১৯৭১
সালের ডিসেম্বরে
ভারতীয় সেনাবাহিনী
ও বাংলাদেশের
মুক্তিবাহিনী গণহত্যাকারী
পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে
আত্মসমর্পণে বাধ্য
করার পর
থেকে ৫০
বছরে বাংলাদেশ
ও ভারতের
মধ্যে সম্পর্ক
দৃঢ়ভাবে স্থিতিশীল
রয়েছে। এ
সম্পর্কে কোনো
কোনো সময়
চিড় ধরেছে
সেটাও সত্য।
বিশেষ করে,
১৯৭৫ সালের
আগস্টে বাংলাদেশের
প্রতিষ্ঠাতা শেখ
মুজিবুর রহমান
ও তার
পরিবারের বেশির
ভাগ সদস্যকে
হত্যা এবং
১৯৭৫ সালের
নভেম্বরে ১৯৭১
সালে বাংলাদেশের
মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকার
গঠনে ভূমিকা
পালনকারী চার
বিশিষ্ট রাজনীতিকের
কারাগারে হত্যার
পর এ
সম্পর্কে ফাটল
সৃষ্টি হয়েছিল।
এছাড়া জেনারেল
জিয়াউর রহমান
ও জেনারেল
হুসেইন মুহম্মদ
এরশাদের অধীনে
ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশে
সামরিক শাসনের
উত্থান বাংলাদেশীদের
জন্য সুখকর
ছিল না।
ভারতের সঙ্গে
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক
রয়েছে এমন
বিষয়গুলো, যেমন
তালপট্টি ও
আঙ্গুরপোতা ছিটমহল
সম্পর্কিত বিষয়গুলো
এবং ১৯৭০-এর
দশকের শেষের
দিকে ফারাক্কা
সমস্যাটিকে জাতিসংঘে
নিয়ে যাওয়ার
জন্য জিয়া
সরকারের পদক্ষেপ
দুটি দেশের
মধ্যে সম্পর্ককে
বেশ জটিল
করে তুলেছিল।
এছাড়া বঙ্গবন্ধু
শেখ মুজিবুর
রহমানের সরকারের
পতন এবং
তার কন্যা
শেখ হাসিনার
নেতৃত্বাধীন আওয়ামী
লীগের নির্বাচনী
বিজয়ের মধ্যবর্তী
২১ বছরে
একটি ক্রমবর্ধমান
ও বিরক্তিকর
অনুভূতি ছিল
যে বাংলাদেশ
তার প্রতিষ্ঠার
মূল চেতনাকে
এড়িয়ে গিয়ে
পাকিস্তানের সঙ্গে
ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের
দিকে এগিয়ে
যাচ্ছে। এর
সঙ্গে আরো
যোগ করা
যায় মুজিবের
তত্কালীন ছাত্র
অনুসারীদের দ্বারা
গঠিত রাজনৈতিক
দল ‘জাতীয়
সমাজতান্ত্রিক দলে’র
কর্মীদের দ্বারা
১৯৭৫ সালের
নভেম্বরে ঢাকায়
ভারতীয় হাইকমিশনার
সমর সেনকে
অপহরণ করার
প্রচেষ্টা। পরবর্তীকালে
অবশ্য জেএসডি
নেতৃত্বকে এ
ধরনের দুঃসাহসিকতার
জন্য বড়
মূল্য দিতে
হয়েছিল।
এমন সব
ঘটনা সত্ত্বেও
বাংলাদেশ ও
ভারতের মধ্যে
কূটনৈতিক ও
রাজনৈতিক সম্পর্ক
সমানভাবে চালু
রয়েছে। ১৯৭১
সালে মুক্তিযুদ্ধের
সময় বাংলাদেশের
জনগণকে প্রধানমন্ত্রী
ইন্দিরা গান্ধীর
নেতৃত্বে ভারত
সরকার যে
অসামান্য সামরিক
ও নৈতিক
সমর্থন দিয়েছিল,
সেখান থেকেই
এর শুরু।
যুদ্ধের সময়
পশ্চিমবঙ্গ, আসাম
ও ত্রিপুরায়
প্রায় ১০
লাখ বাঙালি
আশ্রয় নিয়েছিল।
ভারতীয়দের জন্য
এটি একটি
বিশাল বোঝা
ছিল, তবুও
তাদের বন্ধুত্বের
মনোভাব এমন
ছিল যে
তারা বাংলাদেশীদের
পরবর্তী বিপদের
সময়ে সর্বাত্মক
সহায়তা দিয়েছিল।
বাংলাদেশের জনগণ
যুদ্ধের সময়
ভারতীয় ভূমিকাকে
ধারাবাহিকভাবে প্রশংসা
করেছে এবং
ইতিহাসবিদরা দেশের
স্বাধীনতায় ভারতীয়
সৈন্যদের ত্যাগ
যথাযথভাবে ও
আন্তরিকতার সঙ্গে
উল্লেখ করেছেন।
বাংলাদেশের স্বার্থ
রক্ষায় ১৯৭১
সালজুড়ে ভারতীয়
কূটনৈতিক প্রচেষ্টা
কেবল বাংলাদেশের
ঐতিহাসিক বর্ণনা
হিসেবেই নয়,
ভারত-বাংলাদেশ
সম্পর্কের একটি
গুরুত্বপূর্ণ উপাদান
হিসেবেও রয়ে
গেছে। ১৯৭২
সালের মার্চে
বাংলাদেশ থেকে
ভারতীয় সৈন্য
প্রত্যাহার, তারপর
প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা
গান্ধী ও
শেখ মুজিবুর
রহমান সম্পাদিত
২৫ বছরের
বন্ধুত্ব ও
সহযোগিতা চুক্তি
স্বাক্ষর এবং
একটি স্থল
সীমান্ত চুক্তি
বন্ধুত্বের ঐতিহাসিক
বন্ধনের সাক্ষ্য
হিসেবে রয়ে
গেছে। কিছু
অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা
সত্ত্বেও দুই
জাতি এখনো
পরস্পরের বন্ধু
হিসেবে অবস্থান
করছে।
বাংলাদেশের জনগণ
যখন তাদের
স্বাধীন জাতিসত্তার
অর্ধশতক উদযাপনের
প্রস্তুতি নিচ্ছে,
তখন ভারতের
জনগণও ৫০
বছর আগে
অর্জিত একটি
মহান সামরিক
বিজয়ের কথা
স্মরণ করছে।
ভারত ও
বাংলাদেশের মতো
এমন দুটি
জাতি খুব
কমই পাওয়া
যাবে, যারা
যুদ্ধের মধ্য
দিয়ে অর্জিত
সহযোগিতার সুফল
ঘরে তোলার
সুযোগ পেয়েছে।
ইন্দিরা গান্ধী,
রাজীব গান্ধী,
মনমোহন সিং,
নরেন্দ্র মোদিসহ
ভারতীয় নেতারা
তাদের ঢাকা
সফরের মাধ্যমে
দুই দেশের
মধ্যে সম্পর্ক
জোরদার করেছেন।
একইভাবে প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনার
ভারত সফর
ও প্রধানমন্ত্রী
নরেন্দ্র মোদির
সঙ্গে তার
সুস্পষ্ট ফলপ্রসূ
সাক্ষাৎ এ
ধারণাকে উড়িয়ে
দিয়েছে যে
দিল্লিতে বিজেপি
সরকার ও
ঢাকায় আওয়ামী
লীগ সরকার
নিজেদের মধ্যে
বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক
রাখতে পারবে
না। কিন্তু
এখন একটি
মৌলিক সত্যের
ওপর সম্পর্ক
এগিয়ে চলেছে।
তা হলো,
ঢাকা ও
দিল্লির মধ্যে
বাস্তবভিত্তিক রাজনীতি
কূটনৈতিক সম্পর্কের
নির্ধারক। সার্বভৌম
রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে
সহযোগিতা রাজনৈতিক
দলগুলোর কর্মসূচির
ওপর নির্ভরশীল
নয়, বরং
সরকারগুলোর মধ্যে
নীতির বিষয়।
এ নীতি
মোদি ও
হাসিনা এবং
তাদের প্রশাসনের
দ্বারা শক্তিশালী
হয়েছে। এখানে
উল্লেখযোগ্য যে
১৯৭০-এর
দশকের গোড়ার
দিকে ইন্দিরা
গান্ধী ও
শেখ মুজিবের
স্থল সীমান্ত
চুক্তিটি ২০১৪
সালে নরেন্দ্র
মোদি নেতৃত্বাধীন
ভারতীয় জনতা
পার্টির ক্ষমতায়
আসার পরে
ভারতীয় সংসদ
দ্বারা অনুমোদিত
হয়েছিল।
তবে এর
মাধ্যমে অবশ্যই
এটি বোঝায়
না যে
সম্পর্কের মধ্যে
সবকিছু মসৃণভাবে
চলেছে। তিস্তা
নদীর পানি
বণ্টন ইস্যুতে
বাংলাদেশীদের মধ্যে
অসন্তোষ রয়েছে।
২০১১ সালে
ভারতের তত্কালীন
প্রধানমন্ত্রী মনমোহন
সিং একটি
শক্তিশালী দল
নিয়ে ঢাকায়
আসার জন্য
প্রস্তুতি নিয়েছিলেন
(যে দলে
পশ্চিমবঙ্গের নতুন
মুখ্যমন্ত্রী মমতা
ব্যানার্জি একজন
উল্লেখযোগ্য ডেলিগেট
হওয়ার কথা
ছিল)।
প্রত্যাশা ছিল
যে ঢাকায়
তিস্তা নিয়ে
একটি চুক্তি
সই হবে।
কিন্তু শেষ
মুহূর্তে মমতা
ব্যানার্জির ঢাকায়
না যাওয়ার
সিদ্ধান্ত এ
আশায় জল
ঢেলে দেয়।
এর পরের
বছরগুলোয় বাংলাদেশ
নিয়মিতভাবে তিস্তার
ওপর একটি
চুক্তির প্রয়োজনীয়তাকে
গুরুত্ব দিয়েছে।
প্রত্যাশা ছিল
এই যে
এর ফলে
তিস্তা নদীর
পানির ওপর
নির্ভরশীল পশ্চিমবঙ্গ
এবং বাংলাদেশের
মধ্যে আরো
বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক
গড়ে উঠবে।
২০২৩ সালের
শেষের দিকে
হাসিনা সরকার
নতুন সাধারণ
নির্বাচনের মুখোমুখি
হবে। তাই
হাসিনা সরকার
চায় যে
দিল্লির বিজেপি
সরকার এ
সমস্যা সমাধানের
প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে
কলকাতার তৃণমূল
সরকারকে বোঝাবে।
বাংলাদেশ অবশ্যই
ভারতের যুক্তরাজ্যীয়
সাংবিধানিক প্রকৃতি
বুঝতে পারে,
তবে বিশ্বাস
রাখতে হবে
যে ঢাকা-দিল্লি
সম্পর্কের বিদ্যমান
সূত্রগুলো তিস্তার
কারণে ছিন্ন
হবে না
এবং এ
প্রতিবন্ধকতা শিগগিরই
অতিক্রম করা
সম্ভব হবে।
এখন এ
প্রতিবন্ধকতা দূর
করার দায়িত্ব
ভারতের এবং
বিশেষ করে
কলকাতার।
সীমান্ত সন্ত্রাসের
মতো বিষয়গুলোয়
বাংলাদেশ ও
ভারতের মধ্যে
সম্পর্ক বহু
বছর ধরে
চুক্তির মাধ্যমে
সমাধান করা
হয়েছে। উভয়
দেশই সব
ধরনের সন্ত্রাসবাদ
মোকাবেলায় তাদের
সীমান্তে অধিকতর
নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায়
পূর্ণ সহযোগিতা
করেছে। দুই
দেশই পণ্য
ও মানুষ
উভয়েরই চোরাচালান
দমনে কঠোর
ব্যবস্থা গ্রহণ
করেছে। সাম্প্রতিক
সময়ে মানব
পাচারকারীদের দ্বারা
ভারতে পাচার
হওয়া নারীদের
শনাক্ত করা
হয়েছে এবং
বাংলাদেশে হস্তান্তর
করা হয়েছে।
একই সময়ে
ভারতীয় কর্তৃপক্ষ
এ ধরনের
ঘৃণ্য কাজে
জড়িত ব্যক্তিদের
খুঁজে বের
