পরমাণু আলোচনা শেষে একটি চুক্তি সম্পাদনের জন্য ইরানকে আল্টিমেটাম দিয়েছে পশ্চিমা দেশগুলো। যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এক টেলিফোন আলোচনায় ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি সম্পাদনের জন্য আগস্ট মাসের শেষ দিনকে বেঁধে দিয়েছে। খবর অ্যাক্সিওস।

তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, ইরান যদি ২৯ আগস্টের মধ্যে তাদের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে কোনো অগ্রগতি না দেখায়, তাহলে এই তিন ইউরোপীয় দেশ ‘স্ন্যাপব্যাক’ প্রক্রিয়া শুরু করবে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তির ফলে ইরানের ওপর থেকে উঠে যাওয়া জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সব নিষেধাজ্ঞা আবারো স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফিরে আসবে।

এ বিষয়ে ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল ব্যারো বলেন, ‘ইরানের ওপর থেকে অস্ত্র, ব্যাংক ও পারমাণবিক সরঞ্জাম সংক্রান্ত যে বৈশ্বিক নিষেধাজ্ঞা দশ বছর আগে প্রত্যাহার করা হয়েছিল, তা আবার কার্যকর করার জন্য যথেষ্ট কারণ রয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে যদি কোনো স্পষ্ট, দৃশ্যমান ও নির্ভরযোগ্য প্রতিশ্রুতি না আসে, তবে আমরা আগস্টের শেষ নাগাদ এই পদক্ষেপ নেব।’

২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের ক্ষেত্রে চীন বা রাশিয়া ভেটো দিতে পারবে না। যুক্তরাষ্ট্র ২০১৮ সালে ওই চুক্তি থেকে সরে যাওয়ায় তারও ভেটোর অধিকার নেই। ফলে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি একতরফাভাবে ‘স্ন্যাপব্যাক’ প্রক্রিয়া সক্রিয় করতে পারবে। জাতিসংঘ সনদের সপ্তম অধ্যায় অনুযায়ী এই নিষেধাজ্ঞাগুলো বাধ্যতামূলক হবে এবং এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে—ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে, এমনকি গবেষণা পর্যায়েও নয়।

আরেকটি প্রস্তাব অনুযায়ী, জাতিসংঘের সব সদস্য রাষ্ট্রকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বা ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নে সহায়ক যেকোনো সামগ্রী, প্রযুক্তি বা উপকরণ রফতানি থেকে বিরত থাকতে হবে।

তবে ইরানের বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নিষেধাজ্ঞাগুলো পুনর্বহাল হলেও সঙ্গে সঙ্গে ইরানের তেল রফতানি বন্ধ হবে না বা আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় তাদের প্রবেশাধিকার সম্পূর্ণরূপে কাটা যাবে না। তবে কোনো দেশ বা আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইরান সরকারকে নতুন অর্থ সহায়তা, ঋণ বা অগ্রাধিকারমূলক সুযোগ দিতে পারবে না।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘স্ন্যাপব্যাক সক্রিয় হলে, এটি হবে ইউরোপ-ইরান সম্পর্কের ইতিহাসে সবচেয়ে অন্ধকার অধ্যায়—এমন একটি ক্ষতি যা হয়তো কখনোই পূরণ হবে না।’ তিনি আরো বলেন, ‘এটি ইউরোপের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকাকে শেষ করে দেবে এবং ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সংকটে তাদের প্রভাবের পরিসমাপ্তি ঘটবে।’

ইউরোপীয় দেশগুলোর উদ্দেশে আরাঘচি বলেন, ইউরোপের বড় ভুল ধারণা হলো তারা মনে করে স্ন্যাপব্যাক তাদের হাতে এমন একটি হাতিয়ার, যা দিয়ে তারা ইরান ইস্যুতে নিয়ন্ত্রণ আনতে পারবে। এই ধারণা পুরোপুরি ভুল। যদি তারা এই পথে এগোয়, তাহলে ইরানের পারমাণবিক সংকট আরো জটিল ও দুর্বিষহ হয়ে উঠবে।