বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট
উদীয়মান
বাংলাদেশের
জন্য
সামনে
কিছু
ভালো,
কিছু
খারাপ
সময়
অপেক্ষা
করছে।
বর্তমানে
আমরা
আন্তর্জাতিক
সংবাদমাধ্যমে
ভালো
ও
মন্দ
খবরের
একটা
সম্মিলিত
পরিব্যাপ্তি
দেখছি।
বিশ্বব্যাপী
সেগুলোর
প্রলম্বিত
অর্থনৈতিক
প্রভাবের
কথাও
বারবার
উঠে
আসছে।
বিবর্তনশীল
এ
বৈশ্বিক
দৃশ্যপট
থেকে
বাংলাদেশ
অর্থনীতি
কি
মুক্ত
থাকতে
পারবে?
এখন
চলছে
বাজেট
মৌসুম।
স্বাভাবিকভাবে
আসন্ন
বাজেট
বৈশ্বিক
ভূরাজনৈতিক
ও
ভূ-অর্থনৈতিক
প্রভাবের
বিষয়টি
এড়াতে
পারবে
না।
সুতরাং
জাতীয়
পর্যায়ে
বৈশ্বিক
ঘটনাপ্রবাহগুলো
ব্যাপক
আলোচনা
ও
নীতি
পদক্ষেপ
দাবি
করে।
অবস্থাদৃষ্টে
মনে
হচ্ছে,
আগামী
বাজেটে
গতানুগতিক
(বিজনেস অ্যাজ
ইউজুয়াল)
উদ্যোগ
বা
অবস্থান
নেয়া
মোটেই
উচিত
হবে
না।
উল্লেখ
করা
দরকার,
বৈশ্বিক
অধোগতি
অবশ্য
আমাদের
রফতানিতে
এখনো
প্রভাব
ফেলেনি।
বছরভিত্তিক
হিসাবে
রফতানি
৩৫
শতাংশের
ওপরে
উন্নীত
হয়েছে
এবং
আশা
করা
হচ্ছে
চলতি
বছর
শেষে
আরো
বাড়বে।
চলতি
বছর
আমদানি
(৪৬ শতাংশ)
আরো
দ্রুত
বাড়ছে।
এটা
মহামারী
উত্তর
জোরালো
অর্থনৈতিক
পুনরুদ্ধারেরও
সংকেত,
যেহেতু
আমাদের
আমদানি
ঝুড়ির
৭৫
শতাংশের
মধ্যে
রয়েছে
কাঁচামাল,
মধ্যবর্তী
পণ্য
ও
মূলধনি
যন্ত্রপাতি।
এসব
পণ্য
অর্থনীতির
উৎপাদিকা
খাতে
কাজে
লাগে।
তবে
রেমিট্যান্সপ্রবাহ
কমার
দিকে।
বছর
শেষে
আনুষ্ঠানিক
রেমিট্যান্সের
পরিসংখ্যানে
২
শতাংশ
কমার
বিষয়টি
সুস্পষ্টভাবে
ইঙ্গিত
দেয়
যে
রেমিট্যান্স
প্রেরণকারীরা
আরো
লাভজনক
অনানুষ্ঠানিক
চ্যানেল
বেছে
নিচ্ছেন।
অনানুষ্ঠানিক
চ্যানেলগুলোর
বিনিময়
হারের
অফার
আন্তঃব্যাংক
হারের
চেয়ে
তাত্পর্যজনকভাবে
বেশি।
এদিকে
দুই
বছরের
মহামারীতে
বৈশ্বিক
সরবরাহ
ব্যবস্থা
ব্যাহত
হয়েছে।
এখন
রাশিয়া-ইউক্রেন
যুদ্ধ
আরো
বিরূপ
প্রভাব
ফেলেছে।
ফলে
একদিকে
বাণিজ্য
ও
উৎপাদনে
বড়
অভিঘাত
পড়েছে,
অন্যদিকে
ক্রমে
বেড়ে
চলছে
মূল্যস্ফীতি।
বিশ্বব্যাপী
খাদ্য
ও
জ্বালানির
দাম
ঊর্ধ্বমুখী।
বর্তমানে
যুক্তরাষ্ট্র
ও
ইউরোজোনে
প্রায়
৭-৮
শতাংশ
মূল্যস্ফীতি।
স্ট্যাগফ্লেশনের
ভূত
বিশ্ব
অর্থনীতিতে
চেপে
বসেছে।
সম্ভবত
১৯৭০-এর
দশকের
মূল্যস্ফীতি-বেকারত্ব
ধরনের
চেয়ে
বর্তমান
পরিস্থিতি
কিছুটা
ভিন্নতর।
যুক্তরাষ্ট্রে
বেকারত্ব
কেবল
৩
দশমিক
৬
শতাংশ
হলেও
মূল্যস্ফীতি
৭
দশমিক
৫
শতাংশ
অতিক্রম
করেছে।
এসব
ঘটনাপ্রবাহ
থেকে
বাংলাদেশও
মুক্ত
থাকতে
পারবে
না।
আমাদের
দেশে
নিত্যপণ্যের
দাম
বাড়ছে।
এ
মূল্যবৃদ্ধি
অনেকটাই
আমদানীকৃত
মূল্যস্ফীতির
কারণে।
বিশ্লেষণে
আমি
দেখাব
যে
সবটাই
বাংলাদেশ
অর্থনীতির
জন্য
ক্ষতিকর
হবে
না।
বৈশ্বিক
ঘটনাপ্রবাহ
থেকে
একটি
পরিষ্কার
বার্তা
উঠে
আসছে
যে
তথাকথিত
শীতল
যুদ্ধোত্তর
‘পিস ডিভিডেন্ড’
শেষ
হয়েছে।
চলমান
ইউরোপীয়
সংঘাতের
ছাইভস্ম
থেকে
সম্ভবত
নতুন
ভূরাজনৈতিক
ব্যবস্থা
আবির্ভূত
হবে,
যা
চূড়ান্তভাবে
নীতিভিত্তিক
ব্রেটন
উডস
ভূ-অর্থনৈতিক
ব্যবস্থাকে
পুনর্বিন্যাসের
হুমকিতে
ফেলবে।
এরই
মধ্যে
বাণিজ্য
ও
প্রযুক্তিকেন্দ্রিক
মার্কিন-চীনের
মধ্যকার
উত্তেজনা
নীতিভিত্তিক
বাণিজ্য
ব্যবস্থার
ওপর
বড়
আঘাত
হেনেছে।
আমরা
দেখছি
বিশ্বায়নের
বিরুদ্ধে
জনতুষ্টবাদী
নেতাদের
প্রকাশ্য
বিরোধিতা
উন্নত
অনেক
দেশে
ভিত্তি
পাচ্ছে।
ফলে
একটি
উন্মুক্ত
ও
প্রতিযোগিতামূলক
বৈশ্বিক
চাহিদার
বিপরীতে
জাতিরাষ্ট্র
শক্তিশালী
হওয়ার
নজির
আবারো
দেখা
যাচ্ছে।
সুরক্ষাবাদী
প্রবণতাগুলো
আবারো
বাড়ছে।
আমাদের
মতো
উন্নয়নশীল
অর্থনীতিগুলো
ব্রেটন
উডস
বাণিজ্য
ব্যবস্থা
থেকে
ব্যাপকভাবে
সুফল
পেয়েছিল।
আমরা
মনে
করি
যে
এ
ব্যবস্থাকে
কেন্দ্র
করে
বিশ্ব
অর্থনীতি
অনেকটা
এগিয়েছে,
৭০
বছরের
বেশি
সময়ের
বাণিজ্য
উন্মুক্ততা
থেকে
আয়
ও
কর্মসংস্থানে
বিপুল
প্রবৃদ্ধি
অর্জিত
হয়েছে
এবং
বিশ্বের
বড়
অর্থনীতিগুলোর
বাজার
প্রবেশাধিকার
বিবেচনায়
একটি
শক্তিশালী
ম্যানুফ্যাকচারিং
রফতানি
ভিত্তির
উন্নয়ন
ঘটেছে।
দ্বিতীয়
বিশ্ব
যুদ্ধোত্তর
বিশ্ববাণিজ্য
ব্যবস্থায়
নিহিত
‘উদার’ মূলনীতির
বিপরীত
অবস্থান
নেয়ার
মাধ্যমে
