বোধ
করি
দীর্ঘ
বিরতির
পরে
কভিড-পরবর্তী
জনজীবনে
ছায়া
হয়ে
এসেছে
ঈদের
আনন্দ।
নতুন
জামা,
হরেক
রকমের
ভোজন—মুসলমান
বাঙালির
এটাই
তো
ঈদ
উৎসব!
আমার
মনে
হয়,
বড্ড
বেশি
মেকি
হয়ে
গেছি
আমাদের
ঈদ
উৎসবগুলোকে
নিয়ে।
রমজানের
দর্শন
ও
এর
মহিমা
আমাদের
জীবনের
সঙ্গে
কীভাবে
মিশে
আছে
তা
অনুপস্থিত!
যা-ই
হোক,
রমজান
এলে
ধর্মীয়ভাবে
যেমন
ইবাদত
ও
ইফতার
নিয়ে
আমরা
ব্যস্ত
থাকি,
ঠিক
তেমনি
আরেকটি
উল্লেখযোগ্য
ব্যাপার
হলো
জাতীয়
কবি
কাজী
নজরুল
ইসলামের
সেই
অনবদ্য
গান—‘ও
মন
রমজানের
ঐ
রোজার
শেষে
এলো
খুশির
ঈদ’।
কবি
গানটি
এমনভাবে
লিখে
গিয়েছেন
যে,
রমজানের
মূল্যবোধ,
করণীয়
সুনিপুণরূপে
সুস্পষ্ট।
কিন্তু
গানটির
শানে-নজুল
কী
ছিল?
কীভাবে
কবি
সৃষ্টি
করলেন
এমন
একটি
গান!
জাতীয় কবি
কাজী
নজরুল
ইসলামের
সঙ্গে
খুব
ছোটবেলা
থেকেই
আমরা
বাঙালিরা
পরিচিত—পাঠ্যপুস্তক
বা
পারিবারিক
পরিমণ্ডলে।
কিন্তু
মুশকিলটা
হলো,
তিনি
আমাদের
মাঝে
এমন
কিছু
রেখে
গেছেন,
যা
কিনা
আমরা
নেহাতই
আয়ত্ত
করে
যাচ্ছি
হয়
পাঠ্যপুস্তকে,
হোক
সেটা
মাধ্যমিক,
উচ্চ
মাধ্যমিক,
স্নাতক
কিংবা
স্নাতকোত্তর!
কাজী
নজরুল
ইসলাম
বাংলা
গানে
হরেক
মাত্রা
যোগ
করেছেন,
করেছেন
বাংলা
গানকে
সমৃদ্ধ।
এ
এক
রীতিমতো
পরশপাথরের
মতো,
যেটাকে
মন
থেকে
না
ছুঁয়ে
দেখলে
উপলব্ধি
করা
দুরূহ।
শুধু
সে
কারণেই
এই
মহামানবের
সৃষ্টি
একেকটি
ঘটনার
সাক্ষী
এবং
শিক্ষণীয়
বিষয়
হয়ে
দাঁড়ায়।
আবেগের
সুউচ্চ
সীমায়
আরোহণ
করে
সেই
আবেগকে
টাইম
মেশিনের
মতো
আবদ্ধ
রেখে
হয়তো
অনেক
কবি
অনেক
কিছু
রেখে
গেছেন;
কিন্তু
কাজী
নজরুল
ইসলাম
তার
সৃষ্টিশীল
সাহিত্যকর্মে
জন্ম
দিয়েছেন
নানা
আঙ্গিকের
গান।
কাজী নজরুল
ইসলাম
সময়কে
জয়
করে
গিয়েছেন,
সময়ের
সঙ্গে
হারিয়ে
যাবেন
না;
বরং
সবসময়ই
বর্তমান।
এ
এক
অবিশ্বাস্য
রকমের
অলৌকিক
ব্যাপার!
