কভিড-১৯
মৃত্যুপুরী
ও
চিকিৎসা
ব্যবস্থার
সক্ষমতার
শেষ
সীমায়
দাঁড়িয়ে
নিরাপদ
ভবিষ্যতের
জন্য
জাতীয়
স্বাস্থ্যনীতি
নিয়ে
পর্যালোচনা
প্রয়োজন।
কেবল
জাতীয়
স্বাস্থ্যনীতি
নয়,
স্বাস্থ্যসেবা-সংক্রান্ত
বিভিন্ন
আইন,
নীতিমালার
সীমাবদ্ধতার
বিশ্লেষণও
জরুরি।
বাংলাদেশের
আগামী
স্বাস্থ্যনীতি
কেমন
হওয়া
উচিত
তা
আলোচনার
আগে
মোটাদাগে
তিনটি
ক্ষেত্র
চিহ্নিত
করা
যেতে
পারে।
প্রথমত,
বিদ্যমান
আইন,
নীতিমালা,
যেগুলোর
হালনাগাদ
আবশ্যক।
দ্বিতীয়ত,
পূর্ববর্তী
স্বাস্থ্যনীতি
ও
স্বাস্থ্য
কর্মসূচিতে
প্রস্তাবিত
বিষয়,
যেগুলো
বাস্তবায়ন
হয়নি
এবং
অন্যান্য
ত্রুটি-বিচ্যুতি।
তৃতীয়ত,
নতুন
বিধি,
কাঠামো
এবং
প্রতিষ্ঠান।
কাঠামোগত
দিক
থেকে
বাংলাদেশের
স্বাস্থ্য
ব্যবস্থা
প্রান্তিক
জনগণের
দোরগোড়ায়
এসে
পৌঁছেছে।
প্রতি
ছয়
হাজার
জনগোষ্ঠীর
জন্য
একটি
কমিউনিটি
ক্লিনিক
স্থাপন,
প্রতিটি
ইউনিয়নে
ইউনিয়ন
সাবসেন্টার
এবং
উপজেলা
পর্যায়ে
উপজেলা
স্বাস্থ্য
কমপ্লেক্স
নিয়ে
গড়ে
উঠেছে
একটি
শক্তিশালী
প্রাথমিক
স্বাস্থ্যসেবা
নেটওয়ার্ক।
স্বাধীনতার
৫০
বছরে
স্বাস্থ্য
খাতের
সাফল্য
অনেক—জনগণের
প্রত্যাশিত
গড়
আয়ু
বৃদ্ধি,
শিশুমৃত্যু-মাতৃমৃত্যুর
হারের
উল্লেখযোগ্য
হ্রাস
পাওয়ার
মতো
স্বাস্থ্য
সূচকের
মাপকাঠিতে,
কখনো
স্থানীয়
জনগণকে
স্বাস্থ্যসেবায়
সম্পৃক্ত
করায়
চৌগাছা
মডেলের
বিশ্বস্বীকৃতি
অথবা
সম্প্রসারিত
টিকাদান
কর্মসূচি
বাস্তবায়নের
জন্য
আমাদের
প্রধানমন্ত্রীর
‘ভ্যাকসিন হিরো’র
খেতাব
অর্জন।
বাংলাদেশের
স্বাস্থ্য
খাতের
সাফল্যগুলোকে
এশিয়ার
বিস্ময়
বলে
চিহ্নিত
করেছে
বিশ্বখ্যাত
চিকিৎসা
সাময়িকী
দ্য ল্যানসেট। ২০১৩
সালে
দ্য ল্যানসেট বাংলাদেশের
স্বাস্থ্য
খাতের
নানা
দিক
নিয়ে
একটি
সিরিজ
প্রকাশ
করে,
যেখানে
কম
অর্থ
বরাদ্দ,
দারিদ্র্য,
ব্যবস্থাপনার
সীমাবদ্ধতা
সত্ত্বেও
পাঁচ
বছরের
কম
বয়সী
শিশুদের
জীবন
রক্ষা,
মানুষের
গড়
আয়ু
বৃদ্ধি,
টিকাদান
কর্মসূচি,
যক্ষ্মা
নিয়ন্ত্রণ—এসব
ক্ষেত্রে
বাংলাদেশের
কার্যক্রমের
প্রশংসা
করা
হয়েছে
এবং
গৃহীত
পদক্ষেপগুলো
বিশ্বের
অন্যান্য
উন্নয়নশীল
দেশের
জন্য
অনুসরণীয়
হিসেবে
উল্লেখ
করা
হয়েছে।
কভিড-১৯
মহামারী
বাংলাদেশের
স্বাস্থ্য
ব্যবস্থার
জন্য
এক
বিরাট
চ্যালেঞ্জ।
শক্তিশালী
স্বাস্থ্য
নেটওয়ার্কের
সুফল
হিসেবে
দেশের
একদম
প্রান্তিক
জনগোষ্ঠী
যেমন
কভিড-১৯-এর
টিকা
কার্যক্রমের
আওতায়
এসেছে,
আবার
এর
বিপরীতে
মানসম্পন্ন
সেবার
অভাবে
রোগীকে
হাসপাতাল
থেকে
হাসপাতালে
ঘুরতে
দেখা
গেছে।
বাংলাদেশের
স্বাস্থ্য
খাতের
অন্তর্নিহিত
বিভিন্ন
দুর্বলতা
প্রকট
হয়ে
উঠেছে।
যেমন
কার্যকর
রেফারেল
সিস্টেমের
অনুপস্থিতি,
শহর
অঞ্চলে
সরকারি
চিকিৎসাকেন্দ্রের
অপ্রতুলতা,
বিভাগীয়
শহরের
বাইরে
বিশেষায়িত
চিকিৎসক,
আইসিইউসহ
প্রয়োজনীয়
হাসপাতাল
এবং
জীবনরক্ষাকারী
চিকিৎসা
উপকরণের
অভাব,
বেসরকারি
স্বাস্থ্যকেন্দ্রের
খরচের
নিয়ন্ত্রণ
বা
হেলথ
ইন্স্যুরেন্স
ব্যবস্থা
না
থাকায়
চিকিৎসা
ব্যয়
মেটাতে
গিয়ে
জনগণের
নাভিশ্বাস
ওঠা
ইত্যাদি।
এছাড়া
জনস্বাস্থ্যের
মতো
গুরুত্বপূর্ণ
সিদ্ধান্ত
গ্রহণে
দ্বিধা
এবং
জনগণের
কাছে
জনস্বাস্থ্য
তথ্য
প্রচারে
অদক্ষতা,
কভিড-১৯
প্রতিরোধী
জনসম্পৃক্তকরণে
ব্যর্থতা,
সংক্রামক
ব্যাধি
২০১৮
আইন
থাকা
সত্ত্বেও
জনগণকে
ঝুঁকিপূর্ণ
চলাফেরা
ও
অস্বাস্থ্যকর
ব্যবহারে
নিবৃত্ত
করতে
না
পারা,
কভিড-১৯
প্রতিরোধে
পর্যাপ্ত
বাজেট
বরাদ্দ
ও
পরিকল্পনায়
ঘাটতিসহ
স্বাস্থ্য
প্রশাসক
এবং
নীতিনির্ধারকদের
বিভিন্ন
ত্রুটি-বিচ্যুতি
পরিলক্ষিত
হয়।
জাতীয়
স্বাস্থ্যনীতি
একটি
দেশের
জনগণের
সুস্বাস্থ্য
নিশ্চিতে
পথনির্দেশক
এবং
অঙ্গীকারের
দলিল।
দেশের
বিদ্যমান
আইন
এবং
বিধানবলি
যুগোপযোগী
না
করা
হলে
জাতীয়
স্বাস্থ্যনীতির
সুফল
মিলবে
না।
বাংলাদেশের
স্বাস্থ্য
ব্যবস্থায়
মোট
সেবার
দুই-তৃতীয়াংশ
ভূমিকা
রাখে
বেসরকারি
স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো,
অর্থাৎ
রোগীদের
একটি
উল্লেখযোগ্য
অংশ
এসব
বেসরকারি
কেন্দ্রে
চিকিৎসা
নিয়ে
থাকে।
বাংলাদেশে
সরকারি
স্বাস্থ্যকেন্দ্রের
তুলনায়
বেসরকারি
স্বাস্থ্যকেন্দ্র
প্রায়
১০
গুণ
(নিবন্ধন নেই
অথবা
নিবন্ধন
নবায়ন
করা
হয়
না—এ
রকম
ক্লিনিক
ও
ডায়াগনস্টিক
ল্যাব
আনুমানিক
গণনায়
নিয়ে)।
বেসরকারি
হাসপাতাল
ও
ডায়াগনস্টিক
সেন্টারগুলো
মূলত
পরিচালিত
হয়
দ্য
মেডিকেল
প্র্যাকটিশনার
অ্যান্ড
প্রাইভেট
ক্লিনিকস
অ্যান্ড
ল্যাবরেটরিস
(রেগুলেশন) অধ্যাদেশ,
১৯৮২-এর
বিধিমালা
অনুযায়ী।
বেসরকারি
ক্লিনিক
ও
ডায়াগনস্টিক
সেন্টার
হিসেবে
নিবন্ধন
পেতে
শর্তাবলি
যেমন
ন্যূনতম
জনবল,
চিকিৎসা
সহায়ক
পরিবেশ,
প্রয়োজনীয়
যন্ত্রপাতি ইত্যাদি
ছাড়াও
চিকিৎসকদের
ফি,
অপারেশনের
খরচ,
পরীক্ষা-নিরীক্ষার
মূল্যতালিকা
এ
অধ্যাদেশে
নির্দিষ্ট
করা
হয়েছে।
নব্বইয়ের
দশকের
শেষভাগে
বাংলাদেশে
বেসরকারি
হাসপাতাল
ও
ক্লিনিকের
বিস্ফোরণ
ঘটে
বলা
যায়।
ব্যবসায়িক
মুনাফার
ভিত্তিতে
গড়ে
ওঠা
এসব
কেন্দ্র
নিয়ন্ত্রণের
জন্য
বিধিমালা
কখনই
যুগোপযোগী
ছিল
না।
এ
নীতি
অনুযায়ী
একজন
রেজিস্টার্ড
চিকিৎসকের
ফি
৪০
টাকা,
রক্তে
হিমোগ্লোবিন
পরীক্ষার
ফি
৮
টাকা,
ইউরিন
পরীক্ষা
১০
টাকা,
নরমাল
ডেলিভারি
ফি
সাকল্যে
৪০০
টাকা
ধার্য
করা
হয়।
এছাড়া
যেকোনো
ক্লিনিকে
ন্যূনতম
৩৬
ধরনের
জীবন
রক্ষাকারী
যন্ত্রপাতি
থাকার
নিয়ম
করা
হয়।
বিধিমালা
অমান্য
করা
হলে
শাস্তি
হিসেবে
৫
হাজার
হাজার
টাকা
জরিমানা
অথবা/এবং
ছয়
মাসের
জেল
ধার্য
করা
হয়।
বাংলাদেশে
বেসরকারি
চিকিৎসা
খাত
বিশাল
এক
বাজার।
অথচ
প্রায়
৪০
বছর
আগের
বিধিমালা
অনুযায়ী
এ
খাত
পরিচালিত
হওয়া
মানে
দৃশ্যত
কোনো
নিয়ন্ত্রণ
না
থাকা;
যার
ফল
ভোগ
করছে
দেশের
সাধারণ
মানুষ,
আউট
অব
পকেট
চিকিৎসা
ব্যয়
বাড়ছে
লাগামহীনভাবে।
এছাড়া
বেসরকারি
হাসপাতাল
ও
ক্লিনিকে
ভোক্তা
অধিকার
সংরক্ষণ
আইন,
২০০৯
অনুযায়ী
বিভিন্ন
সময়
অভিযান
পরিচালিত
হয়,
যার
ক্ষমতা
অত্যন্ত
সীমিত।
ভোক্তা
অধিকার
সংরক্ষণ
আইন,
২০০৯-এর
অধীনে
মূলত
নকল,
ভেজাল,
মেয়াদোত্তীর্ণ
ওষুধ,
বেসরকারি
হাসপাতালে
সেবা
ও
পরীক্ষার
মূল্যতালিকা
আছে
কিনা
তদারক
করা।
এ
আইনে
দায়িত্বপ্রাপ্ত
কর্তৃপক্ষ
বেসরকারি
হাসপাতালে
কোনো
ত্রুটি-বিচ্যুতি
থাকলে
তদারক
করে
স্বাস্থ্য
মন্ত্রণালয়,
সচিব
এবং
অধিদপ্তরের
মহাপরিচালককে
জানাতে
পারবে
কেবল,
কোনো
ব্যবস্থা
নিতে
পারবে
না।
একইভাবে
বাংলাদেশ
মেডিকেল
অ্যান্ড
ডেন্টাল
কাউন্সিল
আইন,
২০১০,
মানসিক
স্বাস্থ্য
আইন,
২০১৮-সহ
বিদ্যমান
একাধিক
আইন
এবং
বিধিমালায়
সুনির্দিষ্ট
পরিবর্তন
প্রয়োজন।
বহুল
প্রত্যাশিত
জাতীয়
স্বাস্থ্যনীতি,
২০১১
প্রেক্ষাপট
অংশে
সরকারি
স্বাস্থ্য
ব্যবস্থায়
ওষুধ
সরবরাহের
অপর্যাপ্ততা,
জনবলের
অভাব,
যন্ত্রপাতি
ও
স্বাস্থ্যকেন্দ্রের
স্থাপনায়
রক্ষণাবেক্ষণের
দুর্বলতা
এবং
সুসংগঠিত
রেফারেল
পদ্ধতি
না
থাকায়
স্বাস্থ্য
অবকাঠামোর
পূর্ণ
সদ্ব্যবহার
করা
যাচ্ছে
না—স্বীকার
করে
নেয়া
হয়েছে।
এছাড়া
বেসরকারি
স্বাস্থ্যসেবায়
উচ্চ
ফি,
ব্যয়বহুল
পরীক্ষা,
সেবার
ব্যবস্থাপনা
ও
মানের
ঘাটতি,
সরকারি
খাতে
চিকিৎসাসামগ্রী
সংগ্রহে
জটিলতা
এবং
বাজেট
বরাদ্দের
অপরিণত
ব্যবহার
ইত্যাদি
সীমাবদ্ধতার
কথা
উল্লেখ
করা
হয়েছে।
সেবা
সরবরাহের
ক্ষেত্রে
দুর্বল
ব্যবস্থাপনা,
সম্পদের
সীমাবদ্ধতা,
সেবার
দুর্বল
গুণগত
মানের
পাশাপাশি
স্বাস্থ্যসেবা
গ্রহীতাদের
সামর্থ্যহীনতা,
জ্ঞান
ও
স্বাস্থ্যবিধি
অনুযায়ী
জীবনযাপন
পদ্ধতি
অনুসরণ
না
করা
ইত্যাদি
চ্যালেঞ্জ
চিহ্নিত
করা
হয়েছে,
যা
আজও
প্রাসঙ্গিক।
এ
থেকে
উত্তরণে
এবং
স্বাস্থ্যনীতিতে
বর্ণিত
সব
উদ্দেশ্য
ও
মূলনীতি
অর্জনে
যে
কর্মকৌশলগুলো
সুনির্দিষ্ট
করা
হয়েছে,
তার
প্রথমটি
হচ্ছে
সরকারপ্রধানের
নেতৃত্বে
একটি
জাতীয়
স্বাস্থ্য
কাউন্সিল
গঠন
করা।
কাউন্সিল
স্বাস্থ্যনীতি
বাস্তবায়নে
দিকনির্দেশনা
প্রদান
করবে।
অর্থাৎ
স্বাস্থ্যনীতির
কর্মকৌশলের
প্রথমটি
এখনো
বাস্তবায়ন
করা
সম্ভব
হয়ে
ওঠেনি।
একইভাবে
আরেকটি
গুরুত্বপূর্ণ
কর্মকৌশল,
যেখানে
চাকরিজীবীদের
জন্য
হেলথ
ইন্স্যুরেন্স
এবং
অতিদরিদ্র
জনগোষ্ঠীর
জন্য
বিনামূল্যে
চিকিৎসা
নিশ্চিত
করতে
কার্ডের
ব্যবস্থা
করা
গত
১০
বছরেও
বাস্তবায়ন
হয়নি।
আরেকটি
কর্মকৌশল,
যেখানে
বেসরকারি
খাতে
স্বাস্থ্যসেবা
ও
চিকিৎসা
ব্যবস্থা
রোগীদের
সঠিক
ও
মানসম্পন্ন
চিকিৎসাসেবা
প্রাপ্তি
নিশ্চিত
করার
জন্য
প্রয়োজনীয়
বিধিবিধান
তৈরি
ও
প্রয়োগ
করার
ব্যবস্থা
করা
এবং
পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ
অন্যান্য
চিকিৎসা
ব্যয়
সহনীয়
পর্যায়ে
রাখার
ব্যবস্থা
করার
কথা
বলা
হয়েছিল।
এছাড়া
প্রাইভেট
প্র্যাকটিস
থেকে
বিরত
রাখতে
নন-প্র্যাকটিসিং
ভাতার
প্রচলন,
সেবার
গুণগত
মান
নিশ্চিত
করতে
মনিটরিং
এবং
মূল্যায়ন
পদ্ধতি
জোরদার
করতে
সহায়িকা
তৈরি,
পূর্ণাঙ্গ
স্কুল
হেলথ
কার্যক্রম,
মেডিকেল
ও
ডেন্টাল
কাউন্সিলকে
শক্তিশালী
করা,
প্রচলিত
পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট
শিক্ষা
ও
কোর্সগুলো
সমমানের
করা
এবং
সমন্বয়
করা,
প্রত্যেক
উপজেলায়
একটি
পুষ্টি
ও
একটি
স্বাস্থ্য
শিক্ষা
ইউনিট
থাকবে,
কার্যকর
রেফারেল
পদ্ধতির
মাধ্যমে
শহর
ও
গ্রাম
উভয়
ক্ষেত্রেই
জটিলতর
রোগীদের
পরবর্তী
ধাপে
চিকিৎসার
ব্যবস্থা
করা
ইত্যাদি
কর্মকৌশলের
বাস্তবায়ন
করা
যায়নি।
এগুলো
অসম্পূর্ণ
রেখে
কাগজে-কলমে
ভবিষ্যতে
যত
আকর্ষণীয়
নীতি-পরিকল্পনা
নেয়া
হোক
না
কেন
সেগুলো
কাঙ্ক্ষিত
লক্ষ্য
অর্জনে
সক্ষম
হবে
না।
বাংলাদেশের
জনগণের
ক্রমবর্ধমান
স্বাস্থ্য
ব্যয়
বা
আউট
অব
পকেট
এক্সপেন্ডিচার
কমানোর
উদ্দেশ্য
নিয়ে
সরকারের
স্বাস্থ্য
অর্থনীতি
বিভাগ
২০১২
সালে
সর্বজনীন
স্বাস্থ্য
সুরক্ষা
অর্জনের
কৌশলপত্র
তৈরি
করে।
২০১২
সালের
কৌশলপত্রে
স্বাস্থ্য
সুরক্ষা
কর্মসূচি
(এসএসকে) নামে
একটি
প্রকল্প
বাস্তবায়নের
পরিকল্পনা
করা
হয়,
যার
মাধ্যমে
২০৩০
সালের
মধ্যে
স্বাস্থ্য
খাতে
ব্যক্তির
নিজস্ব
ব্যয়
কমিয়ে
৩২
শতাংশ
করা
হবে।
বর্তমানে
ব্যক্তির
নিজস্ব
ব্যয়
৭২
শতাংশ,
অর্থাৎ
কোনো
ব্যক্তি
অসুস্থ
হলে
তাকে
সুস্থ
করতে
যদি
১০০
টাকা
খরচ
হয়,
তার
৭২
শতাংশ
ব্যক্তি
নিজে
বহন
করে।
স্বাস্থ্য
সুরক্ষা
কর্মসূচি
(এসএসকে) মূলত
এক
ধরনের
স্বাস্থ্য
বীমা
কর্মসূচি,
যেখানে
বীমার
আওতাভুক্ত
ব্যক্তি
এবং
তার
পরিবার
ইলেকট্রনিক
হেলথ
কার্ডের
মাধ্যমে
বিনা
মূল্যে
৭০
ধরনের
অসুখে
মানসম্মত
স্বাস্থ্যসেবা
পাবে।
প্রাথমিকভাবে
অতি
দরিদ্র
মানুষ
এ
সেবা
পাবে
পরিকল্পনা
করা
হলেও
ধাপে
ধাপে
বাংলাদেশের
সব
মানুষ
এ
প্রকল্পের
আওতায়
আসবে।
২০১৬
সালে
টাঙ্গাইলের
কালিহাতি
উপজেলায়
এ
কার্যক্রমের
পাইলটিং
শুরু
হয়ে
আরো
দুটিসহ
মোট
তিনটি
উপজেলায়
স্বাস্থ্য
সুরক্ষা
কর্মসূচির
কাজ
চলছে।
২০২১
সালের
মাঝে
স্বাস্থ্য
সুরক্ষা
কর্মসূচির
মধ্যম
পর্যায়
যেখানে
দরিদ্র
জনগোষ্ঠীসহ
প্রায়
ছয়
কোটি
জনগণ
এ
কর্মসূচির
আওতায়
আসবে।
ধীরে
হলেও
কর্মসূচির
কার্যক্রম
চলমান।
বাংলাদেশের
বাস্তবতায়
স্বাস্থ্য
সুরক্ষা
কর্মসূচির
মতো
স্বাস্থ্য
বীমা
কার্যক্রম
অত্যন্ত
সময়োপযোগী।
ভবিষ্যতে
স্বাস্থ্য
সুরক্ষা
কর্মসূচি
আরো
বেগবান
হলে
দেশের
কোটি
কোটি
মানুষ
উপকৃত
হবে।
২০১০
সালের
বিএমডিসি
আইন
প্রণয়ন
করা
হয়েছিল
স্বাস্থ্যসেবা
প্রদানের
সঙ্গে
জড়িত
সবার
কর্মপরিধি
ঠিক
করে
দেয়া
এবং
বিএমডিসিকে
শক্তিশালী
করার
উদ্দেশ্যে।
দেশে
রেজিস্টার্ড
চিকিৎসকদের
পাশাপাশি
অল্টারনেটিভ
মেডিসিন,
উপসহকারী
কমিউনিটি
মেডিকেল
অফিসারসহ
অনেকেই
সীমিত
পরিসীমায়
চিকিৎসা
দেয়ার
অধিকার
রাখেন,
কিন্তু
অনেক
ক্ষেত্রেই
নীতির
দুর্বল
বাস্তবায়নের
সুযোগে
ভুয়া
কিংবা
ভুল
চিকিৎসার
খবর
শোনা
যায়।
এসব
ক্ষেত্রে
বিএমডিসির
কার্যক্রমও
চোখের
সামনে
খুব
কমই
আসে।
নতুন
সৃষ্ট
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে
এ
আইনের
সঙ্গে
সম্পৃক্তকরণ,
ডেন্টাল
চিকিৎসকদের
প্র্যাকটিসের
আয়ত্ত
নির্দিষ্ট
করা
এবং
সরকারি
ও
প্রাইভেট
মেডিকেলগুলোকে
শিক্ষার
মান
নিশ্চিত
করার
মতো
অনেক
জায়গায়
এ
আইনের
ঘাটতি
রয়ে
গেছে।
উচ্চপর্যায়ের
মেডিকেল
ট্রেনিং
সমন্বয়করণ,
পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট
ট্রেইনিংয়ের
আন্তর্জাতিক
মান
নিশ্চিত
করা
অনেক
তরুণ
চিকিৎসকের
দাবি,
যেগুলো
অবহেলিত
রয়ে
গেছে
এ
আইনে।
সদা
পরিবর্তনশীল
পৃথিবীতে
স্বাস্থ্য
খাতে
তথ্যপ্রযুক্তিগত
নিত্যনতুন
সেবা,
সুযোগ
সৃষ্টি
হচ্ছে।
তথ্যপ্রযুক্তিগত
পরিবর্তন
ছাড়াও
চিরায়ত
কিছু
চ্যালেঞ্জ
প্রচলিত
নীতিমালা
ও
আইনের
বাইরেও
বিদ্যমান।
ভবিষ্যতের
পৃথিবীর
সঙ্গে
তাল
মিলিয়ে
চলতে
গেলে
তাই
নতুন
বিধি,
কাঠামো
ও
প্রতিষ্ঠানের
প্রয়োজন।
স্বাস্থ্য
সুরক্ষা
আইন-স্বাস্থ্য
সেবাদাতা
ও
সেবাগ্রহীতা
উভয়ের
জন্যই
অত্যন্ত
প্রয়োজনীয়
একটি
বিষয়।
চিকিৎসায়
অবহেলা-সংক্রান্ত
বিভিন্ন
অভিযোগ
বিদ্যমান
ফৌজদারি
আইনে
যেমন
প্রতিকার
সম্ভব
নয়,
তেমনি
দিনের
পর
দিন
চিকিৎসক,
স্বাস্থ্যকর্মী,
হাসপাতাল
বিভিন্ন
কারণে
রোগী
ও
স্বজনদের
হামলার
শিকার
হচ্ছে।
নিরাপত্তার
অভাবে
চিকিৎসাসেবা
যেমন
বিঘ্নিত
হচ্ছে,
তেমনি
রোগী
ও
স্বজনদের
চিকিৎসা-সংক্রান্ত
নানা
অভিযোগের
সুরাহা
হচ্ছে
না।
মানসম্মত
সেবা
নিশ্চিতে,
স্বচ্ছতা
ও
জবাবদিহিতার
স্বার্থে
স্বাস্থ্য
সুরক্ষা
আইন
অতি
প্রয়োজনীয়।
একইভাবে
সব
স্বাস্থ্যকেন্দ্রের
সেবার
মান
বজায়
রাখতে
একটি
স্বতন্ত্র
ন্যাশনাল
অ্যাক্রেডিটেশন
বডি
অত্যন্ত
জরুরি।
ইলেকট্রনিক
মেডিকেল
রেকর্ডস
(ইএমআর) সেবা
যেমন
দরকারি,
তেমনি
তথ্যের
গোপনীয়তা
রক্ষাসহ
ডিজিটাল
হেলথের
বিভিন্ন
অনুষঙ্গ,
যেমন
টেলিমেডিসিন
সেবা
নিয়ন্ত্রণে
বিধিমালা
প্রণয়ন
এবং
বাংলাদেশে
স্বাস্থ্য
খাতে
এআই
(আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের)
ব্যবহারে
নিয়ন্ত্রণে
ব্যবস্থা
নেয়ার
সময়
এখনই।
কেননা
এরই
মধ্যে
বেশকিছু
অ্যাপস
ও
টেলিমেডিসিন
সেবায়
এআই
(চ্যাটবট, অ্যালগরিদম)
ব্যবহূত
হচ্ছে,
ভবিষ্যতে
কোনো
অনাকাঙ্ক্ষিত
ঘটনা
এড়াতে
এখনই
সংশ্লিষ্ট
সবাইকে
সক্রিয়
হওয়া
প্রয়োজন।
এছাড়া
ভবিষ্যৎ
স্বাস্থ্যনীতি
প্রণয়নে
কভিড-পরবর্তী
জটিলতা,
চিকিৎসা
গবেষণা,
অসংক্রামক
ব্যাধি,
ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়ার
মতো
নতুন-পুরনো
অসুখের
পুনরায়
বিস্তার,
বয়স্ক
ব্যক্তিদের
স্বাস্থ্য
সমস্যা,
মলিকিউলার
ডায়াগনস্টিকস,
অভিবাসীদের
স্বাস্থ্য
সমস্যা,
হেলথ
ট্যুরিজম
ইত্যাদি
ক্ষেত্রে
সম্ভাব্য
উদ্ভূত
পরিস্থিতি
বিবেচনায়
নিতে
হবে।
একটি
শক্তিশালী
ও
যুগোপযোগী
নীতি
দেশের
একটি
খাতকে
বিশ্বে
মাথা
উঁচু
করে
দাঁড়
করাতে
পারে,
যেমনটি
সম্ভব
হয়েছিল
ওষুধ
নীতি
১৯৮২-এর
মাধ্যমে—যেটি
আগে
বাংলাদেশ
৮৪
শতাংশ
ওষুধ
বিদেশ
থেকে
আমদানি
করত,
ওষুধ
নীতি
বাস্তবায়নের
ফলে
৯৭
শতাংশ
ওষুধ
দেশেই
উৎপাদিত
হয়
এবং
১৬০টির
বেশি
দেশে
বাংলাদেশী
ওষুধ
রফতানি
করা
হয়।
আশা
করি,
একটি
কার্যকর
স্বাস্থ্যনীতির
মাধ্যমে
ভবিষ্যৎ
বাংলাদেশে
বছর
বছর
কষ্টার্জিত
বৈদেশিক
মুদ্রার
বড়
অংশ
(প্রায় ৪০০
কোটি
ডলার
প্রতি
বছর)
বিদেশে
চিকিৎসা
নিতে
গিয়ে
আর
খরচ
হবে
না,
বরং
বাংলাদেশেই
আন্তর্জাতিক
মানসম্পন্ন
সব
চিকিৎসা
প্রদান
সম্ভব
হবে,
দেশের
মানুষ
কেবল
জীবন
রক্ষাকারী
চিকিৎসাই
পাবে
না,
বরং
দেশের
চিকিৎসায়
সন্তুষ্ট
হবে
এবং
ভরসাও
রাখবে।
চিকিৎসকরা
সেভাবেই
প্রশিক্ষিত।
এবার
পালা
স্বাস্থ্য
প্রশাসক
ও
নীতিনির্ধারকদের
সেই
পথে
অগ্রসর
হওয়ার।
ডা. মোহিব
নীরব: ফেলো, ওয়াইপিএফ
হেলথ
অ্যান্ড
ওয়েলবিং
মেডিকেল ও ডেল্টাল সোসাইটি প্লাটফর্মের প্রতিষ্ঠাতা