ওইসব
সুফল
বিসর্জন
দিতে
পারি
না।
দেয়া
উচিতও
নয়।
১৯৩০-এর
দশকের
মহামন্দার
সময়কার
পাল্টামুখী
শুল্কের
ভুল
পুনরাবৃত্তি
না
করা
থেকে
বিশ্ব
সম্প্রদায়
অনেক
শিখেছে।
বিশ্বনেতাদের
মাধ্যমে
নতুন
একটি
বিশ্বব্যবস্থা
গড়ে
ওঠে।
আমাদের
আশা
যে
অতীত
অর্থনৈতিক
ইতিহাস
পুনরাবৃত্তি
না
করা
থেকে
বিশ্ব
প্রচুর
শিক্ষা
লাভ
করেছে।
জাতীয় প্রেক্ষাপট
এখন বাজেট
মৌসুম
চলছে।
আসন্ন
বাজেটে
অগ্রাধিকার
ভিত্তিতে
অবশ্যই
অন্তত
তিনটি
আন্তঃসংযুক্ত
ইস্যুর
প্রতি
নজর
দিতে
হবে।
এর
কিছুটা
বাজেট
নীতি
বিবৃতি
থেকে
আসতে
পারে,
বাকিটা
হতে
পারে
বাজেট
বাস্তবায়নের
অংশ।
প্রথমত, চলতি
বছর
৪৬
শতাংশের
বেশি
আমদানি
উল্লম্ফনের
একটা
সমস্যা
আছে।
অনুমান
করি,
এটা
টাকার
বিনিময়
হার
অবমূল্যায়নের
চাপ
সৃষ্টি
করেছে।
যদিও
আশা
করা
হচ্ছে,
২০২২
অর্থবছর
শেষে
চলতি
হিসাবে
ঘাটতি
জিডিপির
২
দশমিক
৫
শতাংশের
একটা
টেকসই
মাত্রার
মধ্যে
রাখতে
রফতানি
ও
রেমিট্যান্সের
আন্তঃপ্রবাহ
স্থিতিশীল
থাকবে।
নামিক
বিনিময়
হার
বৈদেশিক
মুদ্রার
মূল্য
ছাড়া
আর
কিছু
নয়
এবং
আমদানি
প্রবাহ
সামলানো
এটি
একটি
বড়
হাতিয়ার।
অবমূল্যায়ন
আমদানি
মূল্য
বাড়াবে,
কমাবে
আমদানি,
অন্যদিকে
চাঙ্গা
করবে
রফতানি।
আবার
অতিমূল্যায়ন
করবে
তার
উল্টোটা,
তাত্ক্ষণিকভাবে
নয়,
ধীরে
ধীরে।
তাত্ত্বিকভাবে
বিনিময়
হারের
নমনীয়তা
লেনদেন
ভারসাম্যের
(বিওপি) স্থিতিশীলতা
নিশ্চিত
করে।
সুতরাং
বিনিময়
হার
নমনীয়তায়
কী
কৌশল
নেয়া
যুক্তিসংগত
হতে
পারে,
সেটি
ভেবে
দেখতে
হবে।
বাংলাদেশের
ক্ষেত্রে
পুরোপুরি
ভাসমান
বিনিময়
হার
নীতি
বছরের
পর
বছর
বজায়
রাখাটা
কোনো
জুতসই
অবস্থান
হতে
পারে
না—এমনকি
যদিও
২০০৪
সাল
থেকে
এটিই
আনুষ্ঠানিক
বিনিময়
হার
ব্যবস্থা
হিসেবে
বিবেচিত।
একটি
ম্যানেজড
ফ্লোট
হলো
তাই,
যাতে
আমরা
অভ্যস্ত।
তবে
স্বল্পমেয়াদে
রফতানি
ও
রেমিট্যান্স
আয়ের
বিপরীতে
আমদানি
উল্লম্ফনের
কারণে
বৈদেশিক
মুদ্রাবাজারে
বিপুল
চাপ
সৃষ্টি
হয়েছে।
ফলে
আন্তঃব্যাংক
ও
খোলাবাজারের
