ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে রাজি
হয়েছে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস। ফিলিস্তিনি সংবাদমাধ্যম আল-কুদসের বরাত দিয়ে
এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো। যেকোনো সময় হামাসের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতির
ঘোষণা আসতে পারে বলে জানা গেছে। আল জাজিরা ও রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, ইতিবাচক মনোভাব
নিয়েই কায়রোতে আলোচনায় যোগ দিয়েছেন হামাস প্রতিনিধিরা। তারা সিআইএর পরিচালক উইলিয়াম
বার্নসসহ মিসর ও কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নিয়েছেন।
হামাসকে উদ্ধৃত করে কাতারের সরকারি
গণমাধ্যম আল শারক জানিয়েছে, মিসর ও কাতারের মধ্যস্থতাকারীর সঙ্গে সাম্প্রতিক যোগাযোগের
আলোকে আলোচনা শেষ করতে হামাস প্রতিনিধি দল শনিবার কায়রোতে গিয়েছে। একই সঙ্গে হামাস
জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির পর তাদের প্রথম লক্ষ্য জাতীয় ঐকমত্য অর্জন ও গাজার পুনর্গঠন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আল-কুদসকে
হামাসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনাদের প্রত্যাহার করা ছাড়াই
যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপে রাজি হয়েছেন তারা। এই কর্মকর্তা আরো জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির
প্রথম ধাপে শুধু নারী, বৃদ্ধ, শিশু ও অসুস্থদের ছাড়া হবে। তাদের ছাড়ার পরও বেশ কয়েকজন
ইসরায়েলি সেনা তাদের কাছে থেকে যাবে। এই বিষয়টি কাজে লাগিয়ে যুদ্ধবিরতির পরবর্তী ধাপে
সুবিধা আদায় করে নেবেন তারা।
অন্যদিকে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল-১২
জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র হামাসকে নিশ্চয়তা দিয়েছে জিম্মি ও যুদ্ধবিরতির তৃতীয় ধাপ শেষে
গাজা থেকে সব ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার করা হবে।
ইসরায়েলি গণমাধ্যম মারিভ জানিয়েছে,
যুক্তরাষ্ট্র যে নিশ্চয়তা দিয়েছে তাতে সন্তুষ্ট হামাস। ইসরায়েলি বাহিনী রাফাতে প্রবেশ
করবে না ওই নিশ্চয়তার মধ্যে এ বিষয়টিও রয়েছে।
এরই মধ্যে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন জনাকীর্ণ গাজার রাফা শহরে
বড় ধরনের হামলার বিরুদ্ধে শুক্রবার (২ মে) ইসরায়েলকে পুনরায় সতর্ক করেছেন। অ্যারিজোনায় ম্যাককেইন
ইনস্টিটিউটের সেডোনা ফোরামে ব্লিংকেন বলেন, ‘সুরক্ষার পরিকল্পনা ছাড়া আমরা রাফাতে
একটি বড় ধরনের সামরিক অভিযানকে সমর্থন করতে পারি না, কারণ এটি যে ক্ষতি করবে তা গ্রহণযোগ্যতার
বাইরে।’
এর আগে জিম্মি চুক্তিতে রাজি হতে হামাসকে
সাতদিনের সময় দিয়েছিল ইসরায়েল। ওই সময়ের মধ্যে চুক্তি না করলে গাজার রাফাতে হামলা
শুরু করা হবে বলে হুমকি দিয়েছে তারা।
বর্তমানে যে জিম্মি ও যুদ্ধবিরতির চুক্তি
নিয়ে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে কথাবার্তা হচ্ছে সেটিকে তিনটি ধাপে ভাগ করা হয়েছে।
চুক্তিতে বলা আছে—প্রথম ধাপে যুদ্ধবিরতির
মেয়াদ হবে ৪০ দিন। এ সময়ে হামাস ৩৩ ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দেবে এবং ইসরায়েল কয়েক
হাজার ফিলিস্তিনি বন্দিকে ছেড়ে দেবে।
দ্বিতীয় ধাপের মেয়াদ হবে ৪২ দিন। এই
ধাপে বাকি জীবিত জিম্মিকে মুক্তি দেবে হামাস। একই সঙ্গে দ্বিতীয় ধাপে গাজায় স্থিতিশীলতা
ফিরিয়ে আনা হবে।
তৃতীয় ধাপেরও মেয়াদ হবে ৪২ দিন। এই
সময়টায় হামাস মৃত জিম্মিদের মরদেহ ইসরায়েলের কাছে বুঝিয়ে দেবে।
সংবাদমাধ্যম আল-কুদস জানিয়েছে, হামাসের
কর্মকর্তারা আশা করছেন, এই সপ্তাহের মধ্যেই দুই পক্ষ চুক্তিতে স্বাক্ষর করবে।
প্রসঙ্গত, গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর গাজায় টানা আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। এখন পর্যন্ত ইসরায়েলের হামলায় ৩৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। যাদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু। গত নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র, মিসর ও কাতারের মধ্যস্থতায় সপ্তাহব্যাপী যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছায় গাজা। এরপর দ্বিতীয় দফায় যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টা শুরু করে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো। কিন্তু এখনো সেটি সম্ভব হয়নি। সে কারণেই এবারের আলোচনাকে ‘ডু অর ডাই’ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।










