ডা. মোজাহেরুল হক চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ থেকে পড়াশোনার পাট চুকিয়ে সরকারি বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে অধ্যাপনা করেছেন। সেন্টার ফর মেডিকেল এডুকেশন ও জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ছিলেন তিনি। পরবর্তী সময়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় যোগদান করেন। ২০১১ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিজিওনাল অ্যাডভাইজার হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন। বর্তমানে ইউনেস্কোর মাস্টার ট্রেইনার হিসেবে বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে ইথিকস বিষয়ে পড়াচ্ছেন এবং ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন ফর মেডিকেল এডুকেশনের সিনিয়র অ্যাডভাইজার ছিলেন। নভেল করোনাভাইরাসের বর্তমান পরিস্থিতি, ডেঙ্গু, হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা, গণটিকাদান প্রভৃতি বিষয়ে তার সঙ্গে কথা হয় বণিক বার্তার। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এম এম মুসা

করোনার প্রাদুর্ভাবের মধ্যেই ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে। হাসপাতালগুলোয় করোনা আক্রান্ত রোগীরাই ভর্তি হতে পারছে না, আসন খালি নেই। এক্ষেত্রে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কীভাবে সাজানো প্রয়োজন?

আমরা আসলেই একটি ভয়াবহ সংকটকাল অতিক্রম করছি। একদিকে করোনা সংক্রমণ বাড়ছে, অন্যদিকে বর্ষাকাল। এ সময়টায় ঠাণ্ডাজনিত রোগসহ ভাইরাল ইনফ্লুয়েঞ্জা, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার প্রকোপও দেখা দেয়। তাছাড়া স্বাভাবিক ঝুঁকিপূর্ণ হার্ট, ব্রেন, কিডনি ও ফুসফুস এবং অন্যান্য ক্রনিক রোগীর চিকিৎসার প্রয়োজন তো রয়েছেই। যে কারণে পুরো চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা এখন সংকটে। এ সংকট মোকাবেলা করতে হলে পুরো স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা, বিশেষ করে উপজেলা হাসপাতালগুলোকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে রোগ আগে শনাক্ত ও ত্বরিত চিকিৎসার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে জাতীয় ও জেলা হাসপাতালগুলোয় চাপ না পড়ে। এজন্য  একটি কার্যকর রেফারেল পদ্ধতি চালু করা দরকার।

প্রথম মনোযোগ দিতে হবে আমাদের পুরো স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সক্ষমতা যাচাইয়ের ওপর। কোন কোন জায়গায় সক্ষমতার ঘাটতি আছে আমাদের। আর কোনটা বা কোন অবস্থা অগ্রাধিকার পাবে। কোন স্বাস্থ্য সমস্যাটি সহজভাবে অল্প সামর্থ্য বাড়িয়ে জরুরি ভিত্তিতে সমাধানের চেষ্টা করা যায়। সবাই স্বীকার করবেন করোনা ও ডেঙ্গু মোকাবেলা অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত।

দুটিই জনস্বাস্থ্য সমস্যা। জনসচেতনতা ও জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে তা মোকাবেলা বা এটির প্রকোপ কমানো সম্ভব। ডেঙ্গু প্রতিরোধের জন্য মশক নিধন ও অন্যান্য কার্যক্রম জোরদার করে ডেঙ্গু রোগী কমানো সম্ভব। এতে হাসপাতালের ওপর চাপ কমে যাবে। তাছাড়া ডেঙ্গু একটি সাময়িক বর্ষাকালীন স্বাস্থ্য সমস্যা। খুব কম অর্থ ব্যয় করেই জনগণের সহযোগিতায় এটি মোকাবেলা করা সম্ভব।

পাশাপাশি আমরা যদি উপজেলা পর্যায়ে র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টের মাধ্যমে করোনা রোগী শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া জোরদার করে আইসোলেশন ও ত্বরিত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারি, তাহলে করোনা নিয়ন্ত্রণে তা বিশেষ ভূমিকা রাখবে। সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার কমাতে সহায়ক হবে।

বর্তমান সময়ে এ দুটি প্রধান রোগ নিরাময় ও নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে গিয়েই আমরা আমাদের উপজেলা হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা যাচাই করে বাড়ানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারি।

করোনায় হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় নির্দিষ্ট গাইডলাইন রয়েছে। সেটি কতটা মেনে চলছে হাসপাতালগুলো? 