(সরবরাহের বিপরীতে
বাড়তি
চাহিদা)
ব্যবধান
৭-৮
শতাংশ
বেড়ে
গেছে।
এ
অবস্থায়
এ
নিবন্ধ
লেখার
সময়
পর্যন্ত
ডলারের
বিপরীতে
টাকার
বিনিময়
হার
৮৫
দশমিক
৫
পয়সায়
স্থিতিশীল
রাখতে
রিজার্ভ
(সঞ্চিতি কমার সম্ভাব্য
কারণ)
থেকে
বাংলাদেশ
ব্যাংক
ডলার
বিক্রয়
করছে।
চলতি
শতকের
শূন্য
দশকের
প্রথম
দিকে
চূড়ান্তভাবে
বাতিল
হওয়া
কোয়ান্টেটেটিভ
রেস্ট্রিকশন
(কিউআর) ব্যবস্থার
অনুপস্থিতিতে
আনুষ্ঠানিক
রিজার্ভ
বর্তমানে
পরিমিত
পর্যায়ে
রাখতে
এবং
আরো
অবনমন
প্রতিরোধ
করতে
বাংলাদেশ
ব্যাংক
প্রশাসনিক
ব্যবস্থার
(যেমন এলসি
করতে
উচ্চ
মার্জিনের
শর্ত)
মাধ্যমে
চেষ্টা
করছে।
এটি
একটি
সঠিক
নির্দেশনার
পদক্ষেপ।
তবে
এ
প্রচেষ্টা
যথেষ্ট
নয়
এবং
এরই
মধ্যে
অনেক
দেরিও
হয়ে
গেছে।
আমরা
মনে
করি,
ভালো
অপশন
হবে
নামিক
বিনিময়
হারে
নমনীয়তা
বজায়
রাখা।
যার
মানে
দাঁড়ায়
আগামী
কয়েক
মাস
পর্যন্ত
আরো
৪-৫
শতাংশ
টাকার
অবমূল্যায়ন
করা।
প্রক্রিয়াটি
সম্ভবত
বাংলাদেশ
ব্যাংক
এরই
মধ্যে
শুরু
করেছে
এবং
এটি
অব্যাহত
রাখার
পরামর্শ
থাকবে।
গবেষণার
তথ্য
বলছে,
অবমূল্যায়িত
বিনিময়
হার
পণ্য
ও
ফ্যাক্টর
সার্ভিস
(রেমিট্যান্স) রফতানির
জন্য
শক্তিশালী
সমর্থন।
সাধারণ
পাঠকদের
জ্ঞাতার্থে
বলব,
বিনিময়
হারে
৫
শতাংশ
অবনমন
রফতানি
ও
রেমিট্যান্সে
৫
শতাংশ
নগদ
সহায়তা
দেয়ার
সমতুল্য,
যা
রাষ্ট্রীয়
কোষাগার
থেকে
দিতে
হয়
না।
তবে
বিনিময়
হার
অবচয়নজনিত
দামের
প্রভাব
মূল্যস্ফীতিমূলক
হতে
পারে।
দ্বিতীয়ত, মূল্যস্ফীতির সমস্যা এখন একটি বৈশ্বিক ইস্যু। সর্বসাম্প্রতিক হিসাবে সাধারণ মূল্যস্ফীতি ৬ দশমিক ২ শতাংশ, যদিও প্রকৃত মূল্যস্ফীতি তাত্পর্যজনকভাবে অনেক বেশি। বিশেষ করে দরিদ্রদের আয় নিঃশেষ হওয়া ঠেকাতে এ সমস্যা দ্রুত সমাধান করতে হবে, যারা মূল্যস্ফীতির সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী এবং যারা এরই মধ্যে মহামারীর কারণে আয় অনেক হারিয়েছে। এখানে আবারো সমস্যার উৎস যদি আমদানিজনিত মূল্যস্ফীতি হয়, তাহলে এ সমস্যা