উচ্চ বেতন, স্পন্সরশিপ ভিসা এবং বিনামূল্যে উড়োজাহাজ টিকিটের আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দেখিয়ে তরুণ গ্র্যাজুয়েটদের মানব পাচার চক্রের ফাঁদে ফেলার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। ভুয়া চাকরির প্রলোভনে বিদেশে পাড়ি দেয়ার পরদিনই কেড়ে নেয়া হয় পাসপোর্ট, আর তাদের বন্দি করা হয় দুর্গম কম্পাউন্ডে। সেখানে শারীরিকভাবে নির্যাতন, অনাহার ও ভয়ভীতি দেখিয়ে ইউরোপসহ বিশ্বজুড়ে অনলাইন স্ক্যাম বা আর্থিক প্রতারণা চালাতে বাধ্য করা হয়। সম্প্রতি রুয়ান্ডায় একাধিক ভুক্তভোগীর অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) প্রতিনিধি জানান, এ অপরাধের বিস্তার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ছাড়িয়ে আফ্রিকার ইথিওপিয়া, কেনিয়া, উগান্ডা ও তানজানিয়ার মতো দেশগুলোতেও মারাত্মকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে একদিকে বন্দি থেকে জোরপূর্বক প্রতারণায় বাধ্য হওয়া প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ তরুণ সম্প্রদায়, অন্যদিকে বিশ্বাস হারিয়ে সারাজীবনের সঞ্চয় খোয়ানো নিরীহ মানুষ ভুক্তভোগী হচ্ছে। এ বিশাল আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্রের ব্যাপ্তি অত্যন্ত ভয়াবহ। কেবল এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলেই এ ধরনের জালিয়াতির কারণে বছরে আনুমানিক ৮ হাজার ৮০০ থেকে ১১ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। এ সংকট নিরসনে একক প্রচেষ্টার বদলে বহুমাত্রিক পদক্ষেপ নেয়া জরুরি। শ্রম, সীমান্ত, পুলিশ ও কনস্যুলার বিভাগকে পৃথকভাবে না দেখে সমন্বিতভাবে ভুয়া রিক্রুটিং এজেন্সি ও ভিসা যাচাইয়ের সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা নিতে হবে। সোশ্যাল মিডিয়া ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের প্লাটফর্মে প্রচারিত ভুয়া চাকরির বিজ্ঞাপন দ্রুত অপসারণ ও প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
[আল জাজিরা থেকে সংক্ষেপিত অনুবাদ]
এমি পোপ: ডিরেক্টর জেনারেল ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন










