ইরানের পরমাণু স্থাপনায় হামলার বিষয়ে মার্কিন কংগ্রেস সদস্যদের জন্য নির্ধারিত গোপন ব্রিফিং গতকাল মঙ্গলবার স্থগিত করেছে হোয়াইট হাউস। এতে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে ডেমোক্রেটদের মধ্যে। খবর দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের।
সম্প্রতি ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলা নিয়ে দেশটির কংগ্রেসের উভয় কক্ষে মঙ্গলবার একটি গোপন ব্রিফিং হবে বলে জানানো হয়েছিল। সেখানে ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স টুলসি গ্যাবার্ড, সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফ এবং জয়েন্ট চিফ অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনসহ হোয়াইট হাউস ও গোয়েন্দা বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তাদের থাকার কথাও ছিল। তবে সিনেটের জন্য ব্রিফিংটি বৃহস্পতিবার এবং হাউসের জন্য শুক্রবারে সরিয়ে নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
ব্রিফিং বিলম্বের খবরটি এমন সময়ে এল যখন মার্কিন গোয়েন্দা বিভাগের একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার (ডিআইএ) এই মূল্যায়নে জানানো হয়েছে, শনিবার চালানো বিমান হামলায় ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ ও অবকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়নি। অর্থাৎ ট্রাম্প যতটা ক্ষতির ঘোষণা দিয়েছেন, ঠিক ততটা হয়নি। বরং দুটি স্থাপনার প্রবেশপথ ধ্বংস হলেও ভূগর্ভস্থ কাঠামো অক্ষত রয়েছে। তবে এই মূল্যায়নকে ‘একজন নিম্নপদস্থ গোয়েন্দা কর্মকর্তার ফাঁসকৃত ভুল তথ্য’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে হোয়াইট হাউস।
এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্পকে ১৯৭৩ সালের ওয়ার পাওয়ারস রেজুল্যুশন অনুসারে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কংগ্রেসকে অবহিত করার এবং ব্রিফিং দেয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা মনে করিয়ে দিয়েছেন ডেমোক্রেট নেতারা।
সোমবার সন্ধ্যায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কংগ্রেসে একটি সংক্ষিপ্ত চিঠি পাঠান। এতে তিনি দাবি করেন, হামলাগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় এবং বৈদেশিক নীতির স্বার্থে তার সাংবিধানিক কর্তৃত্বের অধীনে পরিচালিত হয়েছে।
ডেমোক্রেটিক সিনেটর চাক শুমার বলেন, শেষ মুহূর্তে এসে ব্রিফিং স্থগিত করাটা লজ্জাজনক এবং দায়িত্বহীনতার পরিচয়। কংগ্রেসকে সুনির্দিষ্টভাবে কী ঘটছে তা জানানো প্রশাসনের জন্য এটি একটি আইনি বাধ্যবাধকতা।
হাউস স্পিকার মাইক জনসন বিলম্ব নিয়ে কোনো আপত্তি জানাননি। প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এবং পররাষ্ট্র ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে দ্বৈত দায়িত্বে থাকা মার্কো রুবিও শিগগিরই আইনপ্রণেতাদের এ বিষয়ে ব্রিফ করবেন। তিনি বলেন, হোয়াইট হাউস এবং নির্বাহী বিভাগ কংগ্রেসের ক্ষমতার প্রতি সম্মান দেখায়। যত দ্রুত সম্ভব তারা সমস্ত তথ্য সরবরাহ করবে।
এই গোপন ব্রিফিং কংগ্রেসে একটি বড় বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। বিশেষত ইরানে সামরিক আক্রমণে কংগ্রেসের অনুমোদনের নেয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নানা সমালোচনা চলছে। বেশিরভাগ রিপাবলিকান এই হামলা ও প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করলেও, ডেমোক্রেটরা বলছেন, কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে এই হামলা করা সংবিধানের লঙ্ঘন।
হাউস মাইনরিটি লিডার হাকিম জেফ্রিস বলেন, যদি এটি আত্মরক্ষামূলক না হয়ে আক্রমণাত্মক হয়, তবে হাউস ও সিনেটের অনুমোদন ছাড়া এটি চালানো যায় না। এটা ট্রাম্পের ইচ্ছার ব্যাপার নয়।
তিনি আরো বলেন, আমরা এখনো এমন কোনো প্রমাণ পাইনি যে, হামলাগুলো আইনি ভিত্তিতে করা হয়েছে বা তাৎক্ষণিক কোনো হুমকি ছিল। যদি প্রশাসনের কাছে তার প্রমাণ থাকে, তাহলে কংগ্রেসে এসে দেখাক।