কার্যকরভাবে সমাধান করা যায় কেবল উৎসেই। বাজার অর্থনীতির মৌলিক নীতিগুলো বলে যে অভিযানের মতো দমনমূলক পদক্ষেপে নিত্য দাম কমে আসে না এবং এ ধরনের পদক্ষেপগুলো বরং মজুদ বাড়িয়ে দেয়, সরবরাহ আরো ব্যাহত করে। এখানে সমাধান হলো বাজারে সরবরাহ বাড়ানো, অভিযানের মাধ্যমে এটি আরো কমানো নয়। যদি পাম ও সয়াবিন তেলের মতো কিছু ভোগ্যপণ্য আমদানি করা হয়, সেগুলোর দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে দুটি বিষয় নিশ্চিত করতে হবে। এক. আমদানি থেকে সরবরাহ বাড়াতে জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে। দুই. জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে অপরিশোধিত ও পরিশোধন করা তেল উভয়ের ক্ষেত্রে সাময়িকভাবে শুল্ক তুলে দিতে হবে কিংবা লক্ষণীয় হারে কমাতে হবে। সরবরাহ উৎসাহিত করতে অন্য ভোগ্যপণ্যের ক্ষেত্রেও শুল্ক কমানোর উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে।
তৃতীয়ত, আগের
যেকোনো
সময়ের
চেয়ে
আমাদের
এখন
শুল্ক
যৌক্তিকীকরণের
ঝুলে
থাকা
ইস্যুটি
সমাধান
করতে
হবে।
২০২৬
সালে
এলডিসি
উত্তরণের
প্রস্তুতির
অংশ
হিসেবে
শুধু
নয়,
আরো
অনেক
কারণে
এটি
করতে
হবে।
যথাযথভাবে
করা
গেলে
এটি
হবে
ভোগ্যপণ্যের
অভ্যন্তরীণ
দাম
কমাতে
সবচেয়ে
কার্যকর
হাতিয়ার।
একই
সঙ্গে
এটি
বাণিজ্যনীতির
রফতানিবিরোধী
পক্ষপাতিত্ব
নির্মূলের
অনন্য
বাংলাদেশী
পরিস্থিতিরও
হাতিয়ার
হবে,
যা
রফতানি
বহুমুখীকরণ
ব্যাহত
করছে।
তবে
প্রথম
বিষয়টি
প্রথমে
করতে
হবে।
আমাদের
অত্যাবশ্যকীয়
ভোক্তা
আইটেম
হলো
ভোজ্যতেল—সয়াবিন
ও
পাম
তেল।
এসব
পণ্যের
আন্তর্জাতিক
দাম
এখন
কিছুটা
কমেছে,
যা
এখনো
অভ্যন্তরীণ
বাজারে
সমন্বয়
করা
হয়নি।
তবে
সয়াবিন
ও
পাম
তেলের
শুল্ক
কমানো
হয়েছে
এ
আশায়
যে
অভ্যন্তরীণ
দাম
সহনীয়
হবে।
কিন্তু
আমরা
দেখেছি
কমার
পরিবর্তে
স্থানীয়
বাজারদর
আকাশচুম্বী
হয়েছে
এবং
এখন
মজুদদারদের
বিরুদ্ধে
তথাকথিত
অভিযান
চলছে।
কেন
তাহলে
শুল্ক
ছাড়
কাজ
করছে
না?
