স্যার ফজলে
হাসান
আবেদ
দেশের
উন্নয়ন
জগতের
একজন
আলোকবর্তিকা।
দুই
বছর
আগে
তিনি
চলে
গেছেন
না
ফেরার
দেশে।
তার
প্রতি
শ্রদ্ধাঞ্জলি
নিবেদন
করছি।
তিনি
ছিলেন
একজন
ক্ষণজন্মা
ব্যক্তিত্ব।
আমরা
খুব
কমই
এমন
একজন
মানুষের
দেখা
পেয়েছি।
নিজেকে
সৌভাগ্যবান
মনে
করি
যে
তার
সঙ্গে
শুধু
দেখা
নয়,
কাজ
করার
সুযোগ
হয়েছে
দীর্ঘ
৩০
বছর।
আমি
কখনো
তার
প্রতিষ্ঠিত
বিশ্বব্যাপী
সুনাম
কুড়ানো
ব্র্যাকের
কর্মী
হিসেবে
কাজ
করিনি।
তবু
তার
সহযোগী,
সহকর্মী
হিসেবে
কাজ
করেছি।
কারণ
উন্নয়ন
জগতে
কাজ
করতে
গেলে
স্যার
আবেদের
মতো
বটবৃক্ষের
সান্নিধ্যে
না
এলে
বোঝা
মুশকিল
ছিল
উন্নয়ন
কাকে
বলে,
কাদের
জন্য
উন্নয়ন
এবং
কেনইবা
উন্নয়ন।
এ
জায়গাটাতে
তিনি
ছিলেন
অনন্য।
আজকে দেখতে
পাচ্ছি,
গত
৫০
বছরে
বাংলাদেশের
অনেক
অর্জন,
অনেক
অগ্রগতি
হয়েছে।
ব্যবসায়ী,
প্রশাসক-আমলা,
রাজনীতিবিদসহ
সর্বস্তরে
মানুষ
উন্নয়নের
সঙ্গে
যুক্ত।
শ্রমজীবী
থেকে
শুরু
করে
নীতিনির্ধারক
সবাই
মিলে
৫০
বছরে
দেশের
এ
উন্নয়ন
দৃশ্যমান
করেছে।
কিন্তু
সবার
মধ্যে
ফজলে
হাসান
আবেদ
একজন
ব্যতিক্রমী
মানুষ
ছিলেন।
উন্নয়ন
কাদের
জন্য,
এটি
ছিল
তার
কাছে
একটি
বড়
বিষয়।
তার
কাজের
শুরুটাই
যুদ্ধবিধ্বস্ত
বাংলাদেশে,
সাধারণ
মানুষের
উন্নয়নে।
সম্ভ্রান্ত
মুসলিম
পরিবারে
জন্মেছিলেন,
বিদেশে
উচ্চতর
শিক্ষার
সুযোগ
পেয়েছিলেন।
একটি
বহুজাতিক
কোম্পানিতে
কর্মজীবন
শুরু
করেছিলেন।
কিন্তু
মুক্তিসংগ্রামে
সহায়তার
জন্য
যখন
কাজ
শুরু
করলেন,
তখন
সিদ্ধান্তই
নিলেন
আগামীতে
তার
পথচলা
বহুজাতিক
কোম্পানির
বড়
কোনো
কর্মকর্তা
হিসেবে
নয়,
পথচলা
হবে
যুদ্ধবিধ্বস্ত
বাংলাদেশের
গ্রামগঞ্জে
ছড়িয়ে-ছিটিয়ে
থাকা
অগুনতি
অসহায়
মানুষের
সঙ্গে।
সেখান
থেকেই
ব্র্যাকের
উত্থান।
সুনামগঞ্জের শাল্লার
নিভৃত
পল্লীতে
ব্র্যাকের
যাত্রা
স্যার
ফজলে
হাসান
আবেদের
হাত
ধরে।
তিনি
প্রথমে
শুরু
করলেন
সাধারণ
মানুষকে
সহায়তা
দিয়ে,
কিন্তু
দান
হিসেবে
নয়।
কাজ
শিখিয়ে,
প্রশিক্ষণ
দিয়ে।
যুদ্ধবিধ্বস্ত
বাংলাদেশে
সাক্ষরতার
হার
২০
শতাংশের
নিচে
থাকায়
তিনি
সাধারণ
মানুষের