পৃথিবীতে
খুব
কম
মানুষ
এই
দুর্লভ
গুণটি
অর্জন
করেছেন।
তার
জন্য
তারা
হলেন
মহামানব।
জাতীয় কবির
অমর
সৃষ্টি
‘ও
মন
রমজানের
ঐ
রোজার
শেষে
এলো
খুশির
ঈদ’
গানটি
জানে
না,
এ
রকম
মানুষ
বাংলাদেশ
ও
পশ্চিমবঙ্গে
খুঁজে
পাওয়া
যাবে
না।
গানটির
সৃষ্টির
পেছনে
একটা
রোমাঞ্চকর
ঘটনা
জড়িয়ে
আছে,
যেটা
আগে
বলছিলাম
যে
একটা
পটভূমি
এবং
সঙ্গে
একটি
দর্শন
ও
নৈতিক
বাণীসমেত
উপস্থিত।
যা-ই
হোক,
সালটা
ছিল
১৯৩১।
কবি
তখন
কলকাতায়
গ্রামোফোন
কোম্পানিতে
রেকর্ড
নিয়ে
বিভোর।
সৃষ্টি
করে
চলেছেন
একের
পর
এক
অনবদ্য
গান,
রাগ।
রেকর্ডও
বের
হচ্ছে
ধুমসে!
তো
সে
সময়
কবির
পরিচয়
হয়
আব্বাসউদ্দীন
আহমদের
সঙ্গে।
সে
আরেক
ইতিহাস!
আব্বাসউদ্দীন
সাহেব
তখন
লেখাপড়া
করেন
কুচবিহার
কলেজে।
খুব
সম্ভবত
বিএ
পড়ছেন,
কলেজের
এক
বার্ষিক
মিলাদ
মাহফিলে
আমন্ত্রিত
হয়েছিলেন
কবি
কাজী
নজরুল
ইসলাম।
আব্বাসউদ্দীন
সাহেব
তখন
বিশেষভাবে
সুপরিচিত,
কেননা
তিনি
আর্য
সাহিত্য
সমাজ
থেকে
এরই
মধ্যে
‘কাব্যরত্নাকর’
উপাধি
পেয়ে
গেছেন।
স্বাভাবিকভাবেই
কবি
আব্বাসউদ্দীনের
গান
শুনতে
চাইলেন।
কবি
তো
কখনো
কাউকে
‘না’
বলতে
পারতেন
না।
আব্বাসউদ্দীন
সাহেবকে
তিনি
বললেন,
‘তুমি
কলকাতা
চলো,
গান
রেকর্ড
করাব
তোমার।’
যেমন
কথা,
তেমন
কাজ।
কলকাতায় শিল্পী
আব্বাসউদ্দীন
এসে
একটি
একটি
করে
অনেক
গান
রেকর্ড
করে
ফেললেন।
অবশ্য
সে
সময়
কলকাতায়
কাওয়ালি
গানের
ব্যাপক
জনপ্রিয়তা
ছিল।
আব্বাসউদ্দীন
সে
সময়
খুব
সম্ভবত
কাওয়ালির
রেশ
ধরেই
ইসলামী
গানের
কথা
চিন্তা
করলেন।
কবিকে বললেন,
‘কাজীদা,
একটা
কথা
মনে
হয়।
এই
যে
পিয়ারু
কাওয়াল,
কাল্লু
কাওয়াল—এরা
উর্দু
কাওয়ালি
গাইছে,
এদের
গানও
শুনি
অসম্ভব
কাটতি।
বাংলায়
এ
ধরনের
ইসলামী
গান
করলে
হয়
না?
আপনি
যদি
ইসলামী
গান
লেখেন
তাহলে
মুসলমানের
ঘরে
ঘরে
আবার
উঠবে
আপনার
জয়গান।’
শিল্পী আব্বাসউদ্দীনের
কথাটা
খুব
মনে
ধরল
বিদ্রোহী
কবির।
কিন্তু
বিধি
বাম!