এখানে
সয়াবিন
ও
পাম
তেলের
শুল্ক
কাঠামোর
সহজ
পর্যালোচনা
তুলে
ধরা
যাক।
সারণি-১ দ্রষ্টব্য।
নমনীয়
সুরক্ষা
হার
হলো
তা-ই,
যা
বাজারমূল্য
প্রভাবিত
করে।
যদিও
উভয়
পরিশোধিত
সয়াবিন
ও
পাম
তেলের
ক্ষেত্রে
সিডি
= শূন্য, এটিই
অভ্যন্তরীণ
ভ্যাট
শূন্য
নির্ধারণ
করছে,
অন্যদিকে
আমদানি
ভ্যাট
১৫
শতাংশ
নির্ধারণ
করছে।
যা
এনপিআর
১৫
শতাংশসহ
বাজারমূল্য
বাড়াচ্ছে।
পরিশোধন
প্রক্রিয়ায়
মূল্য
সংযোজনের
ক্ষেত্রে
বিবেচিত
কার্যকর
সুরক্ষা
হার
(ইআরপি লাভযোগ্যতার
অন্যতম
মাপকাঠি)
১৫
শতাংশের
চেয়ে
লক্ষণীয়ভাবে
বেশি।
কেননা
ভোজ্যতেল
পরিশোধন
একটি
নিম্নমূল্য
সংযোজনের
কাজ
এবং
ইআরপি
হলো
মূল্য
সংযোজনের
ইনভার্স
ফাংশন।
আসন্ন
বাজেটে
ভ্যাট
বাণিজ্যনিরপেক্ষ
করতে
হবে।
এক্ষেত্রে
পণ্যের
দাম
সহনীয়
রাখতে
আমদানি
ও
অভ্যন্তরীণ
ভ্যাট
শূন্য
নির্ধারণ
করলে
এনপিআর
শূন্য
হবে।
তখন
সামান্য
বেড়ে
অভ্যন্তরীণ
দাম
আন্তর্জাতিক
বাজারের
প্রতিফলন
ঘটাবে;
যদি
না
সরকার
সাবসিডিয়াইজ
করতে
চায়।
আমি
মনে
করি,
এটা
নতুন
একটা
পেন্ডোরা
বাক্স
উন্মোচন
করবে।
অবশ্যই
ভোজ্যতেলে
সার্বিক
বাণিজ্য
করের
অংশ
হিসেবে
এখানে
অগ্রিম
আয়কর
(এআইটি) ও
অগ্রিম
ভ্যাটেরও
(এভি) একটা
বিষয়
আছে।
চতুর্থত, শুল্ক
যৌক্তিকীকরণের
ইস্যু।
সন্দেহ
নেই,
চলতি
অর্থবছর
বাংলাদেশের
অর্থনীতি
মহামারী-উত্তর
জোরালো
পুনরুদ্ধারের
পথে
আছে।
পোশাক
ও
পোশাকবহির্ভূত
পণ্যের
রফতানি
বাড়ানো
এবং
রফতানি
চালক
আরো
সচল
করে
এ
ধারা
সামনের
বছরগুলোয়
অব্যাহত
রাখতে
হবে।
বিশ্ববাজার
ধরতে
আমাদের
আরো
সুযোগ
আছে।
রাশিয়া-ইউক্রেন
যুদ্ধ
এবং
যুক্তরাষ্ট্র-চীনের
বাণিজ্য
বিরোধসহ
আরো
কিছু
ঘটনাপ্রবাহ
বাংলাদেশের
রফতানি
খাতের
জন্য
(পণ্য ও
ফ্যাক্টর
সার্ভিস)
অপূর্ব
সুযোগ
তৈরি
হয়েছে।
আসন্ন
বাজেটে
বিশ্ববাজারে
তৈরি
হওয়া
সুযোগ
ধরতে
অবশ্যই
জুতসই
কৌশল
নিতে
হবে।
সংবাদমাধ্যমের
প্রতিবেদনে
এসেছে
খুব
জরুরি
ভিত্তিতে
সরকার
শুল্ক
যৌক্তিকীকরণের
বিষয়টি
নিয়েছে
এবং
সংশ্লিষ্ট
মন্ত্রণালয়গুলো
এ
সম্পর্কে
কাজ
করছে।
সম্ভবত
আসন্ন
বাজেটে
আমরা
এর
কিছু
ফল
দেখব।
সত্যি
বলতে
কি,
সাম্প্রতিক
সময়ে
বিশ্ব
অর্থনীতি
