মিয়ানমারের রাজধানী নেপিদো নতুনভাবে গড়ে তোলা হবে। গত মাসে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর রাজধানীর অনেক সরকারি ভবন ধসে পড়েছে। অনেক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে রাজধানী নেপিদোকে পুনর্নির্মাণ করার পরিকল্পনা করছেন দেশটির সেনাশাসক সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং। খবর বিবিসি।
সরকারি এক বৈঠকে তিনি বলেন, ‘ভূমিকম্পে যেসব ভবন ধ্বংস হয়েছে, সেগুলো মূলত নরম মাটির ওপর নির্মাণ হওয়ায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভবিষ্যতের জন্য ভূমিকম্প-প্রতিরোধী নতুন অফিস ভবন তৈরি করা হবে। তবে তার আগে মাটির গুণগত মান পরীক্ষা করা হবে।’
এছাড়া বৌদ্ধ নববর্ষের ভাষণেও ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত মন্ত্রণালয় ও আবাসিক ভবন পুনর্নির্মাণসহ পরিবহন সংযোগ পুনরুদ্ধারে জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং।
সেনা সরকার তাদের ফটো আর্কাইভে জানিয়েছে, ভয়াবহ ভূমিকম্পে প্রেসিডেন্টের বাসভবন, সংসদ ভবন, শ্রম মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ও ইউনিয়ন কোর্টসহ বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয় ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভূমিকম্পে রাজধানীর প্রায় ৭০ শতাংশ সরকারি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিছু অফিস এরই মধ্যে ইয়াঙ্গুনে স্থানান্তর করা হয়েছে।
গত ২৮ মার্চ ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে মিয়ানমার, যা থাইল্যান্ড ও চীনের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশেও অনুভূত হয়েছিল।
দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম মায়ানমা আলিনের তথ্যমতে, মিয়ানমারে এ ভূমিকম্পে ৩ হাজার ৫০০ জনের বেশি নিহত ও পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছে। ভয়াবহ এ ভূমিকম্পে ৬৫ হাজার ৯৬টি বাড়ি ও ভবন, ২ হাজার ৫১৪টি স্কুল, ৪ হাজার ৩১৭টি বৌদ্ধ মঠ, ৬ হাজার ২৭টি প্যাগোডা ও মন্দির, ৩৫০টি হাসপাতাল ও ক্লিনিক, ১৭০টি সেতু, ৫৮৬টি বাঁধসহ দেশের প্রধান মহাসড়কের ২০৩টি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া দেশটির উদ্ধারকাজে সহায়তা করেছে ২৫ দেশের দুই হাজার সহায়তাকর্মী।
২০০৫ সালের নভেম্বরে বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গুন দেশের রাজধানীর মর্যাদা হারায়। সে সময় ইয়াঙ্গুন থেকে প্রায় ৩৭০ কিলোমিটার দূরে অত্যন্ত পরিকল্পিত নতুন শহর নেপিদোয় রাজধানী স্থানান্তর করা হয়। নেপিদো একটি পরিকল্পিত শহর, বিশাল প্রশস্ত রাস্তা, বিলাসবহুল কিন্তু ফাঁকা হোটেল, শপিং মল, চিড়িয়াখানা, স্টেডিয়াম সবকিছুই আছে, তবে জনসমাগম কম। শহরটি লন্ডনের চেয়ে চার গুণ বড়।
এদিকে মিয়ানমারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইরাবতির তথ্যমতে, এরই মধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, হোটেল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, অভিবাসন ও জনসংখ্যা মন্ত্রণালয় ইয়াঙ্গুনে স্থানান্তরের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ভেতরের গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্র, যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য জিনিসপত্র সরিয়ে নেয়ার নির্দেশও দিয়েছে প্রশাসন।
আগের সামরিক কর্তৃপক্ষ রাজধানী নেপিদোয় স্থানান্তর করার সময় ইয়াঙ্গুনের কিছু সরকারি ভবন ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে দেয়। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ বেশ কয়েকটি অফিস ভবন এখনো রয়ে গেছে এবং কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
অন্য কিছু বিভাগ নেপিদোয় হোটাই" নামে খোলা জায়গায় স্টিল কাঠামোর অস্থায়ী হলঘরে অফিস করছে। জাতীয় জাদুঘরের কর্মীরা সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, তারা পাণ্ডুলিপি, প্রাচীন লিপি, হাজার হাজার বই, সাহিত্য ও কম্পিউটারগুলো সংরক্ষণের চেষ্টা করছেন।










