ডিপার্টমেন্ট
নামে
একটি
হিন্দি
সিনেমা
আছে।
২০১২
সালে
এটি
মুক্তি
পায়।
বলিউড
অভিনেতা
অমিতাভ
বচ্চন
এতে
একজন
আন্ডারওয়ার্ল্ড
গ্যাংস্টারের
ভূমিকায়
অভিনয়
করেন।
তার
একটি
সংলাপ
জনপ্রিয়তা
পায়।
তদন্তরত
এক
পুলিশ
কর্মকর্তাকে
তিনি
বলেন,
‘ম্যায় লিগ্যালি
ইললিগ্যাল
নেহি,
ইললিগ্যালি
লিগ্যাল
কাম
কর
রাহা
হু।’
সিনেমায়
অমিতাভ
বচ্চনের
চরিত্রটি
‘ইললিগ্যালি লিগ্যাল’
কাজ
করত।
তবে
বর্তমানে
অপরাধীরা
অপরাধ
সংঘটনের
জন্য
‘লিগ্যালি ইললিগ্যাল’
পদ্ধতি
অনুসরণ
করছে।
অর্থাৎ
বৈধ
উপায়ে
অবৈধ
কাজ
সম্পাদন
করছে।
অপরাধীরা
কখনো
নির্দিষ্ট
একটি
পদ্ধতিতে
আটকে
থাকে
না।
প্রশাসন,
আইন
প্রয়োগকারী
সংস্থা
ইত্যাদির
চোখে
ধুলা
দিতে
তারা
প্রতিনিয়ত
নিজেদের
কৌশল
পরিবর্তন
করে।
সময়ের
সঙ্গে
তারা
নিজেদের
অধিকতর
চৌকস
করে।
সে
তুলনায়
যদি
নিয়ন্ত্রণকারী
সংস্থাগুলো
পিছিয়ে
থাকে
তাহলেই
ঘটে
বিপত্তি।
সারা
বিশ্বে
বর্তমানে
অন্যতম
একটি
অপরাধ
হলো
বিদেশে
টাকা
পাচার।
এ
কাজ
সম্পাদনে
জড়িত
চক্র
হাল
আমলে
অভিনব
একটি
পদ্ধতি
অনুসরণ
করছে।
তারা
বিদ্যমান
আইনের
ফাঁকফোকরকে
কেন্দ্র
করে
বিভিন্ন
ব্যাংকিং
এবং
নন-ব্যাংকিং
চ্যানেল
ব্যবহার
করে
এমনভাবে
বিদেশে
টাকা
পাচার
করছে,
সাদা
চোখে
সেটিকে
অবৈধ
বলে
চিহ্নিত
করার
সুযোগ
থাকে
না।
তারা
অবৈধ
কাজ
করছে,
কিন্তু
তার
ওপর
খুব
সুন্দরভাবে
দিয়ে
দিচ্ছে
বৈধতার
প্রলেপ।
বাংলাদেশসহ
বিশ্বে
বৈধ
উপায়ে
টাকা
পাচারের
সর্বাধিক
অনুসৃত
মাধ্যমটি
হলো
‘ট্রেড বেসড
মানি
লন্ডারিং
(টিবিএমএল)’।
ব্যবসার
নামে
টাকা
পাচার।
টাকা
পাচার
প্রতিরোধকারী
প্যারিসভিত্তিক
আন্তর্জাতিক
সংস্থা
ফাইন্যান্সিয়াল
অ্যাকশন
টাস্কফোর্স
(এফএটিএফ) কর্তৃক
২০০৬
সালে
পরিচালিত
এক
গবেষণা
অনুসারে,
ব্যবসার
ছদ্মবেশে
বিদেশে
টাকা
পাচার
এবং
সন্ত্রাসী
কর্মকাণ্ডে
অর্থায়নে
অপরাধীদের
সবচেয়ে
জনপ্রিয়
মাধ্যম
এটি।
একটি
উদাহরণ
দেয়া
যাক।
একজন
ব্যবসায়ী
পণ্য
আমদানির
উদ্দেশ্যে
কোনো
একটি
ব্যাংকে
এলসি
(লেটার অব
ক্রেডিট
বা
ঋণপত্র)
খুললেন।
আমদানীকৃত
পণ্যের
পুরো
টাকাও
পরিশোধ
করলেন।
কাগজে-কলমে
পণ্য
আমদানি
হয়েছে,
কিন্তু
প্রকৃত
অর্থে
কোনো
পণ্য
দেশে
প্রবেশ
করেনি।
ম্যাজিক
মনে
হচ্ছে?