জন্য
শুরু
করলেন
সাক্ষরতা
ও
দক্ষতাসহ
‘ফাংশনাল
লিটারেসি’
কর্মসূচি।
সেখান
থেকে
আরেক
ধাপ
এগিয়ে
শুরু
করলেন
‘উপ-আনুষ্ঠানিক
প্রাথমিক
শিক্ষা’।
তিনি গ্রামে
গ্রামে
ঘুরলেন
এবং
দেখলেন
যে,
মূলধারার
প্রাতিষ্ঠানিক
শিক্ষায়
শিক্ষার্থীরা
হয়
সুযোগ
পাচ্ছে
না,
অথবা
দরিদ্র
শ্রমজীবী
পরিবারের
অন্ন-বস্ত্রের
সংস্থান
জোগাতে
তারা
শ্রমে
যুক্ত
হয়ে
গেছে।
বিষয়টি
উপলব্ধি
করে
তিনি
এ
ধরনের
শিশু-কিশোরদের
জন্য
‘নমনীয়
স্কুল
ক্যালেন্ডার’
নিয়ে
এলেন।
এই
ক্যালেন্ডারের
ভিত্তিতে
কখনো
গ্রামের
কোনো
গাছতলায়,
কখনো
কারো
বৈঠকখানায়
কিংবা
কোনো
গ্রামীণ
সচ্ছল
গৃহস্থের
বাড়িতে
৩০-৩৫
জন
শিক্ষার্থী
নিয়ে
শিক্ষা
কার্যক্রম
শুরু
করলেন।
কেউ
হয়তো
গরু
চরানোর
জন্য
গরুটা
নিয়ে
এসেছে,
বৈঠকখানার
বাইরে
গাছে
বেঁধে
রেখেছে।
এভাবে
পাঠদান
চলেছে।
এক
শিক্ষকের
বিপরীতে
৩০-৩৫
জন
শিক্ষার্থী।
প্রতিদিন
শিক্ষক
জিজ্ঞাসা
করতেন,
কাল
কার
কী
কাজ,
কয়জন
আসতে
পারবে?
কেউ
বলত
কাল
সকালে
আসতে
পারবে,
কেউ
বলত
বিকালে
কিংবা
কেউ
হয়তো
বলত
কাল
ধানের
ক্ষেতে
যেতে
হবে।
বাবার
সঙ্গে
কাজ
করতে
হবে
অথবা
মার
সঙ্গে
পানি
আনতে
যেতে
হবে।
তাদের
চাহিদা
অনুযায়ী
‘নমনীয়
ক্যালেন্ডারের’
ভিত্তিতে
পড়ানো
হতো।
এটা
এখনো
অনেক
দেশে
অনুসৃত
হচ্ছে।
বিশেষ
করে
আফ্রিকার
দেশগুলোতে
ব্র্যাকের
চালু
করা
‘উপ-আনুষ্ঠানিক
প্রাথমিক
শিক্ষা’
একটা
মডেল
হিসেবে
ব্যবহূত
হচ্ছে।
উপ-আনুষ্ঠানিক
শিক্ষাকে
বাংলাদেশ
সরকারও
এক
ধরনের
স্বীকৃতি
দিয়েছে।
আমরা
জানি,
‘উপ-আনুষ্ঠানিক
শিক্ষা
ব্যুরো’
প্রতিষ্ঠা
করা
হয়েছে।
সেখানে
বিভিন্ন
বেসরকারি
সংগঠনের
সহযোগিতায়
অতিসম্প্রতি
‘সেকেন্ড
চান্স
এডুকেশন’
নামে
উপ-আনুষ্ঠানিক
শিক্ষার
আদলে
শিক্ষা
কার্যক্রম
চলছে,
যার
প্রথম
সূচনা
স্যার
ফজলে
হাসান
আবেদ
করেছিলেন।
পরবর্তী সময়ে
তিনি
তার
কাজকে
আরো
বিস্তৃত
পরিসরে
নিয়ে
গেলেন,
সাধারণ
মানুষের
জন্য
ক্ষুদ্রঋণের
সূচনা
করলেন।
সেটি
করতে
গিয়ে
তিনি
উপলব্ধি
করলেন
যে,
শুধু
ক্ষুদ্রঋণ
দিলে
হবে
না,
প্রশিক্ষণও
দিতে
হবে,
যাতে
তারা
ঋণটার
সর্বোত্তম
ব্যবহার
