গাজার দক্ষিণে অবস্থিত শহর রাফায় হামলা
জোরদার করেছে ইসরায়েল। গতকাল বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারি) তেল আবিবের বোমা হামলায় প্রাণ
হারিয়েছেন একই পরিবারের ১২ জনের বেশি সদস্য। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহতের সঠিক সংখ্যা জানা যায়নি।
উপত্যকাটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত চার মাসের বেশি সময়ে ইসরায়েলি বাহিনীর
হামলায় নিহত হয়েছেন ২৯ হাজার ৩১৩ জন। খবর রয়টার্স।
গণমাধ্যমটি জানিয়েছে এমন সময় রাফায়
হামলা চালানো হলো, যখন উপত্যকাটিতে যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে মধ্যস্থতাকারীরা।
যুদ্ধবিরতির এ আলোচনায় মধ্যস্থতা করছে যুক্তরাষ্ট্র, মিসর এবং কাতার।
অন্যদিকে ইসরায়েলি বাহিনী (আইডিএফ)
রাফার উত্তরাঞ্চলের খান ইউনিসে তাদের হামলার কথা স্বীকার করেছে। তবে তারা গতকালের ওই
হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে জাননো হয়েছে,
মিসর সীমান্তে অবস্থিত রাফায় অন্তত ১৫ লাখ গাজাবাসী আশ্রয় নিয়েছে। এসব শরণার্থীদের
বেশির ভাগই নিজেদের রক্ষা করতে রাফার উত্তরের শহর খান ইউনিসে অবস্থান করছে।
পর্যাপ্ত পরিমাণে ত্রাণ সহায়তা না থাকায়
তীব্র মানবিক সংকটে পড়েছে এসব অঞ্চলের মানুষ। গত দুই সপ্তাহ যাবৎ ইসরায়েলি বাধায় সেখানে
মিসর থেকে আসা ত্রাণবাহী ট্রাক ঢুকতে না পারায় এই সংকট আরো চরমে পৌঁছেছে। জাতিসংঘের
ত্রাণ সহায়তাকারী বিভিন্ন কর্মীর বরাতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন
মহলের নিন্দা উপেক্ষা করে রাফায় স্থল অভিযান পরিচালনা করার ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল। রমজানের
আগে সকল ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তি নিশ্চিত না হলে রাফায় রমজানে পূর্ণাঙ্গ হামলার হুঁশিয়ারি
দিয়েছে দেশটি।
গাজার দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ বিভিন্ন
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তেল আবিবের বিমান হামলার কথা জানিয়েছেন। এছাড়া অঞ্চলটির সমুদ্র
তীরবর্তী এলাকাতেও গুলি চালিয়েছে ইসরায়েলি নৌবাহিনী।
উল্লেখ্য, হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য
মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে গত বছরের ৭ অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেণ
২৯ হাজার ৩১৩ জন। এছাড়া আহতের সংখ্যা পৌঁছেছে ৬৯ হাজার ৩৩৩ জনে। অন্যদিকে ইসরায়েলের
দাবি হামাসের হামলায় তাদের ১ হাজার ২০০ জন নিহত হয়েছেন।










