মধ্যপ্রাচ্যে ইরান সংকট ও হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ হওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি নিরাপত্তা আবারো বড় চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কাতারের এলএনজি সরবরাহ ভীষণভাবে ব্যাহত হওয়ায় এশিয়ার দেশগুলো বিকল্প জ্বালানি উৎসের সন্ধান করছে। এ পরিস্থিতিতে লাভবান হতে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত বেটালু অববাহিকা। সম্প্রতি ডারউইন শহরের বিদ্যুৎ ও গ্যাস গ্রিডে বেটালুর একটি পরীক্ষামূলক কূপ থেকে প্রথমবারের মতো প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। যদিও বর্তমান সরবরাহ দৈনন্দিন চাহিদার তুলনায় সামান্য, তবে গবেষকদের মতে এখানে অন্তত ২০০ ট্রিলিয়ন ঘনফুট পুনরুদ্ধারযোগ্য প্রাকৃতিক গ্যাস রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত ‘মার্সেলাস সেল’ ক্ষেত্রের মতোই বেটালু অববাহিকা অস্ট্রেলিয়ার গ্যাস বাজারে বিপ্লব ঘটানোর সম্ভাবনা রাখে। বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম এলএনজি রফতানিকারক অস্ট্রেলিয়া ভৌগোলিক সুবিধার কারণে এশিয়ার চীন ও জাপানের মতো প্রধান ক্রেতাদের খুব কাছে অবস্থান করছে। সামুদ্রিক ঝুঁকিমুক্ত হওয়ায় বেটালুর গ্যাস এশিয়ার ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বর্তমানে ট্যামবোরান রিসোর্সেস এবং ইনপেক্সের মতো ছোট ও বড় প্রতিষ্ঠানগুলো যৌথভাবে এ বেসিন উন্নয়নে কাজ করছে। তবে এ উত্তোলিত গ্যাস সঠিক উপায়ে ডারউইন বা কুইন্সল্যান্ডের এলএনজি টার্মিনালে পরিবহনের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ।

[রয়টার্স থেকে সংক্ষেপিত অনুবাদ]

ক্লাইড রাসেল: রয়টার্সের জ্বালানি ও এশিয়ার পণ্যবাজার বিষয়ক কলামিস্ট