করতে
পারে।
প্রশিক্ষণ
আবার
শুধু
উপকারভোগীর
মধ্যে
রাখলেন
না।
প্রতিষ্ঠানের
মাঠকর্মীদের
জন্যও
প্রশিক্ষণের
ব্যবস্থা
করলেন,
যাতে
জনসাধারণের
চাহিদার
সঙ্গে
সংগতি
রেখে
তারা
কাজ
করতে
পারে।
সেজন্য
তিনি
রাজেন্দ্রপুরে
বড়
একটি
ট্রেনিং
ইনস্টিটিউট
স্থাপন
করলেন।
এটি
এখন
বিশ্বব্যাপী
পরিচিত।
এর
বাইরেও
তিনি
দেশের
বিভিন্ন
এলাকায়
প্রশিক্ষণ
কেন্দ্র
স্থাপন
করেছেন।
সেখানে
বহুবিধ
কর্মসূচিতে
অংশগ্রহণকারী
সাধারণ
মানুষ
আর
ব্র্যাকের
কর্মীদের
প্রশিক্ষণ
দেয়া
হয়।
প্রশাসনিক
কর্মকর্তাদের
প্রশিক্ষণের
ধারণাটি
আমাদের
উন্নয়ন
জগতে
আগে
তেমন
ছিল
না।
তিনি
সেটি
চালু
করেছিলেন।
স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও
স্যার
ফজলে
হাসান
আবেদের
অবদান
ব্যাপক।
তিনি
দেখেছেন,
শিশুমৃত্যুর
হার
কমাতে
হলে
সরকারের
নীতির
সঙ্গে
তাল
মিলিয়ে
তাদেরও
কাজ
করতে
হবে।
বাংলাদেশের
‘খাবার
স্যালাইন’
বিশ্বব্যাপী
বড়
উদ্ভাবন
হিসেবে
এখন
স্বীকৃত।
এর
প্রসার
ও
জনপ্রিয়তা
এসেছিল
প্রধানত
ব্র্যাকের
মাধ্যমেই।
সরকারের
কাছ
থেকে
অনুমতি
নিয়ে
এটি
গ্রামগঞ্জে
সবখানে
ছড়িয়ে
দিয়েছে
প্রতিষ্ঠানটি।
আজ
৯০
শতাংশ
বাবা-মায়েরা
জানেন
কীভাবে
খাওয়ার
স্যালাইন
তৈরি
করতে
হয়।
টিকাদান
কর্মসূচি
বা
ইপিআই
নিশ্চিতকরণেও
ব্র্যাক
হাত
বাড়িয়ে
দিয়েছিল।
এখানে
উন্নয়ন
জগতের
অন্য
অনেক
মানুষের
চেয়ে
ব্যতিক্রমী
ছিলেন
স্যার
ফজলে
হাসান
আবেদ।
বিশ্বাস
করতেন
এবং
বলতেন,
নিরলস
কাজ
করবেন।
যেখানে
সরকার
যেতে
পারছে
না,
তাদের
কাছে
পৌঁছানোর
চেষ্টা
করবেন।
বলতেন,
তৃণমূলের
দরিদ্র
জনগোষ্ঠী,
প্রত্যন্ত
অঞ্চলের
আদিবাসীসহ
সবার
জন্য
বেসরকারি
উন্নয়ন
সংস্থাগুলোকে
এগিয়ে
যেতে
হবে;
তিনি
সেটি
করে
দেখিয়ে
গেছেন
যে
সবার
কাছে
যাওয়া
সম্ভব।
ধাপে ধাপে
পুরো
কাজ
আরো
সুসংহত
করে
তিনি
সামাজিক
একটি
উন্নয়নের
ধারা
সূচনা
করলেন।
এটিকে
‘সোশ্যাল
এন্টারপ্রাইজ’
হিসেবে
এগিয়ে
নিয়ে
গেলেন।
এরপর
তিনি
আরেকটি
ভিন্ন
দিকে
গেলেন।
তিনি
বুঝতে
পেরেছিলেন,
একটি
প্রতিষ্ঠান
যতই
বড়
হোক,
যত
বেশি
তার
পৌঁছানোর
ক্ষমতা
(আউটরিচ) থাকুক,
এক
পর্যায়ে
তাকে
অন্যদের
সঙ্গে
জোটবদ্ধ
হতে
হবে।
সেই
উপলব্ধি
থেকে
সব
খাতে
অনেক
প্রতিষ্ঠান
আমরা
যাদের
‘নেটওয়ার্ক’
বলি
সেগুলো
তৈরি
করে
গেছেন
তিনি।
ব্যবসায়ীদের
যে
মোর্চা
আছে,
সেই
আদলে
তিনি
‘গণসাক্ষরতা
অভিযানের’
মতো
শিক্ষার
ঐক্যজোট
তৈরিতে
অগ্রগামী
ভূমিকা
পালন
করেছেন।
এনজিও
ফোরাম
ফর
ড্রিংকিং
ওয়াটার
অ্যান্ড
স্যানিটেশন
নামে
আরেকটি
জোট,
‘সিডিএফ’
নামে
ক্ষুদ্রঋণের
সমন্বয়কারী
একটা
মোর্চাসহ
বহু
নেটওয়ার্ক
তিনি
তৈরি
করেছেন।
সবাইকে
স্যার
আবেদ
এ
ধারণাটা
দেয়ার
চেষ্টা
করেছেন
যে,
একলা
বেশি
দূর
যাওয়া
যায়
না।
কিন্তু
জোটবদ্ধ
হলে
অনেক
দূর
যাওয়া
যায়।
এখানেই
স্যার
ফজলে
হাসান
আবেদের
বিশাল
সার্থকতা।
প্রবাদের মতো
বলা
হয়,
যেখানেই
ফজলে
হাসান
আবেদ
হাত
দিয়েছেন,
সেখানেই
সোনা
ফলেছে।
তিনি
হাত
দিয়েছেন
ব্যাংকিং
সেক্টরেও।
তার
মনে
হয়েছিল
ক্ষুদ্র
উদ্যোক্তা
ও
নিম্ন
মধ্যবিত্তদের
কাছে
ব্যাংকিং
সেবা
ঠিকভাবে
পৌঁছাচ্ছে
না।
সেই
উপলব্ধি
থেকে
তিনি
‘ব্র্যাক
ব্যাংক’
প্রতিষ্ঠা
করেছেন।
শিক্ষাক্ষেত্রে
তিনি
দেখেছিলেন
গবেষণার
দুর্বল
অবস্থা।
তাই
উচ্চশিক্ষার
জন্য
তৈরি
করলেন
ব্র্যাক
বিশ্ববিদ্যালয়।
সেখান
থেকে
তার
আরেকটি
চিন্তার
ফসল
ছিল
গবেষণা,
মনিটরিং
ও
মূল্যায়ন।
এ
তিন
জায়গায়
যদি
বেসরকারি
সংগঠনগুলো
কাজ
না
করে,
তাহলে
এগিয়ে
যাওয়া
যাবে
না।
ব্র্যাক
বিশ্ববিদ্যালয়
থেকে
গবেষণা
শুরুর
আগে
তিনি
ব্র্যাকেই
তৈরি
করেছিলেন,
‘রিসার্চ
অ্যান্ড
মনিটরিং
ডিভিশন’।
ওই
সময়
উন্নয়ন
জগতের
অনেক
বড়
প্রতিষ্ঠানও
এটি
চিন্তা
করেনি।
স্যার
ফজলে
হাসান
আবেদ
এমনই
একজন
স্বপ্নদ্রষ্টা
মানুষ
ছিলেন।
শুধু
স্বপ্ন
দেখেননি,
সেটি
বাস্তবায়নও
করে
গেছেন।
তিনি
সবসময়
বলতেন
সবকিছু
সরকারের
ওপর
ভরসা
করে
থাকলে
হবে
না,
সরকারেরও
সীমাবদ্ধতা
থাকে।
তিনি নব্বইয়ের
দশকের
একেবারে
শেষের
দিকে
আমাদের
উৎসাহিত
করলেন
শিক্ষায়
প্রতি
বছর
কী
অবস্থা
দাঁড়াচ্ছে,
সেটি
গবেষণা
করা
দরকার।
তখন
ব্র্যাকের
রিসার্চ
অ্যান্ড
ডেভেলপেমেন্ট
(আরইডি) বিভাগের
প্রধান
ড.
মোশতাক
রাজা
চৌধুরী
ও
আমি
এবং
ড.
