এক যুগ আগে আমরা বলেছিলাম, ২০২১ সাল নাগাদ বাংলাদেশ ডিজিটাল বাংলাদেশে পরিণত হবে। আজ ২০২১। করোনার আঘাতে বছর পেরিয়ে গেছে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বন্ধ। আগে থেকেই দুর্বল শিক্ষা ব্যবস্থা ক্রমে আরো বেশি নাজুক অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে। আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশে পরিণত হতে চাই কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা আর সঠিক কর্মপদ্ধতির অভাবে সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারিনি।

দেশে মোবাইল গ্রাহকের সংখ্যা সাড়ে ১৬ কোটি ছড়িয়েছে। জনসংখ্যার ৬০ শতাংশের বেশি ইন্টারনেট ব্যবহার করে। অথচ শহরের কিছু স্কুল আর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রমে চালাতে সমর্থ হয়নি বাকি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। ভারত কিংবা শ্রীলংকার তুলনায় আমাদের দেশে ইন্টারনেটের খরচও বেশি। ঢাকার বাইরে মোবাইল ইন্টারনেট সংযোগ নেই বলেই চলে। কিছু জেলা শহরে ইন্টারনেট অবকাঠামো পৌঁছেছে কিংবা ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যাও বেড়েছে কিন্তু দেশের বিপুল জনগোষ্ঠী এখনো এ সুবিধার বাইরেই রয়ে গেছে। 

করোনাভাইরাসজনিত পরিস্থিতিতে সাধারণ ছুটি শুরু হওয়ার পর যারা বাড়িতে বসে অফিসের কাজ করার চেষ্টা করেছেন, তারা যেমন সমস্যাটি খুব ভালোভাবে টে পেয়েছেন। বিশেষ করে যারা ঢাকা বা বড় শহরে ছিলেন না। ঢাকায় অবস্থানরতদের সমস্যা কম হলেও মফস্বল ও গ্রামীণ এলাকার বাসিন্দাদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। 

গ্রামের স্কুলে পড়া কিংবা গরিব ছেলেমেয়েরা তো হালফিল আলোচনায় এখনো ব্রাত্য। কভিডের প্রভাবে স্কুল থেকে দরিদ্র মানুষের যে সন্তানরা ঝরে পড়েছে, তাদের খুব সহজে ফেরানো সম্ভব হবে না। শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন থেকে দুটি শিক্ষাবর্ষ প্রায় হারিয়ে গেছে। এতে তারা কী ধরনের মনস্তাত্ত্বিক প্রভাবের সম্মুখীন—ধীরে ধীরে তা হয়তো আগামীর কোনো গবেষণায় উঠে আসবে। কভিডের নতুন বাস্তবতা উপলব্ধির সঙ্গে সঙ্গে আমাদের এটাও অনুধাবন করা দরকার যে স্বপ্নের ডিজিটাল বাংলাদেশে আমরা পরিণত হলেও সত্যিকারের ডিজিটাল ‘যুগ’ হয়তো এখনো দূরে  

দেশে নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর প্রায় ১৭ মাস ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ আছে। ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ সরকার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়, যা আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে পরীক্ষা বাতিল হয়েছে। মেনে চলা সম্ভব হচ্ছে না একাডেমিক ক্যালেন্ডারও। শিক্ষা ক্ষেত্রে যে জগাখিচুড়ি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তা খুব সহজে কাটানো সম্ভব হবে না। অথচ আমাদের নীতিনির্ধারকরা যদি শুরু থেকেই বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করতেন ও দূরদর্শী হতেন তাহলে সংকটের স্বরূপ এতটা গাঢ় হতো না।

উন্নয়ন প্রসঙ্গে আমরা যেমন জোরগলায় বলি যে বাংলাদেশ ভবিষ্যতের সিঙ্গাপুর কিংবা মালয়েশিয়া হবে। অথচ কখনো ভুল করেও নীতিনির্ধারকদের কাউকে বলতে শুনি না আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরের মতো আধুনিক হবে, র্যাংকিংয়ে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় সেরা ১০০-তে জায়গা করে নেবে। শিক্ষা কার্যক্রম ঘিরে আমরা যে উল্টো রথে চলছি, তার মূল্য দিতে শুরু করেছে আমাদের স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। পাস করে বের হলেও কর্মসংস্থানের সুযোগ হচ্ছে না, অথচ দক্ষ লোকের অভাবে ধুঁকছে দেশ। ভারত-শ্রীলংকা থেকে দক্ষ লোকেরা এসে সে জায়গা পূরণ করছে। 

এ পর্যায়ে মালয়েশিয়ার কথা বলা যাক। দেশটি শিক্ষা খাতে কত বিনিয়োগ করেছে কিংবা কী ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরির মাধ্যমে অগ্রসর হয়েছে, সে প্রসঙ্গে তাদের নীতিনির্ধারকদের দূরদর্শিতার প্রশংসা করতেই হয়। 

কভিড পরিস্থিতি শুরুর পর ২০২০ সালের জুনের দিকে মালয়েশিয়ার শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও শিক্ষাবিদদের জন্য নতুন একটি ডিজিটাল লার্নিং প্লাটফর্ম তৈরির ঘোষণা দেয়। ‘ডিজিটাল এডুকেশন লার্নিং ইনিশিয়েটিভ মলয়েশিয়া’ সংক্ষেপে ডিইএলআইএমএ বা ডিলিমা। ডিজিটাল এ প্লাটফর্ম নির্মাণের কাজটি যাতে তারা দক্ষতার সঙ্গে করতে পারে, সেজন্য আমেরিকার প্রযুক্তি নেতাদের পর্যন্ত সম্পৃক্ত করে। কারণ তাদের উদ্দেশ্য লোক দেখানো নয়, সত্যিকারের কার্যকরী আধুনিক ও উন্নত একটি প্লাটফর্ম নির্মাণ। দেশটির বিদ্যমান স্কুল ব্যবস্থার অধীনে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের চাহিদা পূরণের জন্য ডিলিমার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ‘অ্যাপ্লিকেশন’ ও ‘সার্ভিস’ সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে গুগল ক্লাসরুম, মাইক্রোসফট ও ৩৬৫ এবং অ্যাপল টিচার লানির্ং সেন্টার। এগুলো ব্যবহার করে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অনায়াসে কভিড পরিস্থিতিতেও বছরজুড়ে তাদের শিক্ষন-পঠন কার্যক্রম চালিয়ে নিয়েছে।  

দেশটির সরকারি তথ্য বলছে, মাসে গড়ে ১ দশমিক ৭ মিলিয়ন গ্রাহক ডিলিমা ব্যবহার করে (এ সংখ্যা এখন আরো বেশি)। ১০ হাজার স্কুল, ৩ লাখ ৭০ হাজার শিক্ষক ও ২ দশমিক ৫ মিলিয়ন শিক্ষার্থীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এ সিস্টেমে। 

ভাবনার অবকাশ নেই যে রাতারাতি এ ধরনের একটি ব্যবস্থা দাঁড় করাতে সক্ষম হয়েছে দেশটি। তাদের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো আগে থেকেই সুদৃঢ়। এরপর কভিড-১৯-এর ভবিষ্যত্ সংকটগুলো উপলব্ধি করে দেশটির নীতিনির্ধারকরা দফায় দফায় বিশেষজ্ঞ, প্রযুক্তিবিদ, গবেষকদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত এ-বিষয়ক চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে সক্ষম হন 

ডিলিমা প্লাটফর্মটি মূলত তিনটি বিষয়ের ওপর আলোকপাত করে তৈরি করা। সবার প্রথমে মালয়েশিয়ার শিক্ষা মন্ত্রণালয় যে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছে, তা হচ্ছে একটি মাল্টি-টেকনোলজি ইকোসিস্টেম তৈরি করা। এর মাধ্যমে সব শিক্ষার্থীর কাছে প্লাটফর্মটি তারা পৌঁছে দিয়েছে। প্রশ্ন আসতে পারে, সব শিক্ষার্থীর কাছে কীভাবে পৌঁছাল? আগে থেকেই কি অবকাঠামো তৈরি ছিল? উত্তরটি হ্যাঁ, কিছুটা অবকাঠামো তো আগেই তৈরি করা ছিল। যেমন সপ্তাহে একদিন ডিজিটাল ক্লাসরুমে ক্লাস করবে শিক্ষার্থীরা। আর এ অভ্যাস তারা করেছিল করোনা পরিস্থিতি শুরু হওয়ার অনেক আগে থেকেই। এ কাজে সরকারের যুক্তি ছিল, যদি কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ আসে, তার জন্য আগাম ব্যবস্থা নিয়ে রাখা। 

এরপর দ্বিতীয়ত যে বিষয়টিতে তারা জোর দিয়েছে, তা হচ্ছে লাইফলং লার্নিং। একটু ব্যাখ্যা করে বললে যার মানে হয়, একজন শিক্ষার্থী যেকোনো পরিস্থিতিতে যেকোনো সময়ে এ প্লাটফর্ম থেকে শেখার সুযোগ পাবে। তৃতীয় বা শেষ বিষয়টি হচ্ছে, প্রযুক্তিগত রূপান্তর। এর অর্থ মালয়েশিয়ার শিক্ষা মন্ত্রণালয় দেশের ভবিষ্যত্ প্রযুক্তিগত চাহিদার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এজন্য মালয়েশিয়ায় গুগল, মাইক্রোসফট কিংবা অ্যাপলের যে প্রতিনিধিরা রয়েছেন, তাদের সঙ্গে যূথবদ্ধ হয়ে কাজ করেছেন দেশটির নীতিনির্ধারকরা। 

 অর্থনীতিবিদ থেকে শুরু করে বিশেষজ্ঞরা জোরগলায় একটি কথাই বলছেন, কভিড-১৯ পরবর্তী পুনরুদ্ধার কার্যক্রমের মূল চালিকাশক্তি হচ্ছে শিক্ষা ও দক্ষতার উন্নয়ন। মাসের পর মাস ক্লাস, ক্যাম্পাস বন্ধ করে আমরা এদিক থেকে আমাদের শিক্ষার্থীদের অনেকটাই পিছিয়ে দিয়েছি, যার সূত্র ধরে পিছিয়ে যেতে পারে অর্থনৈতিক উত্কর্ষের ধারবাহিকতাও।  

মালয়েশিয়ার নীতিনির্ধারকদের দূরদর্শিতার আরো একটি উদাহরণ না দিলেই নয়। ২০১৮ সালে দেশটির ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর সয়েন্টিফিক অ্যান্ড রিসার্চ ডেভেলপমেন্ট থেকে একটি প্রতিবেদনে করা হয়। সেখানে পূর্বাভাস দেয়া হয় যে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় জন্য চলতি বছরের মধ্যে মালয়েশিয়ার পাঁচ লাখ বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীর প্রয়োজন হবে। তবে বর্তমানে মাত্র ৭০ হাজার নিবন্ধিত প্রকৌশলী আছেন।

রীতিমতো নড়েচড়ে বসেন দেশটির নীতিনির্ধারকরা। স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল আর গণিতের (এসটিইম) মতো বিষয়ে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ তৈরি করতে সে সময় তারা বিভিন্ন পদক্ষেপ নন। এছাড়া ২০১৩ সালে শিক্ষা খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে মালয়েশিয়া এডুকেশন ব্লুপ্রিন্ট ২০১৩-২০২৫ গ্রহণ করে। এর আওতায় কারিকুলাম সংযোজন, শিক্ষকদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে ‘ব্লেন্ডেড লার্নিং মডেল’-এ অভ্যস্ত করে তোলার কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।

কভিড-১৯ পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়েই অনেক কিছু অনলাইনে সম্পন্ন হচ্ছে। গত বছরের শেষ দিকে নেদারল্যান্ডসের আরএনটিসি মিডিয়া ট্রেনিং সেন্টারের একটি কোর্সের জন্য নির্বাচিত হয়েছিলাম। স্কলারশিপের অধীনে তিন মাসের কোর্সটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল নেদারল্যান্ডসের হিলভারসামে। বাদ সাধল মহামারী। কয়েক দফায় মিটিং ই-মেইল আদান-প্রদানের পর সিদ্ধান্ত হলো কোর্সটা হবে অনলাইনে। ইউরোপ, এশিয়া, আফ্রিকাসহ আমরা প্রায় ১২টি ভিন্ন দেশের শিক্ষার্থী অনলাইনে কোর্সটি করলাম। পরিচিত হলাম মেন্টিডটকম, মুরালডটকমের মতো ওয়েবসাইটের সঙ্গে। ক্লাস চলাকালীন এ ওয়েবসাইটে গিয়ে আমাদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর ও পরীক্ষা দিতে হতো। এভাবে ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট সব চলল সমানতালে। কোর্স শেষ হলে গ্র্যাজুয়েশন হলো অনলাইনেই। এরপর সবার ই-মেইলে সার্টিফিকেট পাঠিয়ে দেয়া হলো। সশরীরে উপস্থিত হয়ে আমাদের ক্লাস করা হয়নি, তবে অনলাইন সহপাঠী, মেন্টর আর প্রশিক্ষকদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি যোগাযোগ করতেও অসুবিধা হয়নি বিন্দুমাত্র। ক্লাস সূচি আর জুম লিংকগুলোর তালিকা রেখে দেয়া হয়েছিল গুগল ড্রাইডে। আমরাও আমাদের অ্যাসাইনমেন্টগুলো জমা দিয়ে দিতাম সেখানে। নেদারল্যান্ডস, ফিলিপাইন কিংবা জার্মানি থেকে প্রশিক্ষকরা আমাদের সঙ্গে যুক্ত হতেন। 

আমরা মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর হতে চাই কিন্তু আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে সবচেয়ে রুগ্ণ করে রেখেছি। সব খুলে দিয়েছি অথচ এখনো স্কুল-কলেজ খোলার ব্যাপারে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছি। 

ব্যতিক্রম শুধু বুয়েট। আমাদের সামনে উজ্জ্বল উদাহরণ নিয়ে হাজির হয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়। কভিডের আঘাতে দেশের মলিন শিক্ষাঙ্গনে খানিকটা হলেও আশাজাগানিয়া খবরটি হচ্ছে বুয়েটের অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম। কভিড পরিস্থিতিতে কীভাবে পড়াশোনা চালু রাখা যায়, তা নিয়ে বুয়েটের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ক্লাস প্রতিনিধিদের সঙ্গে দফায় দফায় অনলাইন মিটিং করা হয়। এরপর সিদ্ধান্ত নেয়া হয় অনলাইন ক্লাসের। অনলাইন ক্লাসে যোগ দেয়ার জন্য যেসব শিক্ষক-শিক্ষার্থীর স্মার্টফোন, ল্যাপটপ নেই বা ইন্টারনেটের খরচ মেটানো কষ্টকর, তাদের জন্য সুদহীন ঋণ দেয়া হলো। বুয়েট ইনস্টিটিউশনাল ইনফরমেশন সিস্টেম (বিআইআইএস) নামের নিজস্ব সার্ভারের মাধ্যমে সব শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার কার্যক্রম চালু করা হলো। প্রযুক্তির সহায়তায় করোনায় আক্রান্ত শিক্ষার্থী বা তার পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতারও হাত বাড়িয়ে দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রযুক্তির সহায়তা নিয়েই হালনাগাদ করা হচ্ছে কতজন শিক্ষার্থী করোনার টিকা নিয়েছেন এসব তথ্যও (সূত্র প্রথম আলো)।  

বুয়েট যেমন পেরেছে, তেমনি রাজধানীকেন্দ্রিক হাতেগোনা কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইনে ক্লাস নিতে সমর্থ হয়েছে। তবে গ্রাম ও মফস্বলের স্কুলগুলো বন্ধ হয়ে আছে, শোনা যায় বেসরকারি স্কুলগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিক্ষকদের অনেকে পেশা বদল করে নিতে বাধ্য হয়েছেন। কারণ আমাদের দৃষ্টি ও উন্নয়ন দুটোই শহরকেন্দ্রিক। 

উন্নয়নের আলাপ অনেক হয়েছে। সময় এসেছে সত্যিকারের দৃশ্যমান অগ্রগতি কেন হচ্ছে না, তা নিয়ে ভাবার। আমাদের স্বল্পোন্নত থাকার অবস্থান বদলাতে চাই। উন্নয়নশীল ও উন্নত হতে চাই। হচ্ছিও। যেমন মেট্রোরেল চালু হলে আমরা গর্বের সঙ্গে বলতে পারব আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির গল্প। আজ আমরা পদ্মা সেতু নিয়ে গর্ব করতেই পারি। তবে মানুষের জীবনমান বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে গর্ব করতে গিয়ে ঠিক ততখানিই দ্বিধাগ্রস্ত হতে হয় নাজুক শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে।

লেখক: সাংবাদিক