করতে তদন্ত
করছে। ভারতের
বর্ডার সিকিউরিটি
ফোর্সের (বিএসএফ)
হাতে নিহত
বাংলাদেশীদের ইস্যুটি
অবশেষে দুই
দেশের সরকার
ন্যায়বিচারের সঙ্গে
সমাধান করেছে।
ভারতের জন্য
গুলি করা
সর্বশেষ পন্থা
এটা নিশ্চিত
করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশের জন্য,
বিশেষ করে
এর বর্ডার
গার্ড বাংলাদেশের
(বিজিবি) স্পষ্ট
দায়িত্ব হলো,
ভারতের দীর্ঘ
ছিদ্রযুক্ত সীমান্ত
দিয়ে অনুপ্রবেশ
রোধ করা।
অন্যদিকে দিল্লি
ও ঢাকা
শিক্ষা বিনিময়
কর্মসূচিতে সহযোগিতা
করেছে। অনেক
বছর ধরে
বহুসংখ্যক তরুণ
বাংলাদেশী ভারতের
বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে
একাডেমিক প্রোগ্রামে
অংশগ্রহণ করছে।
আবার তুলনামূলক
কম হলেও
ভারতীয় ছাত্ররা
বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার
জন্য আসছে।
দিল্লি পাবলিক
স্কুল, ঢাকায়
যার শাখা
রয়েছে, বাংলাদেশের
রাজধানীতে ইংরেজি
মাধ্যম শিক্ষাধারায়
একটি সুস্থ
সংযোজন করেছে।
বাংলাদেশী পণ্ডিতরা
কয়েক দশক
ধরে কলকাতা
ও দিল্লির
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় উচ্চশিক্ষা
গ্রহণ করেছেন,
বিশেষ করে
এমফিল ও
পিএইচডি প্রোগ্রামগুলোয়।
শান্তিনিকেতন বাংলাদেশের
শিল্পীদের জন্য
সংগীতে উচ্চপর্যায়ের
প্রোগ্রামে অংশ
নেয়ার একটি
জায়গা। প্রতিরক্ষাসংক্রান্ত
বিষয়ে সহযোগিতা
বাংলাদেশ-ভারত
সম্পর্কের একটি
গুরুত্বপূর্ণ দিক।
এটি ৫০
বছর আগে
যুদ্ধের ময়দানে
তৈরি হওয়া
একটি বন্ধন,
যা দুই
দেশের বন্ধুত্বকে
শক্তিশালী করেছে।
একটি সার্বভৌম
জাতিরাষ্ট্র হিসেবে
বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের
এই ৫০তম
বার্ষিকী উদযাপনের
সময় ঢাকা
ও দিল্লি
তাদের সম্পর্ককে
আরো সুসংহত
করবে, এটাই
সময়ের দাবি।
বাংলাদেশ-ভারত
সিইও ফোরামের
আসন্ন প্রথম
বৈঠকে ভারতীয়
বাণিজ্য ও
শিল্পমন্ত্রী পীযূষ
গয়ালের কথায়
সামনের সময়ে
যে অগ্রগতি
অর্জন করা
যেতে পারে
তার একটি
ইঙ্গিত পাওয়া
যায়। উপরন্তু,
দুই দেশ
তাদের মধ্যে
ব্যাপক অর্থনৈতিক
অংশীদারিত্ব চুক্তির
(সিইপিএ) বিশদ
চূড়ান্ত করতে
ব্যস্ত রয়েছে।
এ ধরনের
পদক্ষেপ অবশ্যই
গত অর্ধশতাব্দীতে
দুই দেশ
যে অর্থনৈতিক
সহযোগিতা গড়ে
তুলেছে তা
আরো শক্তিশালী
করবে।
বাণিজ্য ঢাকা-দিল্লি
সংযোগের একটি
প্রধান উপাদান।
যে কারণে
বাংলাদেশ দক্ষিণ
এশিয়ায় ভারতের
১০ বিলিয়ন
ডলারের প্রধান
বাণিজ্য অংশীদার
হতে পারে।
মৌলিকভাবে দ্বিপক্ষীয়
সহযোগিতায় দুটি
দেশ প্রায়
পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ
ক্ষেত্রে নিযুক্ত
রয়েছে, যেমন
প্রযুক্তি, সংযোগ,
ব্যবসায় উদ্যোগ,
স্বাস্থ্য ও
পর্যটন। এছাড়া
চলমান করোনাভাইরাস
মহামারী আরেকটি
ক্ষেত্র, যেখানে
ভারতের সঙ্গে
বাংলাদেশের সম্পর্ক
সহযোগিতার মোড়কে
নতুন মূল্য
সংযোজন করেছে।
ভারত বাংলাদেশকে
প্রায় এক
কোটি কভিড
ভ্যাকসিন দিয়েছে,
যা পরবর্তী
সময়ে কাজে
এসেছে। সেই
সঙ্গে যোগ
করা যায়
ভারতের আট
বিলিয়ন রেয়াতযোগ্য
ক্রেডিট লাইন।
বাংলাদেশ ও
ভারতের মধ্যে
বন্ধুত্ব মুক্তিযুদ্ধকালীন
সহযোগিতার বিষয়
ছাড়াও প্রায়ই
ব্যক্তিগতভাবে বিস্তৃত
হয়েছে। মোটামুটি
ভালোসংখ্যক ভারতীয়
আলোকিত ব্যক্তিত্ব—রাজনীতিবিদ,
লেখক, শিল্পী,
শিক্ষাবিদ—একে
অন্যের ভূখণ্ডে
তাদের শিকড়
নিয়ে স্মৃতিকাতরতায়
ভোগেন। নন্দিত
অভিনেত্রী সুচিত্রা
সেনের পৈতৃক
বাড়িটি আজ
পাবনায় সংরক্ষিত
রয়েছে। প্রয়াত
জ্যোতি বসু
বাংলাদেশে নিয়মিত
আসা এক
ব্যক্তি ছিলেন
এবং সবসময়ই
বাংলাদেশের জনগণ
তাকে নিজেদের
বলে মনে
করত। প্রয়াত
রাষ্ট্রপতি প্রণব
মুখার্জি বাংলাদেশে
তার স্মরণীয়
সফরের কারণে
গভীরভাবে সম্মানিত
ব্যক্তিত্ব। অমর্ত্য
সেন এ
দেশে একজন
শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব।
এই কয়েক
মাস ধরে
তিস্তা বিষয়ে
তার অবস্থান
সত্ত্বেও মমতা
ব্যানার্জির রাজনীতি
বাংলাদেশে মুগ্ধতার
সঙ্গে পরিলক্ষিত
হয়েছে। ঐতিহ্যের
সেই দৃষ্টিকোণ
থেকে ভারতীয়
শিল্পীরা সবসময়ই
বাংলাদেশে নিজেদের
একটি ঠিকানা
খুঁজে পেয়েছেন।
বহু আগের
এক ডিসেম্বরে,
সুনির্দিষ্টভাবে বলতে
গেলে অর্ধশতাব্দী
আগে, বাংলাদেশ
স্বাধীন হওয়ার
দিন ইন্দিরা
গান্ধী ভারতীয়
সংসদে বলেছিলেন,
‘ঢাকা
আজ একটি
স্বাধীন দেশের
স্বাধীন রাজধানী।’
এটি বাংলাদেশের
স্বাধীন জাতির
স্বাধীন রাজধানী,
যা রাষ্ট্রপতি
রাম নাথ
কোবিন্দকে স্বাগত
জানিয়েছে যখন
তিনি স্বাধীনতার
আনন্দ তার
জনগণের পক্ষে
বাংলাদেশের জনগণের
সঙ্গে ভাগ
করে নিতে
কিছু দিন
আগে এসেছেন।
এটি হলো
স্বাধীনতার একটি
নতুন দাবি,
প্রকৃতপক্ষে সেই
সম্পর্ক নবায়ন;
যা সার্বভৌমত্ব,
সাম্য, পারস্পরিক
শ্রদ্ধা ও
বিশ্বের সামনে
মাথা উঁচু
করাসহ আরো
কিছু বিষয়ে
অনুভূতির অভিন্ন
অভিব্যক্তির ভিত্তিতে
ভারত ও
বাংলাদেশের মধ্যে
সম্পর্ককে ধারাবাহিকভাবে
শক্তিশালী করেছে।
[ইংরেজি
থেকে ভাষান্তর:
হাসান
তানভীর]
সৈয়দ বদরুল আহসান: প্রাবন্ধিক ও সাংবাদিক










