ভেনিজুয়েলার প্রসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। যিনি ২০১৩ সাল থেকে দেশটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট হুগো শাভেজের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। শাভেজের মৃত্যুর পর তিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট হন। শাভেজের শাসনামলে মাদুরো পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পরে ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে ছিলেন।

তার পুরো নাম নিকোলাস মাদুরো মোরোস। তিনি ১৯৬২ সালের ২৩ নভেম্বর ভেনেজুয়েলার কারাকাসে জন্মগ্রহণ করেন। মাদুরো পেশাগত জীবনের শুরু করেছিলেন বাসচালক হিসেবে। পরে ট্রেড ইউনিয়নের কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন। ২০১৩ সাল থেকে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সোশ্যালিস্ট পার্টির নেতা ছিলেন। ভেনিজুয়েলার বামপন্থি রাজনৈতিক আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার পর দেশটির রাজনীতিতে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন।

প্রেসিডেন্ট হিসেবে মাদুরো নিজেকে ভেনিজুয়েলার সমাজতান্ত্রিক প্রকল্পের রক্ষক হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র সমালোচক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি বারবার অভিযোগ করেছেন যে, ওয়াশিংটন তার সরকারকে উৎখাত করার চেষ্টা, অর্থনৈতিক ক্ষতি এবং নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।

পশ্চিমা সরকার ও বিরোধী নেতারা মাদুরোর ওপর কর্তৃত্ববাদী শাসনের অভিযোগ এনেছেন। বিরোধী নেতারা অভিযোগ করেছেন, মাদুরো গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করেছেন, নির্বাচনে ছলচাতুরি করেছেন। যদিও মাদুরো এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কর্তৃপক্ষ তাকে বিজয়ী ঘোষণা করে। তবে ভোটের ফল প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দেয় বিরোধীরা। তাদের দাবি, প্রকৃতপক্ষে ভেনেজুয়েলার জনগণ বিরোধীপ্রার্থী এডমুন্ডো গনজালেসের প্রতি রায় দিয়েছেন। কিন্তু গণরায় পাল্টে দিয়েছে ক্ষমতাসীনেরা। টানা ছয় মাস ধরে এমন বিবাদের মধ্যেই তৃতীয়বারের মতো শপথ নেন মাদুরো। যদিও যুক্তরাষ্ট্র এ নির্বাচনকে ও প্রেসিডেন্ট হিসেবে মাদুরোকে স্বীকৃতি দেয়নি।