তখনকার
রক্ষণশীল
মুসলিম
সমাজ
গান-বাজনায়
খুব
একটা
আন্তরিক
ছিল
না,
বরং
ঘোর
বিরোধী
ছিল।
বাণিজ্যিক
দৃষ্টিকোণ
থেকে
দেখলে
গ্রামোফোন
কোম্পানির
(এইচএমভি) রিহার্সাল
ইনচার্জ
ভগবতী
ভট্টাচার্যের
কাছে
কবি
তাই
বিশেষ
আগ্রহ
দেখালেন
না।
তিনি
উপরন্তু
আব্বাসউদ্দীনকে
বললেন,
‘আব্বাস
তুমি
ভগবতী
বাবুকে
বলে
তার
মত
নাও,
আমি
ঠিক
বলতে
পারব
না।’
আব্বাসউদ্দীন গেলেন
ভগবতী
বাবুর
কাছে,
জানাতেই
তেলে-বেগুনে
জ্বলে
উঠলেন
মহাশয়,
‘না
না
না,
ওসব
গান
চলবে
না।
ও
হতে
পারে
না।’
মনে
একপ্রকার
হতাশার
উদ্রেক
হলো
আব্বাসউদ্দীন
সাহেবের।
কিন্তু
তিনিও
নাছোড়বান্দা,
ঠিকই
মাস
ছয়েক
পরে
রাজি
করিয়ে
নিলেন
ভগবতী
বাবুকে।
আব্বাসউদ্দীনকে
উদ্দেশ
করে
বললেন,
‘নেহাতই
নাছোড়বান্দা
আপনি,
আচ্ছা
আচ্ছা,
করা
যাবে।’
আব্বাসউদ্দীন
পরমানন্দে
কবিকে
খুঁজতে
লাগলেন,
দেখলেন
যে
কবি
পাশের
কামরায়
রিহার্সাল
করাচ্ছেন,
গিয়ে
জানালেন
ভগবতীকে
রাজি
করানোর
কথা।
কবি
তখন
ইন্দুবালা
দেবীকে
গান
উঠিয়ে
দিচ্ছিলেন।
আব্বাসউদ্দীন
সাহেবের
কথা
শুনেই
সঙ্গে
সঙ্গে
ইন্দুবালা
দেবীকে
বাড়ি
পাঠানোর
ব্যবস্থা
করলেন
এবং
বললেন,
‘ইন্দু
তুমি
বাড়ি
যাও,
আব্বাসের
সঙ্গে
কাজ
আছে।’
বলা বাহুল্য,
কাজী
নজরুল
ইসলাম
চা
ও
পান
খেতে
খুব
পছন্দ
করতেন।
কবির
সৃষ্টির
যেন
কোনো
প্রকার
প্রতিবন্ধকতা
না
হয়,
সে
কারণে
আব্বাসউদ্দীন
সাহেব
দশরথ
নামের
একজনকে
দিয়ে
এক
ঠোঙা
পান
আর
চা
আনালেন।
তারপর
আর
কে
পায়
তাকে!
খিড়কি
বন্ধ
করে
দিয়ে
চলল
ইতিহাস
রচনা।
গান
রচনা
করতে
কবি
সময়
নিলেন
মাত্র
আধঘণ্টা!
ভাবা
যায়!
কী
এক
যুগান্তকারী
গান
তিনি
উপহার
দিলেন
বাংলার
মুসলিম
সমাজকে,
যে
গানটি
বিনা
ঈদুল
ফিতর
বাঙালি
মুসলিম
সমাজে
অসম্পূর্ণ!
‘ও
মন
রমজানের
ঐ
রোজার
শেষে
এলো
খুশির
ঈদ,/
তুই
আপনাকে
আজ
বিলিয়ে
দে,
শোন
আসমানি
তাগিদ
\/ তোর সোনা-দানা
বালাখানা
সব
রাহেলিল্লাহ্।/
দে
যাকাত
মুর্দা
মুসলিমের
আজ
ভাঙাইতে
নিদ
\’
কবি গান
রচনা
করেই
ক্ষান্ত
হলেন
না,
তিনি
সবসময়ই
সঙ্গে
সঙ্গে
সুর
আরোপ
করতেন।
সুতরাং
এ
গানেও
ব্যতিক্রম
কিছুই
হলো
না।
পরের
দিন
আব্বাসউদ্দীন
সাহেবকে
আসতে
বললেন
গান
তুলে
নেয়ার
জন্য।
এখানে
একটা
কথা
বলা
রাখা
প্রয়োজন
মনে
করছি।
তখন
একটি
রেকর্ডে
মাত্র
দুটি
গান
ধরত,
তাই
আরেকটি
গান
কবি
রচনা
ও
সুর
করেছিলেন
ওই
একই
দিনে
এবং
সেটা
হলো—
‘ইসলামের
ঐ
সওদা
লয়ে
এলো
নবীন
সওদাগর।/
বদনসীব
আয়,
আয়
গুনাহগার
নূতন
করে
সওদা
কর।/
জীবন
ভ’রে
করলি
লোকসান
আজ
হিসাব
তার
খতিয়ে
নে;/
বিনিমূলে
দেয়
বিলিয়ে
সে
যে
বেহেশতী
নজর।’
ব্যস, চলল
গানের
কাজ।
অবশ্য,
গানগুলো
লেখার
চারদিন
পর
শিল্পী
আব্বাসউদ্দীনের
গলায়
গানটি
রেকর্ড
করা
হয়।
তখনকার
সময়
আজকের
মতো
এত
অত্যাধুনিক
যন্ত্রপাতি
কল্পনাতীত;
তাই
অনেক
রকম
চ্যালেঞ্জ
মোকাবেলা
করেই
রেকর্ডিংয়ের
বন্দোবস্ত
করতে
হতো।
যাই
হোক,
ভগবতী
বাবু
তো
গোড়া
থেকেই
নেতিবাচক
ছিলেন,
স্বয়ং
তিনিই
মাত্র
চারদিনের
মাথায়
রেকর্ড
বের
হয়ে
যাবে
শুনে
একেবারেই
হকচকিত!!