মোশতাক
আবেদ
ভাইয়ের
সঙ্গে
দেখা
করতে
গেলে
তিনি
বললেন,
“শিক্ষার
ওপর
গবেষণা
না
করলে
তোমরা
ধরতে
পারবে
না
কোথায়
কী
হচ্ছে।
বছরভিত্তিক
একটা
প্রতিবেদন
তৈরি
করো
এবং
এর
নাম
দাও
‘এডুকেশন
ওয়াচ’।”
এভাবে
এডুকেশন
ওয়াচের
জন্মটাই
তার
অফিস
কক্ষে।
তিনি
বলেছিলেন,
‘প্রাথমিক
শিক্ষা
থেকে
শুরু
করে
উচ্চশিক্ষা
পর্যন্ত
কী
হচ্ছে,
এ
বিষয়ে
আমাদের
গবেষণাভিত্তিক
মূল্যায়ন
হওয়া
দরকার।
কারণ
তোমরা
অ্যাডভোকেসি
করলেও
তো
তথ্য-উপাত্ত
দরকার।
সরকার,
নীতিনির্ধারক
এমনকি
উন্নয়ন
সহযোগীদেরও
যদি
বোঝাতে
চাও,
তাহলে
তোমাদের
তথ্য-উপাত্ত
লাগবেই।
আমি
বলেছিলাম,
‘প্রতি
বছর
না
হয়
গবেষণাভিত্তিক
একটা
প্রতিবেদন
করব,
কিন্তু
সরকার
যদি
সেটি
না
নেয়
তখন
কী
করব’।
আবেদ
ভাই
হেসে
বলেছিলেন,
‘শুধু
কি
সরকারেরই
দরকার,
আমাদের
দরকার
নেই?
আমরা
যে
মাঠে-ময়দানে
কাজ
করছি,
আমাদেরও
তো
জানা
দরকার
শিক্ষায়
কী
হচ্ছে,
কী
কাজ
করা
দরকার,
কতটুকু
করা
দরকার’।
তিনি
অনেক
কিছু
করেছেন।
কিন্তু
সবকিছুর
মূল্যায়ন
করতেন।
এখানে
স্যার
ফজলে
হাসান
আবেদ
অনন্য।
তিনি শুধু
সংগঠনই
তৈরি
করেননি,
অনেক
নারী
সংগঠককেও
তৈরি
করেছেন,
নেতৃত্ব
তৈরি
করেছেন।
বাংলাদেশের
৫০
বছরের
সঙ্গে
ব্র্যাকও
৫০
বছর
উদযাপন
করতে
যাচ্ছে।
স্যার
ফজলে
হাসান
আবেদের
হাত
ধরে
স্বাধীনতা-পরবর্তী
যুদ্ধবিধ্বস্ত
বাংলাদেশে
যে
ব্র্যাকের
জন্ম
সেই
প্রতিষ্ঠানটি
গত
পাঁচ
দশকে
নানা
পর্যায়ে
নেতৃত্ব
তৈরি
করেছে।
তৃণমূলে
নারী
নেতৃত্ব
তৈরি
হয়েছে,
উন্নয়ন
সংগঠক
তৈরি
হয়েছে।
স্যার
আবেদ
একলা
নেতৃত্বের
আসন
দখল
করে
রাখেননি।
তার
হাত
ধরে
আরো
অনেকেই
উঠে
এসেছেন।
আমার
মতো
আরো
অনেকেই
আছেন,
যারা
সমাজের
বিভিন্ন
স্তরে
কাজ
করে
চলেছেন।
বটবৃক্ষের
মতো
তিনি
আমাদের
দিকনির্দেশনা
দিয়ে
গেছেন।
স্যার ফজলে
হাসান
আবেদ
নতুন
প্রজন্মের
কাছে
আলোর
দিশারী
হতে
পারেন,
যদি
তাদের
কাছে
আমরা
যথাযথভাবে
তাকে
তুলে
ধরতে
পারি।
এত
বড়
মাপের
একজন
মানুষ
তিনি।
ব্র্যাক
এ
মুহূর্তে
লক্ষাধিক
কর্মী
বাহিনীর
প্রতিষ্ঠান।
সামাজিক
উদ্যোক্তা
হিসেবে
উপানুষ্ঠানিক
শিক্ষা
কেন্দ্র
থেকে
শুরু
করে
বিশ্ববিদ্যালয়
ধরলে
ব্র্যাকের
এখন
দেড়
লাখেরও
বেশি
কর্মী
বাহিনী
আছে।
নানাভাবে
তিনি
প্রতিষ্ঠান
তৈরি
করেছেন,
সংগঠক
তৈরি
করেছেন।
কিন্তু
নিজে
সবসময়
অন্তরালে
থেকে
গেছেন।
প্রচারবিমুখ
ছিলেন
