গাজায় হামলার পাশাপাশি লেবাননে হিজবুল্লাহ গোষ্ঠীর সঙ্গে উত্তেজনা চলছে ইসরায়েলের। এর মধ্যে ইয়েমেনের সঙ্গে নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। হুথিদের হামলার জবাবে ইয়েমেনের বন্দর নগরী হুদেইদাহতে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ওই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তিনজন নিহতের পাশাপাশি একটি পাওয়ার স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এদিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনয়ামিন নেতানিয়াহু হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জানিয়েছেন, ইসরায়েলে যারা হামলা চালিয়েছে তাদের ছেড়ে কথা বলবে না তেল আবিব। তিনি বলেন, ‘ইসরায়েলের ওপর যারা হামলা করবে আমরাও তাদের ওপর হামলা চালাব।’
এদিকে যুদ্ধের পাল্টা হুমকি দিয়েছে ইয়েমেনও। ইয়েমেন আর্মড ফোর্স হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে ইসরায়েলি হামলার জবাব তারা যথাযথভাবেই দেবে। একই সঙ্গে গাজা উপত্যকা ও লেবাননের দক্ষিণ সীমান্তে হামলা বন্ধ না করলে ইসরায়েলে হামলা চালানো হবে বলে হুঁশিয়ারিও দিয়েছে ইয়েমেন আর্মড ফোর্স।
এর আগে সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথিদের হামলার জবাবে শনিবার দিনভর ইয়েমেনের বন্দর নগরী হুদেইদাহতে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী। ক্ষেপণাস্ত্রসহ চার দফার ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইয়েমেনের পাওয়ার স্টেশন। এ হামলায় ইয়েমেনে কমপক্ষে ৮৭ জন আহত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইয়েমেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি অনেকের দগ্ধ হওয়ার খবরও প্রকাশ করেছে ইয়েমেনের গণমাধ্যমগুলো। এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা।
এর আগে গত শুক্রবার (জুলাই ১৯) ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় শহর তেল আবিবে ড্রোন হামলা চালায় হুথি সৈন্যরা। এতে তেল আবিবের মার্কিন দূতাবাসের একজন নিহত হন বলেও জানা গেছে। হুথিদের তেল আবিবে হামলার জবাবেই ইসরায়েলি সৈন্যরা হুদেইদাহতে হামলা চালায়।
হুথিদের হামলার সময় কেন ইসরায়েলি এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম সক্রিয় ছিল না সেটি এখনো অনুসন্ধান করে যাচ্ছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।
এদিকে গাজায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত। হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৯ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে, আহত হয়েছে প্রায় ৯০ হাজার। যাদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু। সেভ দ্য চিলড্রেন বলছে ২১ হাজার শিশু চলমান যুদ্ধে নিখোঁজ হয়েছে। ৫০ হাজারের অধিক গর্ভবতী নারী আছে ফিলিস্তিনে। এত বিপুলসংখ্যক গর্ভবতী নারী এবং আহত মানুষকে যথাযথ চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটি। পাশাপাশি তীব্র খাদ্য ও নিরাপদ পানির সংকটেও আছে ফিলিস্তিনে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার তথ্যমতে, ফিলিস্তিন-ইসরায়েল যুদ্ধে প্রায় ২০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।










