বিশ্বজুড়ে ডিজিটাল শিক্ষার জয়জয়কার। তবে কি স্মার্ট স্ক্রিনের ভিড়ে কলম-কাগজ জাদুঘরে চলে যাচ্ছে? সাম্প্রতিক গবেষণা ও শিক্ষানীতি বলছে—একদমই না। ক্লাসরুমে আবারও ফিরছে হাতে লেখার চল। যুক্তরাষ্ট্রের ২০টিরও বেশি অঙ্গরাজ্যে আবার বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে ‘কার্সিভ’ বা টানা হাতের লেখা।

বিশেষ করে নিউ জার্সিতে সম্প্রতি আইন করে তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য টানা হাতের লেখা বা ‘কার্সিভ’ শেখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ পদক্ষেপ কার্সিভ যুদ্ধ তথা আধুনিক বনাম সনাতন পদ্ধতির বিতর্ককে নতুন করে উসকে দিয়েছে।

নিউরোলজিস্টদের মতে, কাগজ কলমে লেখা শুধু হাতের নৈপুণ্য নয়, এটি শেখার একটি গুরুত্বপূর্ণ মানসিক প্রক্রিয়া। হাতে লেখার সময় শিশুদের মস্তিষ্কে একাধিক অংশ একসঙ্গে সক্রিয় হয়। চোখ, হাত ও চিন্তার সমন্বয় মস্তিষ্কের লার্নিং নেটওয়ার্ক বা শেখার প্রক্রিয়াকে আরো শক্তিশালী করে তোলে। এতে অক্ষর চেনা, শব্দ গঠন ও তথ্য মনে রাখার সক্ষমতা বাড়ে।

ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটির নিউরোসায়েন্টিস্ট কারিন হারম্যান জেমস এক গবেষণায় দেখেছেন, যেসব শিশু হাতে অক্ষর লেখে, তাদের মস্তিষ্কের কার্যকলাপ অনেকটা প্রাপ্তবয়স্ক পাঠকদের মতো হয়ে ওঠে। তার মতে, হাতে কলমে অক্ষরের আকার তৈরি করা স্মৃতিশক্তি ও বোধগম্যতা বৃদ্ধিতে সরাসরি সাহায্য করে। অন্যদিকে, যারা কেবল টাইপ করা শেখে, তাদের মস্তিষ্কে এ ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যায় না।

অন্যদিকে সমালোচকরা মনে করেন, কার্সিভ লেখা বর্তমান বাস্তবতায় অপ্রয়োজনীয়। আধুনিক জীবনে টাইপ করা এখন একটি মৌলিক দক্ষতা, যা শিক্ষা ও কর্মজীবনের জন্য অপরিহার্য। বাস্তবে খুব কম ক্ষেত্রেই কার্সিভ লেখার ব্যবহার দেখা যায়। তাই এ দক্ষতার জন্য শ্রেণিকক্ষে সময় ব্যয় করার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

এ টানাপোড়েন থেকেই তৈরি হয়েছে তথাকথিত ‘কার্সিভ যুদ্ধ’। শিক্ষা, সংস্কৃতি ও প্রযুক্তির সংঘাতে কার্সিভ লেখা হয়ে ওঠেছে একটি প্রতীকী বিষয়। তবে পুরোপুরি ডিজিটাল শিক্ষায় অভ্যস্ত হওয়ার কুফলও দৃশ্যমান হচ্ছে। নরওয়ের বেশ কিছু স্কুলে দেখা গেছে, প্রথম শ্রেণির অনেক শিশু এখনো পেন্সিল ধরতে পারে না। কারণ তারা ট্যাবলেটে অভ্যস্ত।