রাফাহ অভিযানকে ঘিরে কূটনৈতিকভাবে চতুর্মুখী চাপে রয়েছে ইসরায়েল। হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্মত না হয়ে রাফাহে অভিযানে অটল থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের মতো ঘনিষ্ঠ মিত্রদের কাছ থেকে চাপের মুখে পড়েছে তারা। ইসরায়েলকে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধের হুঁশিয়ারির পর দেশটি গাজায় মার্কিন অস্ত্র ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে থাকতে পারে বলে অভিযোগ তুলেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যেই ফিলিস্তিনকে সংস্থাটির পূর্ণাঙ্গ সদস্য করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ।
সব মিলিয়ে চতুর্মুখী চাপে রয়েছে ইসরায়েল। তারপরও বেনয়ামিন নেতানিয়াহু সরকার রাফাহ শহরে অভিযানে এখনো অটল। এরই মধ্যে সেখানকার বেসামরিক নাগরিকদের রাফাহ ত্যাগের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
গাজায় সামরিক অভিযানকে ঘিরে মতপার্থক্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন গত সপ্তাহ থেকেই ইসরায়েলে বোমা সরবরাহ বন্ধ রেখেছে। জো বাইডেন সিএনএনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট বলেছেন, ‘রাফাহে ইসরায়েল বড় ধরনের স্থল অভিযান চালালে যুক্তরাষ্ট্র দেশটিকে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করে দেবে।’ এর দুদিন পর যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহকৃত অস্ত্র ব্যবহারে ইসরায়েল কর্তৃক সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হয়ে থাকতে পারে বলে অভিযোগ করেছে মার্কিন প্রশাসন। গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরুর পর এটিই মার্কিন প্রশাসনের কঠোর সমালোচনা।
যুক্তরাষ্ট্র বলছে, গাজায় সামরিক অভিযানে মার্কিন অস্ত্র ব্যবহারে ইসরায়েল হয়তো আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘন করেছে। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কংগ্রেসের কাছে ৪৬ পৃষ্ঠার পর্যালোচনায় এ সম্ভাব্য অভিযোগের কথা বলা হয়েছে।
বাইডেন প্রশাসন কোনো সিদ্ধান্তমূলক উপসংহারে পৌঁছেনি। তবে এ পর্যালোচনায় ইসরায়েলের সঙ্গে বাইডেন প্রশাসনের তিক্ততার সম্পর্ক আরো বাড়তে পারে।
অন্যদিকে গাজায় যুদ্ধবিরতির আলোচনায় ইসরায়েল ও হামাস যাতে সক্রিয় থাকে সে চেষ্টা এখনো চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। ভার্চুয়ালি হলেও আলোচনা যাতে অব্যাহত থাকে সেজন্য জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে দেশটি।
হোয়াইট হাউজের জাতীয় নিরাপত্তা মুখপাত্র জন কিরবি বলেছেন, ‘এমনকি ভার্চুয়ালি হলেও দুই পক্ষকে আলোচনায় সক্রিয় রাখতে আমরা কঠোর পরিশ্রম করছি।’
নানা চাপের পরও ইসরায়েল গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর রাফাহে সামরিক অভিযান চালিয়ে যেতে অনড় রয়েছে। গতকাল পর্যন্ত শহরটির অর্ধেকের বেশি ঘিরে ফেলেছে ইসরায়েলি সেনারা। হামাস যোদ্ধাদের সঙ্গে সেখানে তুমুল লড়াই চলছে। স্থানীয়দের রাফাহ ছাড়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে শহর ছেড়েছে এক লাখেরও বেশি বাসিন্দা।
এদিকে শুক্রবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হয়। ফিলিস্তিনকে পূর্ণাঙ্গ সদস্য করার বিষয়টি নিরাপত্তা পরিষদে পুনরায় বিবেচনার আহ্বানের প্রস্তাবটির পক্ষে পড়েছে ১৪৩ ভোট, বিপক্ষে নয়টি এবং ২৫টি দেশ ভোটদানে বিরত ছিল। প্রস্তাবটি পাসের ফলে ফিলিস্তিন জাতিসংঘের পূর্ণ সদস্য হয়নি। কিন্তু এতে দেশটি সদস্য হতে যোগ্য বলে স্বীকৃতি পেয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ৭ অক্টোবর থেকে হামাসের হামলায় ১ হাজার ২০০ ইসরায়েলি নিহত হয়। এর পর থেকে টানা সাত মাস ধরে গাজায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। এসব হামলায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৫ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন শহরের অ্যাপার্টমেন্ট, হাসপাতাল, মসজিদ ও স্কুলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। জাতিসংঘ বলছে, উত্তর গাজা ‘দুর্ভিক্ষের’ মধ্যে রয়েছে। খবর রয়টার্স ও আল জাজিরা।