প্রশ্ন
জাগছে
না,
তাহলে
তিনি
কেন
ব্যাংকে
টাকা
জমা
দিলেন?
সে
টাকা
তবে
কোথায়
গেল!
উত্তর
সহজ।
সম্পূর্ণ
টাকা
রফতানিকারী
দেশে
পাচার
হয়ে
গেছে।
এলসি
বা
ঋণপত্রের
বিষয়টি
আরেকটু
খোলাসা
করা
যাক।
বাংলাদেশে
সংগঠিত
ট্রেড
বেসড
মানি
লন্ডারিং
ঠেকানোর
জন্য
বাংলাদেশ
ব্যাংক
২০১৯
সালে
একটি
গাইডলাইন
তৈরি
করে।
সেখানে
পণ্য
আমদানির
ক্ষেত্রে
সম্পূর্ণ
বাণিজ্য
প্রক্রিয়া
চার্ট
এঁকে
ব্যাখ্যা
করা
হয়েছে।
চার্ট
অনুসারে,
প্রথমে
আমদানিকারক
ও
রফতানিকারকের
মধ্যে
একটি
চুক্তি
সম্পাদিত
হয়।
আমদানিকারক
তখন
একটি
ব্যাংকে
এলসি
খোলার
জন্য
আবেদন
করে।
আবেদনের
পরিপ্রেক্ষিতে
ব্যাংকটি
একটি
এলসি
খোলে।
তারপর
সেটি
রফতানিকারক
কর্তৃক
নির্ধারিত
ব্যাংককে
অবগত
করা
হয়।
সে
ব্যাংক
তখন
এলসি
যাচাই
করে
এবং
তা
রফতানিকারকের
কাছে
পাঠায়।
রফতানিকারক
তখন
ফরোয়ার্ডিং
এজেন্টকে
পণ্য
সরবরাহ
করে।
এজেন্ট
সে
পণ্য
শিপমেন্টের
ব্যবস্থা
করে
বন্দরে
পৌঁছে
দেয়।
কাস্টমস
কর্তৃপক্ষ
সব
আনুষ্ঠানিকতা
সম্পন্ন
করে
সে
পণ্যের
ছাড়পত্র
দেয়।
অতঃপর
ক্লিয়ারিং
এজেন্টের
মাধ্যমে
পণ্য
আমদানিকারকের
কাছে
পৌঁছে
যায়।
এদিকে
রফতানিকারক
তার
মনোনীত
ব্যাংকটিকে
ডকুমেন্ট
জমা
দেয়।
মনোনীত
ব্যাংক
সে
ডকুমেন্ট
ইস্যুকারী
ব্যাংকের
কাছে
পাঠিয়ে
দেয়
এবং
টাকা
পরিশোধ
করতে
বলে।
ইস্যুকারী
ব্যাংক
টাকা
পরিশোধ
করে।
অতঃপর
আমদানিকারক
ইস্যুকারী
ব্যাংকে
টাকা
জমা
দেয়।
ব্যাংক
তাকে
ডকুমেন্টগুলো
সরবরাহ
করে।
এভাবে
সম্পন্ন
হয়
সম্পূর্ণ
প্রক্রিয়া।
দেখা
যাচ্ছে,
এ
প্রক্রিয়ায়
অনেক
পক্ষ
জড়িত।
সব
পক্ষের
যোগসাজশে
কিংবা
কয়েকটি
পক্ষের
যোগসাজশে
এবং
বাকি
পক্ষের
অসচেতনতার
কারণে
ব্যবসার
নামে
এভাবে
টাকা
পাচার
হয়ে
যাচ্ছে।
অথচ
বিনিময়ে
দেশে
প্রবেশ
করছে
না
কোনো
পণ্য।
ব্যবসার
নামে
টাকা
পাচারের
ক্ষেত্রে
ভুয়া
এলসির
পরবর্তী
স্থান
দখল
করে
আছে
‘ওভার ইনভয়েসিং’।
একজন
আমদানিকারক
যখন
পণ্যের
প্রকৃত
মূল্যের
চেয়ে
অতিরিক্ত
মূল্য
ঘোষণা
করে
পণ্য
আমদানি
করেন,
তখন
তাকে
ওভার
ইনভয়েসিং
বলা