চিরজীবন।
নতুন
প্রজন্মের
আরো
একটা
বিষয়
জানা
জরুরি
যে,
তিনি
একজন
নির্মোহ
মানুষ
ছিলেন,
যা
ইদানীংকালে
দেখা
যায়
না।
আজকালকার
ছেলে-মেয়েরা
আজকে
শুরু
করে
পরশু
নেতৃত্বে
যেতে
চায়।
এ
জায়গায়
স্যার
ফজলে
হাসান
আবেদ
ব্যতিক্রমী
আলোকবর্তিকা।
তার নিজের
বাড়ি-গাড়ি
তো
ছিলই
না
কখনো,
শেষ
জীবনে
তার
সন্তান
তাকে
একটা
ফ্ল্যাট
উপহার
দিয়েছিলেন।
তিনি
কখনো
পাজেরো
টাইপ
গাড়ি
ব্যবহার
করতেন
না,
ছোট
একটা
সিডান
গাড়ি
ব্যবহার
করতেন।
একসময়
শখ
করে
চুরুট
খেতেন।
সেটিও
বাদ
দিলেন
শুধু
স্বাস্থ্যের
কারণে
নয়,
ব্যয়বহুলও
হয়ে
যাচ্ছিল
তার
জন্য।
শৌখিন
ছিলেন,
কিন্তু
কখনো
বিলাসী
জীবনযাপন
করেননি।
আজকের
প্রজন্ম
তাকে
যদি
অনুসরণ
করে,
তাহলে
জীবন
বদলে
যাবে।
তিনি
যেভাবে
অনুকরণীয়
দৃষ্টান্ত
স্থাপন
করে
গেছেন
তা
নজিরবিহীন।
একজন
মুক্তিযোদ্ধা
থেকে
শুরু
করে
বিশ্বখ্যাত
উন্নয়ন
সংগঠক
হিসেবে
এত
জাতীয়
ও
আন্তর্জাতিক
পদক
পেয়েছেন
কিন্তু
ব্যক্তিজীবনে
ছিলেন
একজন
নির্লোভ
মানুষ।
তিনি
চলে
গেছেন,
কিন্তু
তার
লিগ্যাসি
ধরে
রাখতে
পারলে
দেশ
আরো
এগিয়ে
যাবে।
আজকে
সর্বত্র
যে
ধরনের
অবক্ষয়
দেখি,
মনে
হয়
ফজলে
হাসান
আবেদের
মতো
আরো
মানুষ
প্রয়োজন,
বিশেষ
করে
এ
মুহূর্তে।
আশার
কথা
এই
যে,
এখনো
বাংলাদেশে
অনেক
ভালো
মানুষ
আছে।
তাদের
কাছ
থেকে
নতুন
প্রজন্মের
অনেক
কিছু
শেখার
আছে।
অনেক বিপর্যয়
বাংলাদেশ
মোকাবেলা
করেছে,
সেখানে
সবসময়
সরকারের
পাশাপাশি
বিশ্বব্যাপী
যে
নামটি
উচ্চারিত
হয়
সেটি
হলো
ব্র্যাক।
সেটি
প্রাকৃতিক
বিপর্যয়,
স্বাস্থ্যসেবা
অথবা
শিক্ষাসেবা
হোক,
সব
ক্ষেত্রে।
সে
কারণে
আজ
ব্র্যাক
বিশ্বের
১০টি
দেশে
কাজ
করতে
পারছে।
দেশের
ভাবমূর্তি
উজ্জ্বল
করার
ক্ষেত্রে
স্যার
আবেদের
সংগঠন
একটা
বিশাল
ভূমিকা
পালন
করছে।
বিধ্বস্ত
হাইতিতে
আবেদ
ভাই
গিয়েছিলেন;
সেখানেও
ব্র্যাক
কাজ
করছে।
আফগানিস্তানে
যখন
কোনো
সংগঠন
কাজ
করতে
রাজি
হয়নি.
তখন
জাতিসংঘের
একটি
প্রস্তুতি
সভায়
তিনি
বলেছিলেন,
আমরা
করব।
সেসব
অভিজ্ঞতা
শুধু
সঞ্চয়
নয়,
যদি
অন্তরে
ধারণ
করি
এবং
বাস্তবায়ন
করতে
পারি,
তাহলে
স্যার
ফজলে
হাসান
আবেদের
প্রতি
শ্রদ্ধা
জানানোটা
সার্থক
হবে।
রাশেদা কে
চৌধুরী: শিক্ষাবিদ; নির্বাহী
পরিচালক,
গণসাক্ষরতা
অভিযান
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা










