বিশ্বজুড়ে কয়েক দশক ধরে চলা প্রচলিত ধারণা ছিল, অর্থনীতিকে বড় করতে পারলেই দিনশেষে শ্রমিকের ভাগ্যোন্নয়ন ঘটবে। বিনিয়োগ বাড়লে উৎপাদনশীলতা বাড়বে, আর তাতে মজুরি বাড়বে এবং সুবিধা ছড়িয়ে পড়বে গোটা অর্থনীতিতে। কিন্তু ১৯৭০-এর দশকের পর থেকে বিশ্বজুড়ে শ্রম আয়ের অংশ কমতে শুরু করার মধ্য দিয়ে এ গতিধারা দুর্বল হয়ে পড়ে, যা আশির দশকের পর আরো স্পষ্ট হয়। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) তথ্যমতে, ২০০৪-২৪ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে প্রতি ঘণ্টায় শ্রম উৎপাদনশীলতা ৫৮ শতাংশ বাড়লেও শ্রমের আয় বেড়েছে ৫৩ শতাংশ।

এ বৈষম্য বাড়ার পেছনে প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ, বিশ্বায়ন এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চরিত্রগত পরিবর্তন মূল ভূমিকা পালন করছে। অটোমেশন, সফটওয়্যার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) কল্যাণে একই সংখ্যক শ্রমিক দিয়ে আগের চেয়ে অনেক বেশি উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে, তবে সেই বাড়তি লাভের সিংহভাগ চলে যাচ্ছে পুঁজির মালিক ও সামান্য কিছু উচ্চ দক্ষ কর্মী বা প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানের পকেটে। আবার বিশ্বায়নের ফলে সার্বিক উৎপাদন ও বাজার বড় হলেও শ্রমিকদের মধ্যে প্রতিযোগিতাও বহুগুণ বেড়েছে। ফলে জিডিপি বাড়লেও এবং উৎপাদনশীলতা নতুন উচ্চতায় পৌঁছালেও বিশ্বব্যাপী সেই বাড়তি মূল্য সৃষ্টির সুবিধার একটি বড় অংশ সার্বিক মজুরি বৃদ্ধিতে রূপ না নিয়ে মুনাফা ও মূলধনের পুঞ্জীভূত আয়ে পরিণত হচ্ছে।

[ইকোনমিকস মিডল ইস্ট থেকে সংক্ষেপিত]

ক্রিশ্চিনা টিয়ালডি: অধ্যাপক, অর্থনীতি, হেরিওট-ওয়াট ইউনিভার্সিটি