কবিও
অবশ্য
গান
দুটি
নিয়ে
ছিলেন
বেশ
উল্লসিত।
ঈদের বন্ধ
কাটিয়ে
আব্বাসউদ্দীন
সাহেব
কলকাতায়
এসেছেন।
ততদিনে
তো
রেকর্ড
বাজারে
বেরিয়ে
গিয়েছে।
তিনি
একদিন
ট্রামে
করে
যাচ্ছেন,
হঠাৎ
এক
যাত্রীর
কণ্ঠে
একটি
গান
শোনা
গেল,
‘ও
মন
রমজানের
ঐ
রোজার
শেষে।’
আব্বাসউদ্দীন সেদিন
খুব
অবাক
হয়েছিলেন!
ছুটলেন
প্রকাশক
বিভূতি
বাবুর
অফিসে।
তিনি
আব্বাসউদ্দীনকে
দেখে
আনন্দে
জড়িয়ে
ধরলেন।
তাকে
আপ্যায়ন
করালেন
চা,
সন্দেশ,
রসগোল্লা!
আহা
কী
অমিয়!!
শিল্পী আব্বাসউদ্দীনের
খুশি
তো
আর
ধরে
না,
দৌড়ালেন
সোজা
কবির
বাসায়।
তিনি
গিয়ে
কবিকে
পেলেন
না।
জানতে
পারলেন
তিনি
আছেন
যথারীতি
রিহার্সাল
রুমে।
গিয়ে
দেখেন
কাজীদা
একা
বসে
দাবা
খেলায়
একেবারে
মত্ত
হয়ে
আছেন।
কবি
দাবা
খেলতে
বসলে
দিনদুনিয়া
সবকিছু
বেমালুম
ভুলে
যেতেন!
আব্বাসউদ্দীন
সাহেবের
ডাক
শুনেই
লাফিয়ে
উঠলেন,
অতঃপর
তাকে
জড়িয়ে
ধরলেন।
কাজী নজরুল
ইসলাম
নিঃশর্ত
ভালোবেসে
উজাড়
করে
দিয়ে
গেছেন।
যে
গানটি
শুধু
একটি
গানই
নয়;
বরং
বাঙালি
মুসলিম
সমাজে
গানটি
এককথায়
আচারিক
তুল্য।
যেমন
এ
গানের
কলি,
তেমনি
মাদকতা
গানটির
সুরে,
দর্শন
গানটির
আবেগে!
লেখাটার একপর্যায়ে
কবিকে
হূদয়
নিংড়ানো
ভালোবাসা
ও
প্রগাঢ়
শ্রদ্ধা
জানিয়ে
আরেকটি
গান
শুনছিলাম—
‘হে
প্রিয়
আমারে
দিব
না
ভুলিতে/
মোর
স্মৃতি
তাই
রেখে
যাই
শত
গীতে।’
ঈদ
মোবারক
রেজওয়ান উর রহমান: গবেষক, যুক্তরাষ্ট্র