হয়।
পণ্যের
প্রকৃত
মূল্যের
অতিরিক্ত
অর্থ
পাচার
হয়ে
যায়
বিদেশে।
গত
২
ডিসেম্বরের
ডয়চে
ভেলে
বাংলার
একটি
প্রতিবেদনে
বাংলাদেশ
ব্যাংকের
বাংলাদেশ
ফাইন্যান্সিয়াল
ইন্টেলিজেন্স
ইউনিটের
(বিএফআইইউ) বরাত
দিয়ে
সংস্থাটি
জানায়,
ওভার
ইনভয়েসিংয়ের
ক্ষেত্রে
গত
অর্থবছরে
(২০২১-২২)
শতকরা
২০
থেকে
২০০
ভাগ
অতিরিক্ত
আমদানি
মূল্য
দেখিয়ে
অর্থ
পাচারের
ঘটনা
ঘটেছে।
এ
ধরনের
সন্দেহজনক
লেনদেনের
সংখ্যা
গত
অর্থবছরে
ছিল
৮
হাজার
৫৭১টি।
এ
সংখ্যা
তার
আগের
অর্থবছরের
(২০২০-২১)
চেয়ে
৬২
দশমিক
৩৩
শতাংশ
বেশি।
২০১৯-২০
ও
২০১৮-১৯
অর্থবছরে
এ
সংখ্যা
ছিল
যথাক্রমে
৩
হাজার
৬৭৫
ও
৩
হাজার
৫৭৩।
এতে
স্পষ্ট,
ব্যাংকিং
চ্যানেলে
অব্যাহতভাবে
অর্থ
পাচার
বাড়ছে।
গত
অর্থবছরে
তা
অতীতের
সব
রেকর্ড
ছাড়িয়ে
গেছে।
এছাড়া
ব্যবসার
আড়ালে
টাকা
পাচারের
কয়েকটি
উল্লেখযোগ্য
উপায়
হলো
শর্ট
শিপিং,
অর্থাৎ
যত
পরিমাণ
পণ্য
আমদানি
করার
ঘোষণা
করা
হয়েছে,
সে
তুলনায়
জাহাজে
পণ্য
কম
থাকা।
এক্ষেত্রে
অবশিষ্ট
পণ্যের
দাম
বিদেশে
পাচার
হয়ে
যায়।
ফ্যান্টম
শিপিং—এক্ষেত্রে
আমদানি
ঘোষণার
বিপরীতে
পণ্য
আদৌ
আমদানি
হয়
না।
সম্পূর্ণ
টাকাই
পাচার
হয়ে
যায়।
অনেক
সময়
একই
আমদানীকৃত
পণ্যের
একাধিক
চালান
দেখিয়ে
বারবার
বিদেশে
টাকা
পাচার
করা
হয়।
এ
প্রক্রিয়া
মাল্টি
ইনভয়েসিং
নামে
পরিচিত।
টিবিএমএলের
ক্ষেত্রে
বাংলাদেশ
ব্যাপক
ঝুঁকিতে
আছে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক
গ্লোবাল
ফাইন্যান্সিয়াল
ইন্টেগ্রিটির
(জিএফআই) প্রতিবেদন
অনুসারে,
২০০৯-১৮
সাল
পর্যন্ত
বৈদেশিক
বাণিজ্যের
আড়ালে
বাংলাদেশ
থেকে
মোট
৪
হাজার
৯৬৫
কোটি
ডলার
পাচার
হয়,
বাংলাদেশী
মুদ্রায়
এর
পরিমাণ
প্রায়
সোয়া
৪
লাখ
কোটি
টাকা।
সমস্যা
আছে।
তার
সমাধানও
আছে।
এরই
মধ্যে
টিবিএমএল
প্রতিরোধে
কঠোর
পদক্ষেপ
গ্রহণ
করেছে
সরকার।
তার
প্রতিফলন
ঘটেছে
বাংলাদেশ
ব্যাংকের
গৃহীত
নীতিতে।
৩০
কোটির
বেশি
মূল্যমানের
প্রতিটি
এলসি
তারা
সতর্কতার
সঙ্গে
যাচাই
করছে।
ওভার
ইনভয়েসিং
প্রতিরোধ
করার
জন্য
আন্তর্জাতিক
বাজারে
পণ্যের
প্রকৃত
দাম
যাচাই
করছে।
কাস্টমস
কর্তৃপক্ষকে
চাহিবামাত্র
যথাযথ
তথ্য
সরবরাহের
জন্য
ব্যাংক
কর্মকর্তাদের
নির্দেশ
দেয়া
হয়েছে।
বিদেশে
টাকা
পাচার
প্রতিরোধ
অনেক
আগে
থেকেই
বর্তমান
সরকারের
অন্যতম
গুরুত্বের
জায়গায়
আছে।
এ
লক্ষ্যে
তৈরি
হয়েছে
‘মানি লন্ডারিং
প্রিভেনশন
অ্যাক্ট,
২০১২’
এবং
‘মানি লন্ডারিং
প্রিভেনশন
রুলস,
২০১৯’।
নিঃসন্দেহে
তা
সরকারের
সৎ
দৃষ্টিভঙ্গির
পরিচয়
বহন
করে।
এর
সঙ্গে
আছে
ফরেন
এক্সচেঞ্জ
রেগুলেশন
অ্যাক্ট,
১৯৪৭,
কাস্টমস
অ্যাক্ট,
১৯৬৯,
দি
ইমপোর্ট
অ্যান্ড
এক্সপোর্ট
কন্ট্রোল
অ্যাক্ট,
১৯৫০,
ইমপোর্টারস,
এক্সপোর্টারস
অ্যান্ড
ইনডেন্টরস
(রেজিস্ট্রেশন) অর্ডার,
১৯৮১
ইত্যাদি।
এ
তালিকা
থেকে
অনুধাবন
করা
যায়,
টিবিএমএল
প্রতিরোধে
পর্যাপ্ত
আইন
বাংলাদেশে
আছে।
তবে
এসব
আইনের
যথাযথ
প্রয়োগ
নিশ্চিত
করতে
হবে।
আইনগুলোয়
কোনো
রকম
ছিদ্র
আছে
কিনা
তা
বিশেষজ্ঞদের
মাধ্যমে
বারবার
যাচাই
করে
দেখতে
হবে।
ব্যাংক
কর্মকর্তা
এবং
কাস্টমস
কর্মকর্তাদের
এক্ষেত্রে
জিরো
টলারেন্স
মানসিকতা
প্রদর্শন
করতে
হবে।
প্রয়োজনে
তাদের
নানা
প্রশিক্ষণের
মাধ্যমে
সর্বদা
অপরাধীদের
পরিবর্তনশীল
মনস্তত্ত্ব,
প্রযুক্তিগত
অগ্রগতি
এবং
আইনের
প্রতিটি
দিক
সম্পর্কে
হালনাগাদ
রাখতে
হবে।
ব্যাংক
কর্মকর্তা,
কাস্টমস
কর্মকর্তা
এবং
সংশ্লিষ্ট
সব
প্রতিষ্ঠানের
মধ্যে
যথাযথ
সমন্বয়
সাধন
নিশ্চিত
করতে
হবে।
আইন
প্রয়োগের
ক্ষেত্রে
একটি
প্রধান
সমস্যা
হলো
তথ্যের
অপ্রাপ্যতা।
অনেক
সময়
দেখা
যায়,
টিবিএমএলের
বিরুদ্ধে
মামলা
হয়,
কিন্তু
সে
মামলা
পরিচালনায়
পর্যাপ্ত
তথ্য
সরবরাহ
করা
হয়
না।
ডিজিটাল
বাংলাদেশ
তৈরির
ক্ষেত্রে
তথ্যের
এ
অপ্রাপ্যতা
নিঃসন্দেহে
বড়
প্রতিবন্ধকতা।
এটা
বিশ্বাস
করার
কোনো
কারণ
নেই
যে
দেশের
সব
মানুষ
দুর্নীতিগ্রস্ত
হয়ে
গেছে।
অধিকাংশ
মানুষই
সৎ
জীবন
যাপন
করছে।
সবার
সমন্বিত
চেষ্টায়
দুর্নীতিমুক্ত
বাংলাদেশ
গড়ে
তোলাই
হোক
২০২৩-এর
মূল
প্রতিপাদ্য।
নিজাম আশ
শামস: সাংবাদিক










