হচ্ছে,
যেখানে
উপকার
তো
হবেই
না,
বরং
বাজার
বিকৃতি
ঘটাবে।
রাষ্ট্র যদি
মনে
করে
অপ্রদর্শিত
অর্থ
অর্থনীতিতে
উপকারে
আসুক,
তাহলে
এমন
সুযোগ
দেয়া
যেতে
পারে।
হাওর
বা
উপকূলীয়
বাঁধ
বা
বড়
অবকাঠামো
প্রকল্প
অর্থের
অভাবে
মাঝপথে
বন্ধ
হয়ে
গেছে,
করোনাকালে
স্বাস্থ্য
ব্যবস্থার
ওপর
চাপ
পড়েছে।
হাসপাতালে
শয্যা
কম।
বিদ্যমান
বরাদ্দও
সরকারি
প্রক্রিয়ায়
তাত্ক্ষণিকভাবে
করা
যাচ্ছে
না,
জনসম্পদ
উন্নয়নে
বিশেষ
প্রশিক্ষণ
প্রতিষ্ঠান
কিংবা
শ্রমঘন
কুটির
শিল্প
উদ্যোগ
গ্রহণে
প্রযোজ্য
কর
দিয়ে
প্রদর্শিত
করা
টাকা
বিনিয়োগের
আহ্বান
জানানো
যায়।
এসব
জনগুরুত্বপূর্ণ
খাতে
বিনিয়োগ
করলে
সরকার
একটা
উৎসাহজনক
প্রণোদনা
বা
কর
প্রত্যর্পণ
ঘোষণা
করবে।
ফলে
উন্নয়নে
ব্যক্তি
খাতের
অংশগ্রহণও
বাড়বে,
বিনিয়োগের
একটা
সুযোগও
তৈরি
হবে।
বিদ্যমান
প্রক্রিয়ায়
প্রকল্পে
যে
দুর্নীতি
হয়,
তা
যদি
প্রণোদনা
আকারে
দিয়ে
দেয়া
হয়,
তাতেও
লাভ।
সুতরাং
এ
ধরনের
সৃজনশীল
চিন্তাভাবনা
করে
অপ্রদর্শিত
অর্থকে
অর্থনীতির
মূলধারায়
আনতে
হবে।
অনেকে মনে করেন,
অপ্রদর্শিত
অর্থ
প্রদর্শিত
করার
সুযোগ
দেয়া
না
হলে
বিদেশে
চলে
যাবে।
এটা
কিছুটা
ঠিক।
করোনা
কিন্তু
কেবল
স্বাস্থ্য
সংকট
হিসেবে
আসেনি;
বরং
এটি
বহু
অনিয়ম,
অবিচার
বাধা
দেয়ার
জন্যও
এসেছে।
একটা
প্রাকৃতিক
সিস্টেমে
সে
এটা
করছে।
যেমন
আমরা
গত
দেড়
বছরে
কী
দেখছি।
কেউ
কিন্তু
এখন
অর্থ
পাচার
করতে
পারছে
না।
কারণ
যে
দেশে
নিয়ে
যাবে,
সেখানেও
পরিস্থিতি
খারাপ।
এরপর
হুন্ডির
ব্যবসা
নেই।
যে
পদ্ধতিতে
অর্থ
পাচার
হয়,
অর্থাৎ
একটা
প্রাকৃতিক
নিয়মে
কিন্তু
অর্থ
পাচার
বাধাগ্রস্ত
হয়েছে।
এ
প্রেক্ষাপটেই অপ্রদর্শিত
অর্থের
মালিকদের
পক্ষ
থেকে
প্রভাব
খাটিয়ে
অপ্রদর্শিত
অর্থ
প্রদর্শিত
করার
সুযোগ
ঘোষিত
হয়েছে।
কেউ
অপ্রদর্শিত
অর্থ
যেভাবেই
অর্জন
করুক
না
কেন,
সে
যদি
ব্যবহার
করতে
না
পারে
(দেশে কিংবা
বিদেশে)
তাহলে
এ
টাকা
তার
কাছে
কোনো
গুরুত্ব
বহন
করে
না।
অতএব,
রাষ্ট্র
কঠোর
ও
অনড়
মনোভাবে
থাকলে
প্রযোজ্য
কর
দিয়েই
আলাদা
বিনিয়োগ
ইনসেনটিভ
ঘোষণার
সুযোগে
সে
সাড়া
দেবেই।
সে
বিচার-বিবেচনায়ও
কর
জাস্টিসের
ব্যত্যয়
ঘটিয়ে
দুর্নীতিজাত
অর্থকে
অ্যামনেস্টি
দেয়ার
মতো
নৈতিকতাবিরোধী
সুযোগ
ঘোষণার
অবকাশ
ছিল
না।
ভারতের কিছু
উদাহরণ
দেয়া
যাক।
১৯৯৭
সালে
ভারত
যখন
‘ভলান্টারি
ডিসক্লোজার
অব
ইনকাম
স্কিম’
(ভিডিআই এস) জারি
করেছিল,
তখন
কম্পট্রোলার
অ্যান্ড
অডিটর
জেনারেল
অব
ইন্ডিয়ার
কড়া
সমালোচনা
করেছিলেন।
সাংবিধানিক
সংস্থাটি
সে