করোনা চিকিৎসা ও হাসপাতাল সেবা ব্যবস্থাপনা প্রটোকল মেনেই চিকিৎসা ব্যবস্থা পরিচালিত হওয়া উচিত। তবে অবশ্যই প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষিত জনবল ও আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি, ওষুধ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর সঠিক সময়ে সঠিক জোগান বা প্রাপ্তি গুরুত্বপূর্ণ। এটা হলো ব্যবস্থাপনার দিক আর করোনা চিকিৎসা প্রটোকল বা গাইডলাইন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) পরামর্শের সঙ্গে সংগতি রেখেই করতে হবে।

বাংলাদেশের একটি করোনা চিকিৎসা প্রটোকল আছে। কিন্তু এটি বাস্তবায়নে অনেক সমস্যার মধ্যে একটি হলো প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্য জনবলের স্বল্পতা। বাংলাদেশের হাসপাতালগুলোয় প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জনবলের ঘাটতি রয়েছে। তাছাড়া এর মধ্যে নার্সের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কম। বর্তমান সময়ে বিশেষ করে আইসিইউ, এইচডিইউ ইত্যাদি ব্যবস্থাপনার জন্যও বিশেষ প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেয়া দরকার। তাছাড়া যেকোনো চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রটোকল সঠিকভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রশিক্ষণ প্রদান যেমন অত্যাবশ্যক, তেমনি এটি সঠিকভাবে বাস্তবায়নে মনিটরিং ও নিয়মিত সুপারভিশন অত্যাবশ্যক। পাশাপাশি ডব্লিউএইচও বা অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার এ-জাতীয় প্রটোকলগুলো নিয়মিত পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন ও সময়োপযোগী করাও প্রয়োজন।

বেসরকারি হাসপাতালগুলো অনেক বেশি অর্থ আদায় করছে করোনা চিকিৎসায়। এক্ষেত্রে সরকারের নিয়ন্ত্রণ নেই বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি আপনি কীভাবে দেখছেন? এর সমাধানই-বা কী?

বেসরকারি হাসপাতালগুলোর ওপর সরকারের তেমন কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। এগুলো অত্যন্ত ব্যয়বহুল। সাধারণ জনগোষ্ঠীর এখানে চিকিৎসা নেয়া প্রায় অসম্ভব। প্রকারান্তরে এগুলো রাজধানী বা শহরকেন্দ্রিক। সরকারের উচিত হবে সরকারি হাসপাতালগুলোয় আরো শয্যা সংখ্যা ও জনবলসহ আনুপাতিক সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো। উপজেলা পর্যায় থেকেই কাজটি শুরু করতে হবে। এতে দেশের ৬৫ শতাংশ জনগোষ্ঠী উপকৃত হবে। পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসতে হবে কীভাবে সেখানে চিকিৎসা ব্যয় সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনা যায় বা পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপে জেলা পর্যায়ে উন্নত মানের কোনো হাসপাতাল চালু করা যায় কি না, এটি যাচাই করে দেখা। 

করোনা ব্যবস্থাপনার প্রটোকল কীভাবে সাজানো প্রয়োজন?

এটি সত্য যে করোনা তার বিভিন্ন ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে অনেক দিন থাকবে। এটা মেনে নিয়েই আমাদের এর সঙ্গে সহাবস্থান করতে হবে। তবে সরকার ও জনগণের মাথায় রাখতে হবে এটি একটি জনস্বাস্থ্য সমস্যা। এটি মোকাবেলায় জাতীয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিতে হবে। টিকা প্রদান ও স্বাস্থ্যবিধি মানা নিশ্চিত করতে হবে। এর মাধ্যমেই একমাত্র করোনা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

করোনার চিকিৎসার জন্য কিছু প্রটোকল তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, সেটি সঠিকভাবে মানা হচ্ছে না। এক্ষেত্রে প্রতিকার কী?

ডব্লিউএইচও ও দেশের প্রটোকল মেনেই চিকিৎসকদের চিকিৎসা দিতে হবে। এর ব্যত্যয় ঘটলে তারা আইনি সমস্যায় পড়তে পারেন। উচিত হবে প্রটোকল সঠিকভাবে অনুসরণ করা। ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের জন্য আলাদা কোনো প্রটোকলের প্রয়োজন নেই। তবে রোগীদের দ্রুত শনাক্তকরণ ও চিকিৎসার আওতায় আনা জরুরি। এটা দ্রুত সংক্রমণ ও ফুসফুসকে অকার্যকর করে।

করোনা সংক্রমণ গ্রাম পর্যায়ে ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু টেস্টিং কার্যক্রম গ্রাম পর্যায়ে সম্প্রসারণ করা যায়নি। করোনা পরীক্ষা বাড়িয়ে তুলতে করণীয় কী?

বাংলাদেশে করোনার সামাজিক সংক্রমণ চলছে। গ্রামে গ্রামে করোনা ছড়িয়ে পড়েছে। এখন যা করা দরকার  তা হলো, শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া জোরদার, কনট্যাক্ট ট্রেসিং, কোয়ারেন্টিন ও সরকারি আইসোলেশন। উপজেলা ও ইউনিয়ন হেলথ সেন্টারে র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টের ব্যবস্থা করা উচিত। সংক্রমিতদের শনাক্ত করে যত তাড়াতাড়ি চিকিৎসার আওতায় আনা যাবে ততই এ রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে।

দেশের অধিকাংশ মানুষ এখনো করোনা টেস্ট করতে আগ্রহী হচ্ছে না। এর কারণ কী? টিকা গ্রহণে বাংলাদেশীদের সুনাম আছে। কিন্তু এখনো অধিকাংশ মানুষকে এতে সম্পৃক্ত করা যাচ্ছে না কেন?

টেস্ট ও টিকার ব্যাপারে জনগণের রিজারভেশন থাকার একটি মূল কারণ সরকারের দুর্বল রিস্ক কমিউনিকেশন। সরকার জনগণকে করোনার ঝুঁকি সম্পর্কে যথাযথভাবে বোঝাতে পারেনি। পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি মানতে ও মানাতেও ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। করোনা নিয়ন্ত্রণে এ দুটি বিষয়ই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। লকডাউন ব্যবস্থাপনায়ও চরমভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে সরকার।

লকডাউন দেয়া হচ্ছে আবার সেটি ভঙ্গ করা হচ্ছে নানা অজুহাতে। এমন অব্যবস্থাপনা কেন?

করোনা নিয়ন্ত্রণে সরকারের কোনো কৌশলগত পরিকল্পনা আছে কিনা, এটি জনগণের কাছে পরিষ্কার নয়। এটি জনসম্পৃক্ততার জন্য জনগণের জানা উচিত। কী পরিস্থিতিতে বা সংক্রমণের হার কত হলে সরকার লকডাউন দেবে, সে ব্যাপারে জনগণ সবসময় অন্ধকারে থেকেছে। লকডাউন লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছে। এটি মানুষের হাস্যরসে পরিণত হয়েছে। সরকারের ভালো উদ্যোগেও জনগণের আস্থাহীনতা লক্ষ করা গেছে। আগামীতে সরকারের উচিত এ বিষয়গুলোর ওপর গুরুত্ব দেয়া। দেশব্যাপী লকডাউন না দিয়ে সংক্রমণ যেখানে বেশি সেখানে স্মার্ট লকডাউনের ব্যবস্থা করা উচিত। এতে অর্থনীতি সচল ও রোগ নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে।

অনেকের করোনার একাধিক পরীক্ষায় একাধিক ফল আসছে। কীভাবে এ সমস্যার সমাধান করা যায়?

আরটিপিসিআর করোনা নির্ণয় টেস্টের জন্য নিরাপদ ও সর্বজনবিদিত প্রক্রিয়া। কিন্তু তারপরও যেকোনো টেস্টের মতো এটিতেও ভুল রেজাল্ট আসতে পারে। মান রক্ষার দায়িত্ব সরকারের, পরীক্ষাগার ও পরীক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্তদের। সন্দিহান হলে আবার টেস্ট করাতে পারেন, অভিযোগ আনা যেতে পারে। এখানে সরকারের রেফারেন্স ল্যাবরেটরির দায়িত্ব আছে। তাদের তদারকি আরো বাড়াতে হবে। এখানেও জনবলের সংকটের কথা শোনা যায়। দ্রুত এ ঘাটতি পূরণ না করা গেলেও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে একে শক্তিশালী করতে হবে।

প্রথম দিকে করোনা পজিটিভ হলে সরকারের পক্ষ থেকে ফোনে কিছু সেবা দেয়া হতো। এখন সেটি কার্যকর নেই? বিশ্বের সব দেশেই করোনা ব্যবস্থাপনা উন্নত হচ্ছে। আমাদের সেবা নিম্নগামী হওয়ার কারণ কী?

এটা সত্যি। অভিজ্ঞতা ও সময়ের সঙ্গে ব্যবস্থাপনার মান বাড়বে। এটাই জনগণ আশা করে। কিন্তু আমাদের এখানে ঘটে উল্টোটা। সরকারের উচিত বিষয়টি আন্তরিকভাবে দেখা এবং সেবার মান বাড়াতে সচেষ্ট হওয়া।

কীভাবে টিকা প্রদান কার্যক্রমকে সুশৃঙ্খল করা যায়?

সরকারের গণটিকা প্রদানের সিদ্ধান্ত সময়োপযোগী। কিন্তু ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতার কারণে এতে নানা সমস্যা দেখা দিয়েছে। এগুলো ঠিক করা কঠিন কিছু নয়। লকডাউনে জনগণ সম্পৃক্ত হয়নি। এ টিকা কার্যক্রমকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।

১. সরকারের ২৫ কোটি ডোজ টিকা সংগ্রহের জরুরি ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে গণটিকার উদ্যোগ ব্যাহত না হয়; ২. ইউনিয়ন পর্যায়ে সবার টিকার প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। এ ব্যাপারে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের দায়িত্ব নিতে হবে এবং দায়বদ্ধ করতে হবে।

সারা বিশ্বে টিকার যেমন ঘাটতি রয়েছে, পাশাপাশি এখন অনেক দেশই টিকা প্রস্তুত করছে আবার অনেক দেশ গবেষণা করছে টিকা আবিষ্কারের। অনেকেই অন্য দেশের সহযোগিতা নিয়ে টিকা উৎপাদনের উদ্যোগ নিচ্ছে। বাংলাদেশের উচিত টিকা নিয়ে গবেষণা করা বা গবেষণায় অংশগ্রহণ করা।

বাংলাদেশ একটি জনবহুল দেশ। সবার জন্য টিকা জোগাড় করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল, আবার পরনির্ভরতা ঝুঁকিপূর্ণ। যেটির অভিজ্ঞতা আমাদের আছে। তাই আজ হোক কাল হোক, আমাদের নিজস্ব টিকা তৈরির সক্ষমতা থাকতে হবে। টিকা তৈরির জন্য আমাদের লক্ষ্য ঠিক করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নিজেদের টিকা তৈরি করে পরনির্ভরতা এড়াতে হবে। এজন্য সিদ্ধান্ত নেয়ার এখনই সময়। আশার কথা, এরই মধ্যে টিকা উৎপাদনের লক্ষ্যে সিনোফার্ম ও ইনসেপ্টার সঙ্গে সরকারের চুক্তি সই হয়েছে। এটি শুধু প্যাকেজিংয়ের চুক্তি, এখানেই যৌথ উদ্যোগে টিকা উৎপাদনের উদ্যোগ নিতে হবে।

দেশে কোন টিকার কার্যকারিতা কেমন, সেটি যাচাই না করেই একটি টিকার বিপুলসংখ্যক আমদানিকে আপনি কীভাবে দেখছেন?

প্রথমত, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদিত যেকোনো টিকা, যা আগে পাওয়া যায়, পরিকল্পনা ও পরিমাণ অনুযায়ী নিশ্চিত হওয়া যায়, তাকেই অগ্রাধিকার দিতে হবে। পাশাপাশি যাদের সঙ্গে দেশে টিকা উৎপাদনের চুক্তি তাড়াতাড়ি করা যায়, তার সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তবে তা অবশ্যই টেকনোলজি ট্রান্সফারের মাধ্যমে হতে হবে, যাতে পরনির্ভরতা এড়ানো যায়। টিকার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন থাকতেই পারে এবং থাকবে, কারণ সব টিকা নিয়েই গবেষণা চলছে এবং চলমান থাকবে। আমাদের আদর্শ টিকার জন্য অপেক্ষা করতে হবে, তবে তা কত দিন কারো জানা নেই।

টিকা প্রদানের পরও মানুষ করোনা আক্রান্ত হচ্ছে। ভবিষ্যতে আসলে আমাদের সামনে কী অপেক্ষা করছে?

টিকা নেয়ার পরেও মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে, এটি মেনে নিতে হবে। শতভাগ নিশ্চয়তার কোনো টিকা আবিষ্কৃত হয়নি এখনো। আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যুর শঙ্কাও থাকবে। এর পরও টিকা ও স্বাস্থ্যবিধি মানা—এ দুটি মিলিয়েই আমাদের করোনার বিরুদ্ধে সুরক্ষা পেতে হবে।

 

শ্রুতলিখন: রুহিনা ফেরদৌস