মানুষ ও দুর্ঘটনা নিত্যসঙ্গী। প্রতিদিন দুর্ঘটনায় হতাহতের অনেক খবর আসে। দুর্ঘটনায় সব মৃত্যুই দুঃখজনক। তবে অল্প কিছু মনে গভীর ছাপ রেখে যায়। এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর মধ্যে রয়েছে পদদলিত হওয়ার ঘটনা। যা নিমেষে একটি উৎসবকে শোকের ময়দানে পরিণত করতে পারে।
সমাবেশ বা উত্সবের সময়ে পদদলিত হওয়ার ঘটনা বেশি ঘটে। গত শনিবার তেমনই একটি ঘটনার সাক্ষি হলো বিশ্ববাসী। দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে হ্যালোইন উৎসব পদদলিত হয়ে কমপক্ষে ১৫১ নিহত হয়েছে।
এবার এক নজরে দেখা যাক, গত তিন দশকের ভয়াবহ কিছু পদদলিত হওয়ার ঘটনা।
১৯৮৯ সালের এপ্রিলে ব্রিটেনের শেফিল্ড শহরের হিলসবরো স্টেডিয়ামে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে পদদলিত হয়ে ৯৬ জন নিহত হন। ওই ঘটনায় কমপক্ষে ২০০ জন আহত হন। লিভারপুল ও নটিংহ্যাম ফরেস্টের মধ্যে ইংলিশ এফএ কাপের সেমি-ফাইনালের ম্যাচ হচ্ছিল সেদিন।
১৯৯০ সালের জুলাইয়ে সৌদি আরবে হজ পালনের সময়ে ১ হাজার ৪২৬ জন তীর্থযাত্রী পদদলিত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। দেশটির আল মুয়াইসেম সুড়ঙ্গের মধ্যে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার কয়েক বছর পর ১৯৯৪ সালে মে মাসে জামারাত ব্রিজের কাছে পদপিষ্ট হয়ে ২৭০ জন তীর্থযাত্রী নিহত হন। শয়তানের প্রতীক পাথরের স্তুপে তীর্থযাত্রীদের পাথর নিক্ষেপের সময়ে এ ঘটনা ঘটে। ১৯৯৮ সালের এপ্রিলেও সৌদি আরবে হজ পালনের সময়ে ১১৯ জন পদদলিত হন। এ ছাড়া ২০০৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে জামারাত ব্রিজের কাছে পাথর নিক্ষেপের সময় ২৫১ জন পদদলিত হয়ে নিহত হন।
২০০১ সালের মে মাসে আফ্রিকার দেশ ঘানায় পদদলিত হয়ে কমপক্ষে ১২৬ জনের মৃত্যু হয়। দেশটির রাজধানী আক্রার প্রধান ফুটবল স্টেডিয়ামে এ ঘটনা ঘটে।
২০০৫ সালের জুনে ভারতের মহারাষ্ট্র প্রদেশের এক মন্দিরে তীর্থযাত্রীদের ভিড়ে পদদলিত হয়ে ২৬৫ জন মারা যান। একই বছরের আগস্টে ইরাকে ১ হাজার ৫ জন শিয়া সম্প্রদায়ের অনুসারী নিহত হন। রাজধানী বাগদাদে টাইগ্রিস নদীর ওপর নির্মিত সেতুতে আত্মঘাতী বোমা হামলার গুজবের কারণে এ ঘটনা ঘটে।
২০১০ সালের নভেম্বরে কম্বোডিয়ায় জলকেলি উত্সবে পিষ্ট হয়ে ৩৫০ জন নিহত হন। দেশটির রাজধানী নমপেনের অনুষ্ঠিত ওই উত্সবে আতঙ্ক সৃষ্টির পরই এ ঘটনা ঘটে। ব্রাজিলের সান্তা মারিয়ায় দক্ষিণ ব্রাজিলিয়ান কলেজ টাউনের এক নাইটক্লাবে অগ্নিকাণ্ডের সময় পিষ্ট হয়ে ২৩০ জনেরও বেশি মানুষ মারা যায়। ২০১৩ সালের জানুয়ারির ওই ঘটনায় ধোঁয়া ও অগ্নিশিখা থেকে বাঁচতে গিয়ে এ ঘটনা ঘটে।
২০২১ সালের এপ্রিলে ইসরায়েলে ধর্মীয় উত্সবে উপচে পড়া ভিড়ে পিষ্ট হয়ে কমপক্ষে ৪৪ জন নিহত হন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে লাইবেরিয়ায় রাজধানী মনরোভিয়ায় অবস্থিত এক গির্জায় উপাসনা চলাকালে ২৯ জন পদদলিত হয়ে মারা যান। এ ছাড়া গত অক্টোবরে ইন্দোনেশিয়ার ফুটবল স্টেডিয়ামে দাঙ্গা ও পদদলিত হয়ে কমপক্ষে ১২৫ জন নিহত এবং ৩২০ জনেরও বেশি আহত হন।