সময়
বলেছিল,
‘এ
সুযোগ
সামাজিক
সভ্যভব্যতার
অপব্যবহার।
ফলে
এর
আড়ালে
অনৈতিকতা,
অর্থ
লোপাট
স্বীকৃতি
পাচ্ছে।’ ২০১৫
সালে
ভারত
‘আনডিসক্লোজড
ফরেন
ইনকাম
অ্যান্ড
অ্যাসেটস
ইমপোজিশন
অব
ট্যাক্স
অ্যাক্ট’
জারি
করেছিল।
বাংলাদেশে
ফরেন
অ্যাসেটস
ডিসক্লোজারের
স্কিম
জারি
করা
বরং
বেশি
প্রয়োজন
ছিল।
ভারতে
১৯৯৭
সালে
৪
লাখ
৭৫
জন
নিজেদের
আয়-সম্পদ
ঘোষণা
করেছিল।
আর
২০১৫
সালে
করেছিল
৬৩৮
জন।
১৯৯৭
সালে
মোট
অর্থ
ডিসক্লোজ
হয়েছিল
৩৩
বিলিয়ন
ডলার
আর
২০১৫
সালে
ডিসক্লোজ
হয়েছিল
৪
বিলিয়নের
মতো।
১৯৯৭
সালে
ভারত
সরকার
রাজস্ব
পেয়েছিল
৯
দশমিক
৮৪
মিলিয়ন
ডলার,
২০১৫
সালে
পেয়েছিল
২
মিলিয়ন।
এখানে
কমপ্লায়েন্স
পিরিয়ড
ছিল
কিন্তু
তিন
মাসের।
জাল
টাকার
বিস্তার
বা
অন্য
কোনো
দুষ্কর্ম
যেন
না
ঘটে,
তার
জন্য
সময়
দিতে
হয়
অল্প।
দুই
মাস
বা
তিন
মাস।
বছরব্যাপী
বা
অবারিত
থাকে
না।
১৯৯৭
সালে
ভারতে
ভিডিআইএসএ
করহার
ছিল
৩৫
শতাংশ।
অর্থাৎ
তখনকার
করপোরেট
করের
চেয়েও
বেশি
এবং
অন্যদের
জন্য
৩০
শতাংশ।
তার
মানে
বিদ্যমান
করহারের
চেয়ে
বেশি
দিতে
হয়েছিল।
এটিই
হলো
পেনাল্টি।
এটিই
হলো
সিস্টেম।
এদিকে
২০১৫
সালে
৩০
শতাংশ
কর
এবং
৩০
শতাংশ
পেনাল্টি
ধরে
দেয়া
হয়েছিল।
কারণ
এটা
না
থাকলে
সৎ
করদাতার
সঙ্গে
যেমন
সাংঘর্ষিক
হয়ে
যায়,
তেমনি
এ
সুযোগ
দেয়ায়
দুষ্কৃতকারীরাও
অপকর্মে
প্রলুব্ধ
হয়।
১৯৯৭
সালে
ভারত
বলেছিল,
ঘোষণা
দিলে
আয়কর
আইন,
সম্পদ
কর
আইন,
ফরেন
এক্সচেঞ্জ
রেগুলেশন
অ্যাক্ট
তিনটি
আইনের
অধীনে
বিচার
প্রক্রিয়া
থেকে
অব্যাহতি
পাবে।
এখানে
কিন্তু
দুর্নীতি
দমন
কমিশন,
অন্য
প্রতিষ্ঠানগুলোর
ব্যাপারে
কিছু
বলা
হয়নি।
পরেরবার
২০১৫
সালে
আয়কর
আইন,
সম্পদ
কর
আইন,
শুল্ক
আইন,
কোম্পানি
অ্যাক্টের
অধীনে
বিচার
প্রক্রিয়া
থেকে
অব্যাহতি
দেয়া
হয়েছিল।
অর্থাৎ
দায়মুক্তি
শুধু
রাজস্ব
অফিসকেন্দ্রিক
বা
এনবিআরকেন্দ্রিক।
কিন্তু
এর
বাইরে
আয়কর
কর্তৃপক্ষসহ
অন্য
কোনো
কর্তৃপক্ষ
কোনো
প্রশ্ন
উত্থাপন
করবে
না,
এটা
বলার
আইনগত
সুযোগ
সহজসাধ্য
নয়
এবং
অনুচিতও
বটে।
করারোপ
করা
এবং
কর
মওকুফের
এখতিয়ার
সংসদের
রয়েছে
ঠিকই।
কর
আরোপের
ক্ষেত্রে
যেমন
রাষ্ট্রের
স্বার্থ
দেখতে
হবে,
তেমনি
কর
মওকুফের
ক্ষেত্রেও
রাষ্ট্রের
স্বার্থটা
দেখতে
হবে।
এবারো
অপ্রদর্শিত
অর্থ
প্রদর্শিত
করার
সুযোগ
রাখা
হচ্ছে
বলে
আভাস
মিলছে।
বিষয়গুলো
সামগ্রিক
প্রেক্ষাপট
থেকে
দেখা
জরুরি।
ড. মোহাম্মদ আবদুল
মজিদ: সরকারের সাবেক
সচিব
এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান










