ঈদ সামনে রেখে বিপুলসংখ্যক মানুষ ঢাকা ছাড়ে। বাড়তি চাপ পড়ে সড়ক ব্যবস্থার ওপর। ঘটে অনেক দুর্ঘটনা। সম্প্রতি বুয়েটের একদল গবেষক তাদের গবেষণায় উল্লেখ করেছেন, এবারের সড়ক ব্যবস্থার অবস্থা আরো খারাপ হবে। ঈদযাত্রা কীভাবে নিরাপদ করা যায়, তা নিয়ে লেখা পাঠিয়েছেন অনেকে। সেখান থেকে নির্বাচিত কিছু লেখা নিয়ে সাজানো হলো আজকের পাঠকমত— 

মুসলমানদের সবচেয়ে তাত্পর্যবহ দুটি উৎসবের মধ্যে একটি হচ্ছে ঈদুল ফিতর, অন্যটি ঈদুল আজহা। এ দুটি উৎসবে দেশের প্রাণকেন্দ্র রাজধানী ঢাকাসহ অন্যান্য বিভাগ ও জেলা শহর থেকে লাখ লাখ মানুষ শিকড়ের টানে পরিবার-পরিজন নিয়ে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে যাত্রা করে। আসছে ঈদুল ফিতরেও এর অন্যথা হবে না। প্রতি বছর ঈদ আনন্দ অনুষ্ঠানের আগের মুহূর্ত থেকেই গৃহমুখী মানুষের মনে বিষাদের সুর বাজতে থাকে। ঈদর সময় সড়ক কিংবা জলপথে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির শেষ থাকে না। ব্ল্যাক টিকিট, যানবাহনের আধিক্যহেতু সৃষ্ট যান চলাচলে বিশৃঙ্খলা, বলপূর্বক অপহরণ, ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় বা চাঁদাবাজি, জাল নোটের ছড়াছড়ি, সড়ক ও জলপথে দুর্ঘটনাসহ বিভিন্ন ঘটনায় জনদুর্ভোগ চরমে ওঠে। শত বিপত্তি সত্ত্বেও দেশের মানুষ ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে ছুটে চলে নাড়ির টানে স্বজন-পড়শীদের সান্নিধ্যে। অতীতের নানা ঘটনা থেকে প্রমাণিত দেশের কোনো পথই গৃহমুখী মানুষের ঈদযাত্রার জন্য উদ্বেগহীন নয়। সড়কপথ, নৌপথ, রেলপথ—সব পথেই ঈদের আগে কোথাও শতভাগ নির্ঝঞ্ঝাট চিত্র পরিলক্ষিত হয় না। নিরাপদ ভ্রমণের আশা নিয়ে দেশের মানুষ ঈদের সময় টিকিটের জন্য বাস, লঞ্চ ও রেলস্টেশনে ভিড় জমায়। অথচ ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যের টিকিট কালেকশন করা কঠিন হয়ে পড়ে। এর আসল কারণ কিছু অসাধু লোক বাড়তি টাকা কামাই করার জন্য বেআইনি পথে টিকিটের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সাধারণ মানুষকে বেশি দামে টিকিট কিনতে বাধ্য করে। ঈদের আগের মুহূর্তে এ ধরনের নিয়মশীলতা ও দুর্নীতি মোটেই কাম্য নয়। সড়ক-মহাসড়কে যান চলাচল নিরাপদ হবে—এটাই সবার প্রত্যাশা। অথচ বাস্তবে কোথাও এমন দৃশ্যের দেখা মেলে না। রাস্তার ওপরে কিংবা ফুটপাতে দোকানপাট, অপরিকল্পিত ট্রাফিক ব্যবস্থা, যেখানে সেখানে গাড়ি পার্কিং, মহাসড়কের ওপরে ট্যাক্সি-টেম্পোস্ট্যান্ডসহ রাস্তার মাঝখানে বাজার-হাট স্থাপন করে খুব বাজে অবস্থা তৈরি করে রাখা হয়। যে কারণে ঈদের আগের মুহূর্তে বাড়তি মানুষের চাপে সড়কপথগুলো নিশ্চল হয়ে পড়ে।

এছাড়া ওই সময় প্রয়োজনের চেয়ে বেশি যাত্রী ও দ্রব্যসামগ্রী পরিবহনের কারণে জলপথেও ঘটে নানা দুর্ঘটনা। সুষ্ঠু তত্ত্বাবধানের অভাব ও কিছু অসাধু ব্যক্তির কারণে দীর্ঘদিন ধরে নৌপথে চলমান নানা অনিয়মের দায় শোধ করতে হচ্ছে জনগণকে, তাদের জীবনের প্রতিদানে। সড়ক ও জলপথে এবার যাতে আগের রূপ ধারণ না করে সেজন্য আগে থেকেই বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নেয়া উচিত। আমাদের দেশে মেজরিটি মানুষের জীবনে এমনিতেই দুর্ভোগের শেষ নেই। ঈদ উৎসবে এ দুর্ভোগ যেন বহুগুণ বেড়ে যায়। ফলে ঈদের আনন্দটাই পানসে হয়ে যায়।

এবার যেন অতীতের মতো সাধারণ মানুষের জীবনে যাত্রাকালীন দুর্ভোগ নেমে না আসে সেদিকে সংশ্লিষ্ট সবার লক্ষ রাখা উচিত। মানুষ যাতে জ্ঞাতি-কুটুম্ব, বন্ধুবান্ধব-পরিজন নিয়ে নিরাপদে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারে তা নিশ্চিত করতে হবে। আর এ লক্ষ্যে প্রতিটি মানুষ নিজেদের দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করবে, এটাই আশা।

 

শেখ একেএম জাকারিয়া: সভাপতি, সুনামগঞ্জ সাহিত্য সংসদ গণপাঠাগার