আগামী দিনের সম্ভাবনাময় শিল্পে আধিপত্য বিস্তারের প্রতিযোগিতা তীব্রতর হয়েছে। সরকারগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), উন্নত উৎপাদন, জীবনবিজ্ঞান ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিপুল বিনিয়োগ করছে। কিন্তু আমার বিশ্বাস, শুধু অর্থ ও প্রযুক্তি দিয়ে নির্ধারিত হবে না কোথায় এসব শিল্প বিকশিত হবে। এজন্য প্রয়োজন শক্তিশালী অর্থনীতি, প্রযুক্তি গ্রহণে আগ্রহী সরকার, দক্ষ মানবসম্পদ, গবেষণায় সক্ষম বিশ্ববিদ্যালয়, উদ্যোক্তা এবং নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারে প্রস্তুত শিল্প খাত।
২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ শহরে বসবাস করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীরা কোথায় কাজ করবেন এবং কোথায় জীবন গড়বেন—দুটি সিদ্ধান্তই ক্রমে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। আবুধাবিতে আমরা সমীকরণটি বাস্তবে দেখতে পাচ্ছি। নির্ভরযোগ্য পরিবহন, পরিকল্পিত আবাসিক এলাকা, নিরাপদ সড়ক ও উন্নত জনপরিসর মানুষকে এখানে বসতি গড়তে উৎসাহিত করছে। একই সঙ্গে আমরা এআইয়ে বড় বিনিয়োগ করছি। স্বাস্থ্যসেবা, সরকারি সেবা, শিক্ষা ও জ্বালানি খাতে এআইয়ের বাস্তব প্রয়োগের সুযোগ তৈরি হয়েছে। ২০২৭ সালের মধ্যে বিশ্বের প্রথম ‘এআই-নেটিভ’ সরকার হওয়ার লক্ষ্যও আমরা নির্ধারণ করেছি।
আমি মনে করি, জীবনযাত্রার মান এখন আর সমৃদ্ধির ফলমাত্র নয়; এটি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি। দক্ষ মানুষকে আকৃষ্ট করতে হলে একটি শহরকে শুধু চাকরি নয়, উন্নত শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন, নিরাপত্তা ও বসবাসের উপযোগী পরিবেশ দিতে হবে। ভবিষ্যতের শিল্পে বিজয়ী হওয়ার সবচেয়ে বড় সুবিধা তাই শুধু প্রযুক্তি নয়, এমন শহর গড়ে তোলা, যেখানে উদ্ভাবনের সঙ্গে যুক্ত মানুষ সত্যিই বসবাস করতে চান।
মোহাম্মদ আলী আল শোরাফা: আবুধাবি ডিপার্টমেন্ট অব মিউনিসিপ্যালিটিজ অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট ও ইতিহাদ এভিয়েশন গ্রুপের চেয়ারম্যান
অ্যারাবিয়ান বিজনেসে লেখা এক নিবন্ধে