বড়
গোলযোগের
মধ্যে
পড়েছে,
যা
দীর্ঘস্থায়ী
হতে
পারে।
তবে
পোশাকের
বাজার
সংকুচিত
হবে
না,
যতদূর
দেখতে
পাচ্ছি।
কাজেই
অন্য
শ্রমনিবিড়
ম্যানুফ্যাকচারিংয়ে
আমাদের
নজর
দিতে
হবে।
বিশ্ববাজারে
এসব
খাতে
আমাদের
বাজার
অংশ
এখনো
খুব
সামান্য
(১ শতাংশেরও
বেশ
নিচে)।
এটা
ইঙ্গিত
দেয়
যে
পাদুকা,
ইলেকট্রনিকস,
প্লাস্টিক,
সিরামিক
ও
বিশেষায়িত
টেক্সটাইলের
মতো
পোশাকবহির্ভূত
রফতানি
পণ্যের
অপূর্ব
সুযোগ
রয়েছে।
তেলের
দাম
বাড়ার
সঙ্গে
আগামী
কয়েক
বছর
আমাদের
অভিবাসী
শ্রমিকের
চাহিদা
থাকবে।
কোষাগার
থেকে
আড়াই
শতাংশ
নগদ
সহায়তার
চেয়ে
আমাদের
প্রবাসীদের
জন্য
একটা
প্রণোদিত
বিনিময়
হার
প্রয়োজন।
অতীতে
পিআরআইয়ের
গবেষণায়
রফতানি
বহুমুখীকরণের
আমাদের
লক্ষ্য
এবং
আমদানি
বিকল্প
শিল্প
থেকে
অভ্যন্তরীণ
বিক্রয়ে
উচ্চ
শুল্ক
সুরক্ষার
মধ্যকার
স্ববিরোধ
উন্মোচিত
হয়েছে।
বিদ্যমান
শুল্ক
ব্যবস্থায়
রফতানি
বহুমুখীকরণ
ঠিক
গতি
পাচ্ছে
না।
এদিকে
এখনই
মনোযোগ
দিতে
হবে
এবং
আসন্ন
বাজেটে
সেটি
সহজেই
করা
যায়।
সুযোগটা
একটু
বর্ণনা
করা
যাক।
বাংলাদেশের
মতো
দ্রুত
বর্ধনশীল
অর্থনীতি,
যেটি
এলডিসি
থেকে
উত্তরণের
পথে
রয়েছে,
তার
জন্য
বিদ্যমান
শুল্ক
কাঠামো
বৈশ্বিক
শুল্ক
দৃশ্যপটের
প্রেক্ষাপটে
বলতে
গেলে
আউটলাইনার।
২০২২
সালে
অর্থবছরে
আমাদের
গড়
নামিক
শুল্ক
২৭
শতাংশ,
যা
নিম্ন
আয়ের
দেশগুলো
(১১ শতাংশ),
নিম্নমধ্যম
আয়ের
দেশ
(৭ দশমিক
২
শতাংশ), উচ্চমধ্যম
আয়ের
দেশ
(৩ দশমিক
৭
শতাংশ)
এবং
বৈশ্বিক
গড়ের
(৬ শতাংশ)
চেয়ে
অনেক
বেশি।
সমস্যা
হলো,
আমাদের
শুল্ক
কাঠামো রফতানিমুখী
অন্তর্ভুক্তিমূলক
প্রবৃদ্ধির
জাতীয়
লক্ষ্য
ও
রফতানি
বহুমুখীকরণের
সঙ্গে
সাংঘর্ষিক।
পিআরআইয়ের
গবেষণায়
উঠে
এসেছে
আমাদের
বিদ্যমান
সুরক্ষামূলক
শুল্ক
কাঠামো
রফতানির
চেয়ে
অভ্যন্তরীণ
বিক্রয়
বেশি
লাভজনক
করে
তোলে।
বিশেষ
করে
পোশাকবহির্ভূত
পণ্যের
রফতানিকারকদের
জন্য
রফতানি
বহুমুখীকরণ
এর
মূল
কারিগর।
বোধগম্য
কারণেই
অতীতে
রাজস্ব
হারানোর
যুক্তিতে
শুল্ক
হ্রাসের
বিরুদ্ধে
জোরালো
বিরোধিতা
করা
হয়েছে।
কিন্তু
এখানেই
বর্তমান
ও
আসন্ন
অর্থবছরের
জন্য
সুযোগ!
