২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ফ্রাঙ্কফুর্ট থেকে স্পেনের সেভিয়াগামী একটি লুফথানসা ফ্লাইট প্রায় ১০ মিনিট ধরে কোনো পাইলট ছাড়াই আকাশে উড়ে বেড়িয়েছিল। কো-পাইলট ককপিটে একা থাকা অবস্থায় হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়েন। ঘটনাটি প্রকাশ্যে এসেছে স্পেনের দুর্ঘটনা তদন্ত সংস্থা সিআইএআইএসি-এর একটি প্রতিবেদনে। সেই প্রতিবেদনের বরাতে জার্মান সংবাদ সংস্থা ডিপিএ শনিবার এ তথ্য জানায়।
ঘটনাটি ঘটে গত বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি, জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট থেকে স্পেনের সেভিয়াগামী এয়ারবাস এ৩২১ উড়োজাহাজে। বিমানটিতে তখন ১৯৯ জন যাত্রী এবং ৬ জন ক্রু সদস্য ছিলেন। মূল পাইলট বা ক্যাপ্টেন টয়লেটে গেলে তখন কো-পাইলট একাই ককপিটে ছিলেন। ঠিক সেই সময় হঠাৎ সহ-পাইলট অসুস্থ হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন।
অটোপাইলট মোড সক্রিয় ছিল বলে সহ-পাইলট অজ্ঞান হওয়ার পরও বিমানটি স্থিতিশীলভাবে উড়ে যেতে থাকে। ভয়েস রেকর্ডারের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় ককপিট থেকে ‘অস্বাভাবিক শব্দ’ রেকর্ড হয়, যা কো-পাইলটের স্বাস্থ্যের অবনতির ইঙ্গিত দিচ্ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, অচেতন কো-পাইলট সম্ভবত অজান্তেই কিছু বোতাম চেপে ফেলেছিলেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্যাপ্টেন প্রথমে নিয়মিত দরজা খোলার কোড ব্যবহার করে পাঁচবার ককপিটে প্রবেশের চেষ্টা করেন। সাধারণত, এই কোড প্রবেশ করালে ককপিটে থাকা অন্য পাইলট অনুমোদন দিলে দরজা খুলে যায়। কিন্তু কো-পাইলট অচেতন থাকায় কোনো সাড়া মিলছিল না। একপর্যায়ে এক স্টুয়ার্ডেস অনবোর্ড ফোন ব্যবহার করে কো-পাইলটের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন।
অবশেষে ক্যাপ্টেন জরুরি কোড ব্যবহার করেন, যা দিয়ে নির্দিষ্ট সময় পর দরজা নিজে থেকেই খুলে যাওয়ার কথা। কিন্তু ঠিক দরজা খুলে যাওয়ার আগ মুহূর্তে কো-পাইলট নিজেই দরজা খুলে দেন। তিনি তখনো অসুস্থ ছিলেন।
পরিস্থিতি বুঝে ক্যাপ্টেন সিদ্ধান্ত নেন স্পেনের মাদ্রিদে জরুরি অবতরণ করার। সেখানে পৌঁছে অসুস্থ কো-পাইলটকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
লুফথানসা ডিপিএকে জানিয়েছে, তারা স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষের প্রতিবেদন সম্পর্কে অবগত এবং তাদের নিজস্ব ফ্লাইট সেফটি বিভাগ থেকেও আলাদা তদন্ত পরিচালনা করা হয়েছে। তবে ওই তদন্তের ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি।










