দক্ষিণ-পূর্ব আফ্রিকার দেশ মালাউইতে আগামীকাল সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে নির্বাচনের একদিন আগে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে খাদ্য ও জ্বালানি সংকট। দীর্ঘ লাইন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা আর জ্বালানি না পাওয়ার হতাশা ছাপিয়ে যাচ্ছে ভোটের উত্তেজনা।

দেশটিতে কয়েক মাস ধরেই তীব্র জ্বালানি ঘাটতি চলছে। পেট্রল সংকটের পাশাপাশি রয়েছে নিয়মিত বিদ্যুৎ বিভ্রাট। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, খাদ্য সংকট, দারিদ্র্য, বৈষম্য ও যুব বেকারত্ব। সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর হতাশা তৈরি হয়েছে।

এ অবস্থায় প্রেসিডেন্ট, সংসদ ও স্থানীয় কাউন্সিলের প্রার্থীরা ভোট চাইছেন। কিন্তু ভোটারদের মনে প্রশ্ন, নতুন সরকার গঠন হলেও আসলেই কি পরিবর্তন আসবে? ফলে এবারের নির্বাচনী প্রচারণায় অন্যবারের তুলনায় অনেকটাই ম্লান অবস্থা বিরাজ করছে। ব্যয় সংকটে প্রার্থীরা প্রচারণায় আগের মতো জাঁকজমক দেখাতে পারেননি। সাধারণত বিনামূল্যে টি-শার্ট বিতরণ বা বড় আকারের পোস্টার-ব্যানার লাগানো হয়। এবার তা অনেকটাই সীমিত পরিসরে দেখা যাচ্ছে। বড় সড়কেও কমেছে বিলবোর্ডের উপস্থিতি।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বর্তমান প্রেসিডেন্ট লাজারাস চাকওয়েরা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট পিটার মুথারিকার মধ্যে। ২০২০ সালে চাকওয়েরা মুথারিকাকে পরাজিত করেছিলেন। এবারো সেই দুই প্রবীণ নেতার মুখোমুখি লড়াই হতে যাচ্ছে। তবে তাদের সঙ্গে রয়েছেন আরো ১৫ প্রার্থী, যাদের মধ্যে আছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট জয়েস বান্দা ও বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইকেল উসি।

ভোটারদের প্রায় অর্ধেকই তরুণ, তাদের বয়স ৩৫ বছরের নিচে। কিন্তু তারাই সবচেয়ে বেশি হতাশা প্রকাশ করেছেন। তারা বলেছেন, চাকরির সুযোগ কম, আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের মিল নেই। অনেক তরুণ এখন পেট্রল-ডিজেল ছোট কন্টেইনারে কিনে কয়েক গুণ বেশি দামে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। এ পরিস্থিতিতে অনেকেই মনে করছেন, নির্বাচনে তরুণদের ভোটই বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে।

গ্রামীণ এলাকায়ও ক্ষোভ তীব্রতর হয়েছে। দেশটির প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ জীবিকার জন্য কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু চাষাবাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সার ও অন্যান্য কৃষি উপকরণের দাম কয়েক বছরে বহুগুণ বেড়েছে। ২০১৯ সালের তুলনায় সারের মূল্য এখন ছয় গুণ বেশি। চাকওয়েরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন দাম কমানোর, কিন্তু বাস্তবে উল্টো বেড়ে গেছে। এর জন্য তিনি বিরোধী দল ও কিছু ব্যবসায়ীকে দায়ী করেছেন। অন্যদিকে মুথারিকার সমর্থকরা বলছেন, তার আমলেই জীবন ছিল তুলনামূলক ভালো।

চাকওয়েরার শাসনের পাঁচ বছর নানা সমস্যায় কেটেছে। তবু তিনি আশাবাদী। নতুন করে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দুর্নীতি দমন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শিশুদের ভবিষ্যতের জন্য রাষ্ট্রীয় সহায়তা তহবিল গঠনের। অন্যদিকে সাবেক প্রেসিডেন্ট জয়েস বান্দা আবারো ক্ষমতায় এলে দুর্নীতি দমন ও অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্ব দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে নানা প্রার্থী থাকলেও মূল ইস্যু ঘুরপাক খাচ্ছে দুটি বিষয়কে ঘিরে—জ্বালানি সংকট ও খাদ্যের দাম। মালাউইবাসীর আশা, যিনিই জিতুন না কেন, অন্তত দৈনন্দিন জীবনের মৌলিক সমস্যাগুলো যেন দ্রুত সমাধান করা হয়।