আমদানি
ও
রফতানি
ঠিক
দুই
অংকে
উন্নীত
হয়ে
যথাক্রমে
৪৬
ও
৩৫
শতাংশে
দাঁড়িয়েছে।
শুল্ক
অব্যাহতিসহ
শুল্ক
বিভাগ
রাজস্ব
হিসেবে
আনুমানিক
১৬-১৭
শতাংশের
আমদানি
মূল্য
সংগ্রহ
করে।
সেই
রাজস্ব
অন্তত
৪৫
শতাংশ
বাড়ানো
যাবে,
বছর
শেষে
২০২২
অর্থবছরে
যা
১৪
দশমিক
৪
বিলিয়ন
ডলার
(১২৪ দশমিক
৯
বিলিয়ন
টাকা)
দাঁড়াবে।
৩-৫
শতাংশের
বিনিময়
হারের
অবচয়ন
যোগ
হলে
তা
আমদানি
মূল্য
আরো
বাড়াবে
এবং
সে
অনুপাতে
বাড়তি
রাজস্বও
বাড়বে।
এটা
রাজস্ব
হারানো
বা
সুরক্ষা
ছাড়াই
একটা
সুবর্ণ
সুযোগ
হাজির
করে
বৈকি।
কাজেই
সহজেই
নিয়ন্ত্রণমূলক
শুল্ক
(আরডি) সহজেই
কমানো
যাবে
কিংবা
২৫
শতাংশের
সিডি,
যেটি
২০০৪
থেকে
এক
জায়গায়
স্থবির
হয়ে
আছে,
কোনো
রাজস্ব
হারানো
ছাড়াই
২-৩
শতাংশীয়
পয়েন্ট
নামিয়ে
আনা
যায়।
প্রকৃতপক্ষে
যারা
মনে
করে
অভ্যন্তরীণ
বিক্রয়
থেকে
তারা
মুনাফা
হারাতে
পারে,
তাদের
জানা
উচিত
৩-৫
শতাংশের
বিনিময়
হারের
অবচয়ন
গড়
নামিক
সুরক্ষার
সামান্য
হ্রাস
পোষাতে
পারবে।
আরো
গুরুত্বপূর্ণ
বিষয়,
ভোক্তাপণ্যের
দাম
স্থিতিশীল
রাখতে
শুল্ক
হ্রাস
বিনিময়
হার
অবচয়নের
মূল্যস্ফীতিমূলক
প্রভাব
প্রশমন
করবে।
অর্থনীতির
স্বার্থে
শুল্ক
যৌক্তিকীকরণ
সম্পর্কে
আরো
গভীর
চিন্তার
এখনই
সময়
ও
সুযোগ।
এতে
প্রতিযোগিতামূলক
মার্কেটপ্লেসে
আমাদের
কর্মী
ও
উদ্যোক্তারা
যে
বেশি
পরিশ্রমী
ও
উদ্ভাবনী,
সেটি
আবারো
প্রমাণ
হবে।
শুল্ক
সম্পর্কিত
অদূরদর্শিতা
(ট্যারিফ ফুলিজ)
দিয়ে
তাদের
পিছিয়ে
রাখতে
পারে
না
এবং
রাখা
উচিতও
নয়।
সর্বোপরি,
বৈশ্বিক
অর্থনীতির
সংকট
সত্ত্বেও
বাংলাদেশের
অর্থনীতি
মনে
হয়
সম্পূর্ণ
ভিন্ন
ধরনের
পরিস্থিতি
মোকাবেলা
করবে।
পণ্যের
দাম
ঊর্ধ্বমুখী,
কাজেই
সব
ক্ষেত্রে অন্তত
চলতি
ও
আগামী
অর্থবছরে
অর্থনীতিকে
চাঙ্গা
রাখতে
আমদানি-রফতানি
জোরালো
অর্থনৈতিক
পুনরুদ্ধারে
সহায়তা
করবে।
আমরা
আশাবাদী
যে
আসন্ন
বাজেট
মোমেন্টাম
সামনে
এগিয়ে
নেবে।
ড. জাঈদী সাত্তার: চেয়ারম্যান, পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআরআই)










